সাঁথিয়ায় সড়ক মেরামত কাজে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ প্রতিকার চেয়ে এলাকাবাসীর বিক্ষোভ মিছিল ও মানবন্ধন

ডেইলি ভিশন টুয়েন্টিফোর অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ৯:৪৩ অপরাহ্ণ, মে ২০, ২০২১

সাঁথিয়া প্রতিনিধিঃ
পাবনার সাঁথিয়ায় সড়ক মেরামত কাজে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেছে। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর(এলজিডি)প্রায় সাড়ে ৬কোটি টাকা ব্যয়ে এই সড়ক মেরামতরে কাজ করছে। এ বিষয়ে এলজিইডি’র প্রধান প্রকৌশলী ঢাকা বরাবর অভিযোগ দিয়েও কোন প্রতিকার পাচ্ছেন না এলাকাবাসী। কাজে অনিয়মের প্রতিবাদে ও সিডিউল মোতাবেক কাজ করার দাবী নিয়ে ওই সড়কে বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেছেন এলাকাবাসী।
অভিযোগে জানা যায়, বিশ্বব্যাংক ও বাংলাদেশ সরকারের অর্থায়নে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের সেকেন্ড রুরাল ট্রান্সপোর্ট ইমপ্রুভমেন্ট প্রজেক্ট (আরটি আইপি) প্রকল্প-২ এর অধীনে প্রায় ৬কোটি ২৬লক্ষ ৩৭হাজার টাকা ব্যয়ে সাঁথিয়ার নন্দনপুর ইউনিয়নের জোড়গাছা আরএন্ডএইচ সেলন্দা জিসি ভায়া ধোপাদহ ইউনিয়নের হাপানিয়া, গোপালপুর সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা নিজাম উদ্দিন ও মনসুর আলমের বাড়ি হয়ে হলুদঘর ও খিদিরগ্রামে সাড়ে ৯ কিঃমিঃ সড়ক মেরামতের কাজ পায় ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান মেসার্স জিন্নাত আলী জিন্নাহ লিঃ। কাজের শুরুতেই ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান নানা অনিয়মের মধ্যে দিয়ে কাজ শুরু করেন। এলাকাবাসী প্রতিবাদ করলে তাদেরকে বিভিন্ন প্রকার ভয়ভীতি প্রদর্শন করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। তারা অভিযোগ করে বলেন, ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান রাতের আধারে ট্রাকে করে অত্যন্ত নি¤œমানের ইটের খোয়া ও বালি রাস্তায় ঢেলে তা রুলার দিয়ে মেরামত করছে। সেখানে যে পরিমাণ খোয়া ও বালির মিশ্রন থাকার কথা বাস্তবে তা থাকছে না। অন্যদিকে ২টি ব্রীজের পাখায় সিসি ব্লকের মান ও নিম্মমানের হওয়ায় সেটা আনার পরপরই ভেঙ্গে যেতে দেখা যাচ্ছে।
খোজঁ নিয়ে জানা গেছে, সড়ক নির্মাণ এলাকায় স্ট্যাকইয়ার্ড করে বালি খোয়ার মিশ্রণ করার কথা থাকলেও বাইরে থেকে নি¤œমানের খোয়া ও বালি মিশ্রন করে রাতের আধারে তা সড়কে ফেলে রোলার দিয়ে লেপে দিচ্ছে। অস্থায়ী ক্যাম্প, টয়লেট পুরুষ-মহিলা ও ধুলা প্রতিকারের জন্য ব্যয় ধরা থাকলেও সংশ্লিষ্ট এলাকায় কোনটাই করা হয়নি।
ফলে এসব অনিয়মের বিরুদ্ধে এলাকাবাসী ফুঁসে উঠেছে। এ নিয়ে ওই সড়কে এলাকাবাসী বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন করে। বিক্ষোভ মিছিল শেষে নাগডেমড়া গ্রামের সুপ্রিম কোর্টের এ্যাডভোকেট বীর মুক্তিয্দ্ধোা শামসুল হক নান্নু ক্ষোভ প্রকাশ করে সাংবাদিকদের বলেন, এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক বিবেচনায় সরকার একটা বড় বাজেট দিয়েছে এই সড়কের মেরামত কাজে। ব্যাপক অনিয়ম করা হচ্ছে সড়ক মেরামত কাজে। সড়কে ৩নম্বর খোয়া ও বালি দেয়া হয়েছে। অন্যান্য কাজের মানও খুব নি¤œমানের। কেউ প্রতিবাদ করলে তাকে জেলে যাওয়ার হুমকি দেয় ঠিকাদারের লোকজন।
