চাটমোহরে অতি দরিদ্রদের কর্মসংস্থান কর্মসূচী বাস্তবায়নে চলছে ব্যাপক অনিয়ম

ডেইলি ভিশন টুয়েন্টিফোর অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ১:৫৬ অপরাহ্ণ, এপ্রিল ১৩, ২০২১

চাটমোহর প্রতিনিধি
পাবনার চাটমোহর উপজেলায় ২০২০-২০২১ অর্থবছরের অতি দরিদ্রদের জন্য কর্মসংস্থান কর্মসূচী (ইজিপিপি) শীর্ষক প্রকল্পে ২য় পর্যায়ের কাজে ব্যাপক অনিয়ম আর দূর্নীতি শুরু হয়েছে। অর্ধেকেরও কম শ্রমিক দিয়ে কাজ করে সরকারি অর্ধ লুটপাটের নীল নকশা তৈরি করা হয়েছে। ইউপি চেয়ারম্যানসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তারা এই অনিয়মের সাথে জড়িত। গতকাল সোমবার উপজেলার ডিবিগ্রাম ইউনিয়নের হোগলবাড়িয়া,বাঙ্গালা,হরিপুর ইউনিয়নের কাতুলী এবং মথুরাপুর ইউনিয়নের মথুরাপুর খ্রিস্টান মিশন এলাকায় বাস্তবায়নকৃত ৪টি প্রকল্প পরিদর্শনে এই অনিয়মের চিত্র মিলেছে।
ডিবিগ্রাম ইউনিয়নের হোগলবাড়িয়া রোস্তমের বাড়ি হতে মোফাজ্জলের বাড়ি অভিমুখে রাস্তা সংস্কার কাজে মোট বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে ৩ লাখ ১২ হাজার টাকা। এখানে প্রতিদিন ৩৯জন শ্রমিক কাজ করার কথা। কিন্তু কাজ করছে মাত্র ১২ জন নারী-পুরুষ। এখানকার শ্রমিক সরদার ইউসুফ আলী বললেন,গত শনিবার থেকেই ১২ জন করে কাজ করছি। আমি মসজিদের মুয়াজ্জিন,মিথ্যে বলতে পারবো না। প্রকল্প সভাপতি ৫নং ওয়ার্ড মেম্বার মোঃ আফসার আলী বললেন,কী হবে,অন্যের যা হবে,আমারও তাই হবে। গতবারও এভাবেই করেছি। কিছু হয়নি।
একই ইউনিয়নের বাঙ্গালা গ্রামে বাস্তবায়িত প্রকল্পে কাজ করছে মাত্র ৯জন। এখানে কাজ করার কথা ৩৯ জন। ৩০ জনের মজুরীই লোপাট করা হচ্ছে। এই প্রকল্পে বরাদ্দ ৩ লাখ ১২ হাজার টাকা। ইউপি সদস্য ও প্রকল্প সভাপতি মোতাহর হোসেন বললেন,যে ৪জন পুরুষ কাজ করছে ,তাদেরই তো ৯জন ধরতে হবে। ৫ শত টাকার নিচে কোন লেবার পাওয়া যায়। বেশী টাকা দিয়ে লেবার লাগিয়েছি। এই ৯ জনই ৩৯ জনের সমান। এভাবেই কাজ হয়। কিছু হয়না। পিআইও অীফসে টাকা দিলে সব ঠিক।
হরিপুর ইউনিয়নের কাতুলী গির্জা থেকে কুড়ালবিল অভিমুখে বাস্তবায়িত প্রকল্পে গত ৩ দিন ধরে কাজ করছে ২০ জন নারী-পুরুষ। এখানে কাজ করার কথা ৪৩ জনের। বরাদ্দের পরিমাণ ৩ লাখ ৪৪ হাজার টাকা। এখানকার লেবার সরদার পাচবাড়িয়া গ্রামের জিনাত আলীর ছেলে জহির উদ্দিন বললেন,গত ৩দিন ধরে ২০ জন করে কাজ করছি।
