চাটমোহরে বিয়ের প্রলোভনে কিশোরীর দেহভোগ হাসপাতালে সন্তান জন্ম দিয়ে পালিয়ে যাওয়া কিশোরীর থানায় মামলা,লম্পট প্রেমিক আটক

ডেইলি ভিশন টুয়েন্টিফোর অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ৪:১৩ অপরাহ্ণ, মে ১৬, ২০২১

চাটমোহর প্রতিনিধি
পাবনার চাটমোহরে এক লম্পটের প্রেমের ফাঁদে পড়ে এক কিশোরী গর্ভবতী হয়ে পড়েন। পরে হাসপাতালে এক কন্যা সন্তানের জন্ম দিয়ে লোকলজ্জার ভয়ে শিশুটিকে হাসপাতালের টয়লেটে ফেলে রেখে পালিয়ে যায়। হাসপাতালের সিনিয়র নার্স হাসনা হেনা মহিলা ওয়ার্ডের টয়লেট থেকে শিশুর কান্নার আওয়াজ শুনে ঘটনাস্থলে গিয়ে নবজাতক কন্যাশিশু দেখতে পান। নবজাতক শিশুটিকে উদ্ধার করে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে গত মঙ্গলবার (১১ মে) পাবনার আটঘরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে।
এ ঘটনার পর পাবনার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ফিরোজ কবির ও আটঘরিয়া থানা পুলিশ হাসপাতালের সিসি ক্যামেরার ফুটেজ দেখে জানতে পারে শিশুটির মা পাবনার চাটমোহর উপজেলার মূলগ্রাম ইউনিয়নের শিবপুর গ্রামের মেয়ে ও স্থানীয় একটি স্কুলের ৯ম শ্রেণীর ছাত্রী। চাটমোহর থানা পুলিশের সহায়তায় নবজাতক কন্যা শিশুকে তার মায়ের কোলে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় থানায় মামলা হলে পুলিশ লম্পট প্রেমিকে গ্রেফতার করেছে।
চাটমোহর থানার অফিসার ইনচার্জ আমিনুল ইসলাম জানান,আটঘরিয়া হাসপাতাল থেকে উদ্ধারকৃত শিশুটির মা উপজেলার মুলগ্রাম ইউনিয়নের শিবপুর গ্রামের মেয়ে। এ ঘটনায় ওই কিশোরী মেয়ের বাবা হাবিবুর রহমান বাদী চাটমোহর থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন (সংশোধিত ২০০৩) ধারা ৯/১ মোতাবেক একটি মামলা দায়ের করেছেন। মামলা নং-৪ তারিখ-১২-৫-২০২১। পুলিশ অভিযান চালিয়ে মামলার একমাত্র আসামী স্বপন আলী (২৫)কে গ্রেফতার করে জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়েছে। স্বপন একই গ্রামের শুকুর আলীর ছেলে।
তিনি আরো জানান,চাটমোহর উপজেলার মুলগ্রাম ইউনিয়নের শিবপুর গ্রামের হাবিবুর রহমানের কিশোরি মেয়ে (১৪) এর সাথে একই গ্রামের শুকুর আলীর লম্পট থেকে স্বপন আলী মিথ্যা প্রলোভন দেখিয়ে প্রথমে প্রেমের সম্পর্ক এবং পরে একাধিকবার শারীরিক সম্পর্ক গড়ে উঠলে একপয়ায়ে কিশোরীর গর্ভে সন্তান চলে আসে। লম্পট স্বপন এক পর্যায়ে বিয়ে করতে অস্বীকৃতি জানায় এবং সম্পর্ক অস্বীকার করে। এক পর্যায়ে কিশোরীকে তার স্বজনরা আটঘরিয়া হাসপাতালে নিয়ে কিশোরীর সন্তান প্রসব করায়। হাসপাতালের স্টাফদের আড়ালে বাচ্চাটিকে হাসপাতালের টয়লেটে রেখে পালিয়ে যায়। পরে ঘটনার অনুসন্ধানে শিশুর মায়ের সন্ধান মেলে।