ছাত্রলীগ নেতা শিশির বলেন, সড়কের দু’পাশের মাটি বাইরে থেকে আনার কথা থাকলেও তা না এনে সড়কের পাশ থেকে ভেকু দিয়ে মাটি কেটে সড়কে দেয়া হচ্ছে। শুধু খাল থেকেই মাটি তুলছে না। ভেকু দিয়ে কৃষকদের জমি নষ্ট করে মাটি কেটে সড়কে দেয়া হয়েছে। পরিত্যক্ত খোয়া নিয়ে এসে দেয়া হচ্ছে সড়কে। শিশির, অনিয়মের বিরুদ্ধে সিডিউল মোতাবেক কাজের দাবী করেন।
চক মধুপুর গ্রামের কলেজ শিক্ষক আলাউদ্দিন মাস্টার বলেন, রাস্তা সংস্কারের শুরু থেকেই ঠিকাদার গায়ের জোরে ইচ্ছামত নিম্ন মানের সামগ্রী দিয়ে কাজ করছে। শিডিউলে রাস্তার এইজিং ৫ ফুট ৬ ইঞ্চি করার কথা থাকলেও তা করছেন না, পুরুত্ব ৪ ইঞ্চির স্থলে ২-৩ ইঞ্চি দিচ্ছেন। ইট খোয়ার পরিবর্তে পোড়া মাটি দিয়ে রাতের আঁধারে পোড়ামাটি দিয়ে রোলার করে দিচ্ছেন। স্থানীয় সরকার বিভাগের দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তাদের বার বার বলেও কোন লাভ হয়নি।
মানববন্ধনে এলাকাবাসী আরও বলেন, সড়কের মেরামত কাজে অনিয়মে বাধা দিলে বিভিন্ন ধরণের ভয়ভীতি প্রদর্শন করা হয়। ঠিকাদার প্রভাবশালী হওয়ায় অনেকেই মুখ খুলতে সাহস পাচ্ছে না। এ নিয়ে ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী গত ৭এপ্রিল স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের প্রধান প্রকৌশলী ঢাকা বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ দেন। অভিযোগ দেয়ার পর একমাসের অধিক সময় পেরিয়ে গেলেও কোন প্রতিকার নেই। ঠিকাদার সেই আগের মত অনিয়ম করেই মেরামত কাজ অব্যাহত রেখেছে বলে তাদের দাবি।
সুত্র জানায়, প্রভাবশালী ঠিকাদার সিডিউল মত কাজ না করায় ওই কাজ দেখার দায়িত্বপ্রাপ্ত সাঁথিয়া প্রকৌশল অধিদপ্তরের একজন উপসহকারী প্রকৌশলী দায়িত্ব থেকে অব্যহতি চেয়ে উর্ধতন কর্তৃপক্ষ বরাবর আবেদন দিয়েছেন।
জানা গেছে, ২১ এপ্্িরল রাজশাহী বিভাগীয় অধিদপ্তর থেকে সহকারী প্রধান প্রকৌশলী আরআইটিপি ২ প্রকল্পের কাজ পরিদর্শন করেন।
নির্বাহী প্রকৌশলী পাবনা মকলেছুর রহমান জানান, অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে সিডিউল মোতাবেক কাজ করার জন্য ঠিকাদারকে বার বার তাগাদা দেয়া হচ্ছে। সাঁথিয়া উপজেলা প্রকৌশলী(অতি: দায়িত্ব) আবুল হাসেম বলেন, কাজে কিছু অনিয়ম দেখা যাওযায় সঠিকভাবে কাজ করার জন্য ঠিকাদারকে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের স্বত্তাধীকারী মোহাম্মদ জিন্নাত আলী জিন্নাহ অনিয়মের অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, সিডিউল মেনেই কাজ করা হচ্ছে। কর্মকর্তাদের ঘুষ না দেয়ায় ষড়যন্ত্র হচ্ছে। তিনি বলেন, আমার প্রতিষ্ঠানের সুনাম ক্ষুন্ন হয় এমন কাজ আমি কখনোই করি না। এটি বিশ্বব্যাঙ্কের অর্থায়নের কাজ অনিয়ম হলে তো আমি বিলই পাবো না। স্থানীয় সরকার বিভাগের এক উপসহকারী প্রকৌশলীকে চাঁদা না দেয়ায় উনি এলাকাবাসীকে দিয়ে ঝামেলা সৃষ্টি করছেন। ##