মথৃরাপুর ইউনিয়নের মথুরাপুর মিশন গেটের অদূরে এই প্রকল্পে রাস্তা সংস্কারে কাজ করছে ২৩ জন নাী-পুরুষ। যেখানে প্রতিদিন কাজ করার কথা ৩৬ জনের। বরাদ্দ ২ লাখ ৮৮ হাজার টাকা। লেবার সরদার আমির উদ্দিনকে না পেলেও শ্রমিক ইশারত আলী বললেন,২৪ জন করাজ করেছি গতবার। এবার একজন মারা গেছে। তাই ২৩জন কাজ করছি।
এভাবেই ৫৪টি প্রকল্পে অর্ধেকেরও কম শ্রমিক দিয়ে কাজ চলছে। সরকারের অর্ধকোটি টাকারও বেশী লুটপাট করা হবে এই প্রকল্পগুলো থেকে। যা প্রথম পর্যায়েও হয়েছে। এই অনিয়ম আর দূর্নীতির বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নেয়নি সংশ্লিষ্ট দপ্তর।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায় শনিবার (১০ এপ্রিল) থেকে এই প্রকল্পের কাজ শুরু হয়েছে। উপজেলার ১১টি ইউনিয়নে ৫৪টি প্রকল্পে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে ১ কোটি ৫৭ লাখ ৪৮ হাজার টাকা। এরমধ্যে বিলচলন ইউনিয়নের ৩টি প্রকল্পে প্রতিদিন ১০৭ জন,মথুরাপুর ইউনিয়নের ৩টি প্রকল্পে প্রতিদিন ১০৯জন,হরিপুর ইউনিয়নের ৫টি প্রকল্পে প্রতিদিন ২১৩জন,হান্ডিয়াল ইউনিয়নে ৫টি প্রকল্পে প্রতিদিন ২১৮জন,নিমাইচড়া ইউনিয়নের ৬টি প্রকল্পে প্রতিদিন ১৮২ জন,ছাইকোলা ইউনিয়নের ৬টি প্রকল্পে প্রতিদিন ১৮৬ জন,গুনাইগাছা ইউনিয়নের ৩টি প্রকল্পে প্রতিদিন ৮৩ জন,ডিবিগ্রাম ইউনিয়নে ৬টি প্রকল্পে প্রতিদিন ২৩৩ জন,মূলগ্রাম ইউনিয়নে ৫টি প্রকল্পে প্রতিদিন ২১৬জন,ফৈলজানা ইউনিয়নের ৬টি প্রকল্পে প্রতিদিন ২২৬জন ও পাশর্^ডাঙ্গা ইউনিয়নের ৬টি প্রকল্পে প্রতিদিন ১৮২জন শ্রমিক কাজ করার কথা রয়েছে। সেখানে দূর্নীতির ফুলকি উড়ছে। উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার দপ্তর এই প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। প্রকল্প ঘুরে দেখা গেছে কোন প্রকল্পেই অর্ধেক শ্রমিকও নেই। প্রথম পর্যায়ের মতো ২য় পর্যায়েও সরকারি অর্থ লুটপাটের আয়োজন করা হয়েছে। কিছু শ্রমিক দিয়ে কাজ করে পুরো শ্রমিকের টাকা উত্তোলন করে ভাগবাটোয়ারা করে নেওয়ার নকশা তৈরি করা হয়েছে।
এ ব্যাপারে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা এস এম শামীম এহসান বললেন,এই অনিয়ম কোনভাবেই মানা হবে। অফিসিয়ালি কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আমি ইঞ্জিনিয়ারকে বিষয়টি দেখার কথা বলছি।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো.সৈকত ইসলাম বললেন,এই অনিয়সের জবাব চেয়ে শোকজ করা হবে। অবশ্যই বিল দেওয়া হবে না।