কাজীরহাট-আরিচা নৌপথে ফেরি কমেছে, বেড়েছে দুর্ভোগ

ডেইলি ভিশন টুয়েন্টিফোর অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ৭:১৬ অপরাহ্ণ, মে ২১, ২০২১

পাবনার বেড়া উপজেলার কাজীরহাট ফেরিঘাটে ঈদের পর থেকেই ঢাকামুখী যাত্রীদের ভিড় অব্যাহত আছে। তবে শুক্রবার যাত্রীদের চাপ ছিল তুলনামূলক বেশি। লঞ্চ, স্পিডবোট ও ইঞ্জিনচালিত নৌকা বন্ধ থাকায় যাত্রীরা গাদাগাদি করে ফেরিতে পার হচ্ছেন।
কাজীরহাট–আরিচা নৌপথে চারটি ফেরি চলাচল করলেও গত মঙ্গলবার থেকে একটি ফেরি চলাচল বন্ধ রয়েছে। এতে যাত্রীদের দুর্ভোগ আরও বেড়েছে। ঘাটে ফেরির জন্য প্রচণ্ড গরমের মধ্যে যাত্রীদের দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হচ্ছে। ব্যাপক ভিড় হওয়ায় ফেরিতে ন্যূনতম স্বাস্থ্যবিধিও মানা হচ্ছে না। দূরপাল্লার গণপরিবহন চলাচল বন্ধ থাকায় যাত্রীদের ভেঙে ভেঙে বিভিন্ন যানবাহনে ফেরিঘাট পর্যন্ত আসতে এমনিতেই অতিরিক্ত ভাড়া দিতে হচ্ছে। এর ওপর ফেরিতে উঠতে গিয়েও তাঁদের সরকার–নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে অতিরিক্ত ভাড়া দিতে হচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
সরেজমিনে কাজীরহাট ফেরিঘাটে ঘুরে জানা যায়, সকাল ছয়টার পর থেকেই যাত্রীরা ঢাকায় যাওয়ার উদ্দেশে ঘাটে এসে ভিড় জমাতে থাকেন। কিন্তু ফেরির স্বল্পতার কারণে যাত্রীদের দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয়। এভাবে দুই থেকে আড়াই ঘণ্টা পর্যন্ত অব্যাহতভাবে যাত্রীরা ভিড় করতে থাকায় একপর্যায়ে যাত্রীদের সংখ্যা দুই-তিন হাজারে গিয়ে পৌঁছে। আরিচা থেকে আসা ফেরি ঘাটে ভেড়ামাত্রই যাত্রীরা হুমড়ি খেয়ে ওঠার চেষ্টা করেন। এতে প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটছে এবং অনেকে গরমে অসুস্থ হয়েও পড়ছেন।
যাত্রীরা অভিযোগ করেন, কাশিনাথপুর থেকে কাজীরহাট ফেরিঘাট পর্যন্ত সিএনজিচালিত অটোরিকশার ভাড়া ৩০ টাকা করে হলেও এখন তা ৫০ থেকে ৬০ টাকা করে আদায় করা হচ্ছে। কাজীরহাট থেকে আরিচা পর্যন্ত নদী পারাপারের টিকিটমূল্য ২৫ টাকা হলেও অধিকাংশ যাত্রীর কাছ থেকে ৩০ টাকা করে আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। ঈদকে কেন্দ্র করে এভাবে হাজার হাজার টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন ঘাট ইজারাদারের লোকজন।
ফরহাদ হোসেন নামের এক বেসরকারি চাকরিজীবী ঈদের ছুটি কাটিয়ে ঢাকা যাওয়ার জন্য নাটোর থেকে আজ সকালে কাজীরহাট ফেরিঘাটে পৌঁছান। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘নাটোর থেকে কখনো বাসে আবার কখনো সিএনজিচালিত অটোরিকশায় ভেঙে ভেঙে ঘাট পর্যন্ত এসেছি। প্রতিটি যানবাহনেই বেশি ভাড়া দিতে হয়েছে। ভেবেছিলাম সরকারি ফেরিতে আসল ভাড়ায় পার হওয়া যাবে। কিন্তু এখানেও ভাড়া বেশি নিল।’ প্রায় দেড় ঘণ্টা অপেক্ষার পর ৩০ টাকা দিয়ে টিকিট কেটে ফেরিতে ওপাবনার আতাইকুলা থেকে স্ত্রী-সন্তানদের সঙ্গে নিয়ে আসা রাশেদুল হক বলেন, ‘ফেরিতে ভাড়াও বেশি নিচ্ছে আবার ফেরির সংখ্যাও কমিয়ে দিয়েছে। ভাড়া বেশি নিয়ে অন্তত ফেরির সংখ্যা বাড়ালে আমরা কিছুটা স্বস্তিতে যাতায়াত করতে পারতাম।’
বিআইডব্লিউটিসি সূত্রে জানা গেছে, এই নৌপথে প্রতিদিন চারটি করে ফেরি যাওয়া-আসা করত। কিন্তু গত মঙ্গলবার (১৮ মে) থেকে এই চারটি ফেরির মধ্যে একটি ফেরি যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে মেরামতের জন্য কারখানায় পাঠানো হয়েছে। ফলে তিনটি ফেরি দিয়ে যাত্রী ও যানবাহন পারাপার বেশ কঠিন হয়ে পড়েছে।
বিআইডব্লিউটিসি ফেরি সার্ভিসের টিকিট বিক্রির দায়িত্বে থাকা ইজারাদারের প্রতিনিধি পল্লব হোসেন দাবি করেন ভাড়া এক টাকাও বেশি নেওয়া হচ্ছে না। ঘাটে ১২ জন টিকিট বিক্রেতা রয়েছেন এবং তাঁরা সরকার–নির্ধারিত ২৫ টাকা করেই আদায় করছেন।
নগরবাড়ী নৌপুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ পরিদর্শক জাহাঙ্গীর হোসেন খান বলেন, ‘বেশি ভাড়া নেওয়ার অভিযোগ আমাদের কাছেও এসেছে। অভিযোগ পেয়েই ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে বিষয়টি জানিয়েছি। আর নিরাপদে ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে যাত্রীরা যাতে ফেরি উঠতে ও নামতে পারে সে ব্যাপারে আমরা আন্তরিকভাবে কাজ করে যাচ্ছি।’বিআইডব্লিউটিসি আরিচা কার্যালয়ের উপমহাব্যবস্থাপক জিল্লুর রহমান বলেন, ‘মেরামতের জন্য পাঠানো ফেরিটি মেরামত না হয়ে এলে আপাতত ফেরি বাড়ানোর আর কোনো উপায় নেই। ভাড়া বেশি নেওয়ার ব্যাপারে বিচ্ছিন্ন কিছু অভিযোগ পেয়ে আমরা তাদের (ইজারাদার) নিষেধ করে দিয়েছি।