চাটমোহরে রাসায়নিক দিয়ে পাকানো আমে বাজার সয়লাব


চাটমোহর প্রতিনিধি
পাবনার চাটমোহরে রাসায়নিক দিয়ে পাকানো আমে বাজার সয়লাব হয়ে গেছে। রাসায়নিক প্রয়োগের আতঙ্কে অনেকেই আম কিনতে এখন শঙ্কিত।
জ্যৈষ্ঠ মাস পেরিয়ে যাচ্ছে। সাধারণ এ সময় আম পাকে। তবে গাছ পাকা আম বাজারে পাওয়া দুস্কর। বর্তমান বাজারে যে আম পাওয়া যাচ্ছে তা হলো পাবনা, নাটোর ও রাজশাহীর বিভিন্ন এলাকার আম। ফল ব্যবসায়ী আমের চালান কেনে। তারপর গাছ হতে আম পেরে মাটিতে নেড়ে ওষুধ স্প্রে করে। এরপর এই কাঁচা আম, কাঁচা অবস্থায় ঝাঁপিতে সাজানোর পর বাজারে আসতে আসতে মাত্র ৬ ঘণ্টায় সম্পূর্ণ পক্ক বা পেকে লাল হয়ে যায়। আর ব্যবসায়ীরা দোকানে সাজালে গাছ পাঁকা আমের মতোই রং হয়ে ওঠে।
চাটমোহর পুরাতন বাজারে আম কিনতে আসা ক্রেতা আহমেদ সাদি জানান, বাজারে প্রচুর আম উঠেছে। কিন্তু কিনতে ভয় লাগছে। বোঝার উপর নেই কোনটা ফরমালিন দিয়ে পাকানো আর কোনটা ফরমালিন ছাড়া আম। যদিও আম কিনি তবে বাড়িতে গিয়ে আগে আধা ঘণ্টা পানিতে ভিজিয়ে রাখি।
জেলার চাটমোহর,ভাঙ্গুড়া,আটঘরিয়া উপজেলার বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে,বাজারে প্রচুর আম উঠছে। নানা নামের আম বিক্রিও হচ্ছে চড়াদামে। তবে বোঝার উপায় নেই প্রকৃতিগতভাবে কোন আম পেকেছে। ফলে ক্রেতারা দেখেশুনে পরিচিতজনদের কাছ থেকে আম কেনার চেষ্টা করছেন। অনেকে আবার প্রতিবেশী বা বাগান মালিকদের কাছ থেকেও আম কিনতে ঝুঁকেছেন।
বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট বিভিন্ন জাতের আম সংগ্রহের সময়সীমা নির্ধারণ করেছে। সে অনুযায়ী সকল প্রকার গুটি আম ১৫ মে, গোপালভোগ ২০ মে, লক্ষনভোগ ও লক্ষনা ও রানীপছন্দ ২৫ মে, হিমসাগর ও ক্ষিরসাপাত ২৮ মে, ল্যাংড়া ৬ জুন, আ¤্রপালি ১৫ জুন, ফজলী ১৫ জুন, আশ্বিনা ১০ জুলাই, বারী আম-(৪) ১০ জুলাই সংগ্রহ করার কথা। কিন্তু বাজারে সে সকল আম পাওয়া যাচ্ছে তা এখনো সংগ্রহের সময়ের আগেই বাজারে এসেছে। আম চাষি বা ব্যবসায়ী অতিরিক্ত মুনাফা লাভের আশায় আমে ক্যালসিয়াম কার্বাইড, ইথি প¬াস, ইথোফেন, ইথোলিন রাসায়নিক পদার্থ স্প্রেসহ ধোয়া ব্যবহার করে আম পাঁকিয়ে বাজার জাত করছে যা মানবদেহের জন্য ক্ষতির কারণ।
চাটমোহর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিসক মতিউর রহমান বললেন,বাজারে আসা আমে রাসায়নিক পদার্থ ব্যবহার করে আম পাকানো হয়। যা শরীরের জন্য অত্যন্ত ক্ষতির কারণ। পাকা আমে যথেষ্ট পরিমানে ক্যারেটিন বা ভিটামিন এ এবং খনিজ পদার্থ থাকে। যে কারণে আমের স্থান পৃথিবীর যে কোন ফলের উপরে। তবে বর্তমানে আম পাঁকার আগে চাষিরা অধিক মুনাফা লাভের আশায় আমে রাসায়নিক পদার্থ প্রয়োগ করছে। যে কারণে অনেকেই আম কিনতে আতঙ্কবোধ করছে।
চাটমোহর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো.সৈকত ইসলাম বললেন,রাসায়নিক পদার্থ দিয়ে আম পাকানো হলে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *