সাঁথিয়ায় অজ্ঞাত রোগে মরে যাচ্ছে ধান গাছ লোকসানের মুখে কৃষক

ডেইলি ভিশন টুয়েন্টিফোর অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ৭:৫২ অপরাহ্ণ, এপ্রিল ২৪, ২০২১

মানিক মিয়া রানা,সাঁথিয়া,(পাবনা)-ঃ
পাবনার সাঁথিয়া উপজেলার অজ্ঞাত রোগে শত শত বিঘা জমির বোরো ধান চিটায় পরিনত হওয়ায় হতাশ হয়েছেন কৃষক। এসব রোগ নির্ণয় ও তার প্রতিকার নিরুপণে স্থানীয় কৃষি অফিসের কোন কর্মকর্তার পরামর্শ না পাওয়ার অভিযোগ। এসব জমির ধান কেটে নিয়ে মাড়াই করে ধানের পরিবর্তে শুধু খড়ই পাচ্ছেন। ফলে এবছর বোরো ধান আবাদে লোকসানের মুখে পড়েছেন। কৃষকেরা জানান ধানের শীষ ভালভাবেই বেড়ে উঠে পরে তা অজানা রোগে মরে যাচ্ছে।
সরজমিন উপজেলার আর আতাইকুলা ইউনিয়নের বামনডাঙ্গা-টাঙ্গিপাড়া গ্রামের কানাইগাড়ী বিলে বোরো ধানের মাঠ ঘুরে দেখা গেছে ধানের শীষ বের হওয়ার পরে ধানের শীষগুলো মরে যাচ্ছে। সারা মাঠজুড়ে একই অবস্থা। এ সময় কথা হয় ওই মাঠের কৃষক শামসুর রহমানের সাথে। তিনি বলেন,প্রায় ৫ বিঘা জমিতে বোরো আবাদ করেছিলাম। কিন্তু কি এক অজানা রোগে সব ধান মরে যাচ্ছে। কৃষি অফিসের কোন লোক এ মাঠে আসে না বললেই চলে। কারও কোন পরামর্শ পাই না।
কৃষক আব্দুর রহিম জানান, সাড়ে ৪ বিঘা জমিতে এবার বোরো আবাদ করেছি। সব ধানের শীষ মরে যাচ্ছে। সারা স্কীমের প্রত্যেকটা জমিতেই একই অবস্থা । স্থানীয় বাজার থেকে কীটনাশক ছিটিয়ে দিয়েও কোন ফল পেলাম না। কিভাবে যে এ লোকসান পুরণ হবে তা আল্লাহ জানে। সাঁথিয়া কৃষি অফিসে যোগাযোগ করেও কোন প্রতিকার পাইনি। তিনি বলেন, কি রোগে ধান মরে যাচ্ছে তা স্থানীয় কৃষি অফিস বলতে পারেনি।
এ সব অভিযোগ অস্বীকার করে উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা সঞ্জিব কুমার গোস্বামী বলেন, মাঠে যাওয়া হয়না এটা ঠিক না। তাদেরকে পরামর্শ ও দেয়া হয়েছে। বলা হয়েছে সম্প্রতি ধানের শীষ বের হওয়ার পর শীষের রং সাদা চিটা হয়ে যাচ্ছে এ জন্য ধানের জমিতে শীষ বের হওয়ার পরও জমিতে ৩/৪ ইঞ্চি পরিমান পানি রাখতে হবে। যাতে করে তাপমাত্রাটা ঠিক রাখা যায়। প্রচন্ড তাপদাহের কারণে এ রোগটা দেখা দেয়। এর জন্য এমপিও সার ও থিওবিট কীটনাশক ১০ লিটার পানিতে মিশিয়ে স্প্রে করার কথা বলা হয়েছে। জনবল কম থাকার কারণে সুপারভাইজার সবসময় মাঠে তাদের নিকট যাওয়া সম্ভব হয়ে ওঠে না। তা ছাড়া আর-আতাইকুলা ইউনিয়নে মাত্র ১জন সুপারভাইজার দেখাশুনা করে। এর মধ্যে যতটুকু সম্ভব কৃষকের সমস্যা সমাধানে পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছেন।