কাঠুরিয়া ছেলের ডাক্তারি পড়ার স্বপ্ন অনিশ্চিত

ডেইলি ভিশন টুয়েন্টিফোর অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ২:২১ পূর্বাহ্ণ, এপ্রিল ১৫, ২০২১

রনি ইমরান
পাবনার সাঁথিয়ার মেধাবী আবু বকরের মেডিকেলে ভর্তির সামর্থ্য নেই। অর্থের অভাবে ডাক্তার হয়ে অসহায় রোগীদের সেবা করার স্বপ্নও এখন অনিশ্চিত। আবু বকরের বাড়ি সাথিয়া উপজেলার ধোপাদহ ইউনিয়নের গোপালপুর গ্রামে। হতদরিদ্র পিতা আবু সাইদের ছেলে আবু বকর। আবু সাইদ পেশায় একজন কাঠুরে । কাঠের খড়ি বিক্রি করে কোন মতে সে জীবিকা নির্বাহ করেন। সংসারে অভাব অনটন লেগেই থাকে তার পক্ষে সন্তানকে মেডিকেলে পড়ানোর সাধ্য নেই।
তার তিন ছেলে মধ্যে দ্বিতীয় ছেলে মেধাবী আবু বকর ২০২০-২০২১ শিক্ষাবর্ষে এমবিবিএস এ ভর্তির সুযোগ পেয়েছে। আবু বকরের পিতা কিছুদিন আগে কাজ করতে গিয়ে তার বামহাতে গুরত্বর
আঘাতপ্রাপ্ত হয়, বর্তমানে চিকিৎসকের পরামর্শ ক্রমে আগের মত আর দুহাতে দিয়ে কাজ করতে পারছেন না তার পিতা। তাদের কোনে জমিজমাও নেই। যা বিক্রয় করে সন্তানের পড়াশোনার খরচ চালাবেন। মাত্র তিন শতক জায়গার ওপর ১০ হাতের একটি ছাপড়া ঘরে পরিবারের পাঁচ সদস্যের বসবাস তাদের।
গোপালপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের (অব:)প্রধান শিক্ষক আঃ লতিফ মাস্টার বলেন, ছোটবেলা থেকে আবু বকর খুবই ভদ্র,বিনয়ী ও মেধাবী ছাত্র। পিএসসি(প্রাইমারি স্কুল সার্টিফিকেট) ও জেএসসিতে ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি পেয়েছে। এসএসসি ও এইচএসসিতে গোল্ডেন জিপিএ-৫ পেয়েছে।
এসম্পর্কে আবু বকর জানায়, আর্থিক দৈন্যতার কারণে প্রাইভেট পড়িয়ে তাকে লেখাপড়ার খরচ চালাতে হয়েছে। ছোটবেলা থেকেই মনের মধ্যে একটা স্বপ্ন লুকিয়ে ছিল ডাক্তার হবার। এসএসসিতে গোল্ডেন জিপিএ-৫ পাওয়ার পর স্বপ্নটা আরও বেগবান হয়। এইচএসসি ভর্তি পরীক্ষার ফরম পূরণের সময় ঢাকার কয়েকটি কলেজের চয়েজ দেই। এতে আদমজী ক্যান্টনমেন্ট কলেজে ভর্তির সুযোগ পাই। কলেজে আমি শ্রদ্ধেয় শিক্ষকদের কাছ থেকে অনেক উৎসাহ ও সহযোগিতা পেয়েছি।
আবু বকরের বাবা জানান, ছেলে ডাক্তারী পড়ার চান্স পাওয়ায় খুবই খুশী হয়েছেন। এদিকে ছেলের ডাক্তারী পড়ার খরচ চালনো তার পক্ষে সম্ভব নয় ভেবে বড়ই দুশ্চিন্তায় আছেন। তিনি বিভিন্ন সংগঠন, সংস্থা বা সহৃদয় বিত্তবানদের সহযোগিতা কামনা করেন।
আবু বকরের মা হাফেজা খাতুনের বিশ্বাস করেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নজরে এলেই তার সন্তানের লেখাপড়ার জন্য আর চিন্তা করতে হবে না।