সুজানগরে পানির জন্য হাহাকার

ডেইলি ভিশন টুয়েন্টিফোর অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ১০:৫৭ অপরাহ্ণ, এপ্রিল ২১, ২০২১

এম এ আলিম রিপন
সুজানগরে চলছে পানির জন্য হাহাকার। তীব্র দাবদাহে ভূ-গর্ভস্থ পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়ায় সুজানগর পৌরসভা সহ উপজেলার ১০টি ইউনিয়নের ৯০ভাগ অগভীর নলকূপ দিয়ে উঠছে না পানি । কোথাও কোথাও গভীর নলকূপেও পাওয়া যাচ্ছেনা প্রয়োজনীয় পানি। অবস্থা প্রকট হওয়ায় দেখা দিয়েছে তীব্র পানি সংকট। এতে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন এ এলাকার মানুষেরা। এ অবস্থায় অনেকে স্থানীয় মসজিদের অথবা এলাকার সে সকল বাড়িতে নলকূপ(সাবমার্সিবল পাম্প) রয়েছে সেখান থেকে দীর্ঘ লাইন ধরে পানি নিয়ে চাহিদা মেটানোর চেষ্টা করছেন। সুজানগর জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর ও স্থানীয়দের দেওয়া তথ্য মতে, পৌরসভা সহ উপজেলার ১০ টি ইউনিয়নে প্রায় ৭০ হাজার হস্তচালিত অগভীর নলকূপ রয়েছে। উপজেলায় সাধারণত পানির স্তর গড়ে ৪০ থেকে ৭০ ফুট গভীরে। বেশিরভাগ এলাকায় এ স্তর পৌঁছালেই পানি পাওয়ার কথা। কিন্তু উপজেলার বেশিরভাগ এলাকায় অস্বাভাবিকভাবে নীচে নেমে গেছে পানির স্তর। প্রতি বছর তীব্র তাদাবদাহে মার্চ থেকে মে মাস পর্যন্ত এ অবস্থা আরোও প্রকট আকার ধারণ করে। বেশিরভাগ এলাকায় অগভীর নলকূপে পানি উঠা পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে। এমনকি বর্তমানে ১০০ থেকে ১৩০ ফুট গভীরেও পানি পাওয়া যাচ্ছেনা বলে জানান ভুক্তভোগীরা। বিশেষ করে সুজানগর পৌর শহর ও প্রত্যন্ত গ্রাম অঞ্চলে পানি সংকট চরমে পৌঁছেছে। সুপেয় পানির সংকট দেখা দেওয়ায় দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে স্থানীদের। সুজানগরের কাঁচারীপাড়া এলাকার বাসিন্দা শ্রী শিল্পী রানী বলেন,টিউবওয়েলের হ্যান্ডেল চাপতে চাপতে ঘাম ঝড়ে যায় তবু পানি উঠেনা। প্রতিবেশীদের নলকূপ(সাবমার্সিবল পাম্প) থেকে লাইনে দাঁড়িয়ে থেকে খাবার পানি আনতে হয়। পানির অভাবে ঠিকমতো গোসল সহ অন্যান্য কাজ-কর্ম করতে না পারায় আমরা বেশ দুর্দশার মধ্য আছি বলেও জানান তিনি। সাগরকান্দি ইউনিয়নের চর খলিলপুর গ্রামের আফতাব উদ্দিন বলেন, টিউবওয়েল তো দূরের কথা,এখন বিদ্যুৎ চালিত পানির পাম্পেও পানি পাওয়া কষ্টকর। ভবানীপুর এলাকার বাসিন্দা আব্দুর রাজ্জাক বলেন,গরম শুরুর পর থেকেই হস্তচালিত নলকূপে আগের মতো পানি উঠছে না । রাতে অথবা ভোরে সামান্য পানি ওঠে। মাসুমা আক্তার নামক এক গৃহিণী বলেন, গত কয়েকদিন ধরে পাম্পের সাহায্যেও পানি উঠানো যাচ্ছেনা। পলক নামক এক ব্যক্তি বলেন, কাঠফাটা রোদে মাঠ,ঘাট,পথ,খাল,বিল ও প্রান্তর ফেটে চৌচির। বৃষ্টির অভাবে ফসলি ক্ষেতও ক্ষতির সম্মুখীন। সুজানগর উপজেলার মানিকহাট গ্রামের যুদ্ধাহত বীর মুক্তিযোদ্ধা মাজেদুর রহমান বলেন, গ্রামে বিশুদ্ধ পানির জন্য হাহাকার শুরু হয়েছে। এতে খরতাপে হাঁপিয়ে উঠেছে মানুষ ও প্রাণীকূল। এ অবস্থায় তিনি নিজ বাড়ির নলকূপ(সাবমার্সিবল পাম্প) এলাকার সকল মানুষের জন্য উন্মুক্ত করে দিয়েছেন। এবং প্রতিদিন শত শত মানুষ এখান থেকে পানি সংগ্রহ করে নিয়ে যাচ্ছেন। সুজানগর জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের উপ-সহকারী প্রকৌশলী মনিরুল ইসলাম জানান, বৃষ্টিপাত হলে পানির এ সংকট থেকে কিছুটা পরিত্রাণ পাওয়া যাবে।