সুজানগরের সেই মুন্নীর পাশে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় : হুইপ ইকবালুর পড়ালেখার দায়িত্ব

ডেইলি ভিশন টুয়েন্টিফোর অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ১২:২৩ অপরাহ্ণ, এপ্রিল ১১, ২০২১

নিজস্ব প্রতিনিধিঃ গণমাধ্যমে খবর প্রকাশের পর নিষ্ঠুর দারিদ্রকে জয় করে মেডিকেল কলেজে চান্স পাওয়া পাবনার সুজানগরের জান্নাতুম মৌমিতা মুন্নীর দু:খ ঘুঁচতে বসেছে। মানুষের ভালবাসায় সিক্ত মুন্নীর ভাগ্যাকাশে আধার কেটে আলোর দেখা মিলেছে। প্রধান মন্ত্রীর কার্যালয় তার মেডিকেল কলেজে ভর্তির ব্যবস্থা করেছেন। পাবনার জেলা প্রশাসক মুন্নীর বাবার ঋণ করে কেনা ভ্যানের টাকা পরিশোধের ব্যবস্থা করেছেন। এছাড়াও বিভিন্ন ব্যক্তি, সংগঠন এবং প্রতিষ্ঠান মুন্নীর পড়াশুর্না সব ব্যবস্থা নিতে এগিয়ে এসেছেন। গত মঙ্গলবার সর্বপ্রথম দৈনিক যুগান্তর এর অনলাইনে এবং বুধবার প্রিন্ট ইস্যুতে ‘মেডিকেলে চান্স পেয়েও ভর্তি নিয়ে দু:শ্চিন্তায় মুন্নী’ শিরোনামে একটি মানবিক স্টোরি ছাপা হলে তা প্রধান মন্ত্রীর কার্যালয়সহ বিভিন্ন ব্যক্তি, সংগঠন এবং প্রতিষ্ঠানের মর্ম স্পর্শ করে। এছাড়া বৃহস্পতিবার দৈনিক নতুন বিশ্ববার্তা সহ কয়েকটি পত্রিকায় এ সংক্রান্ত খবর প্রকাশিত হয়। প্রধান মন্ত্রীর কার্যালয়ের নির্দেশনা পেয়ে গত বৃহস্পতিবার পাবনার জেলা প্রশাসক কবীর মাহমুদ মুন্নী ও তার পরিবারকে তার দপ্তরে ডেকে পাঠান। সুজানগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো: রওশন আলী গাড়ির ব্যবস্থা করে পাবনায় জেলা প্রশাসকের দপ্তরে আসার সহায়তা করেন। দুপুর দেড়টায় জেলা প্রশাসক কবীর মাহমুদ এর কার্যালয়ে মুন্নীর বাবা ভ্যান চালক বাকি বিল্লাহ মেয়ে মুন্নীকে নিয়ে আসেন। সঙ্গে ছিলেন যুগান্তরের পাবনা প্রতিনিধি আখতারুজ্জামান আখতার, দৈনিক যুগান্তরের উপজেলা প্রতিনিধি ও সুজানগর প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক এম এ আলিম রিপন, মুন্নীর আত্বীয় জিয়া ও মমিন। এসময় জেলা প্রশাসক কবীর মাহমুদ মুন্নী ও তার বাবাকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানান। জেলা প্রশাসক প্রধান মন্ত্রীর কার্যালয়ে যোগাযোগ করে আনুষ্ঠানিকতার জন্য মুন্নীর কিছু প্রয়োজনীয় কাগজপত্র পাঠিয়ে দেন। এছাড়া তিনি ব্যক্তিগতভাবে মুন্নীর বাবার ভান কেনা বাবদ ঋণের টাকা পরিশোধের জন্য ২০ হাজার টাকা নগদ প্রদান করেন। মুন্নীর বাবার জন্য একটি সরকারি ঘর দেয়ার প্রতিশ্রুতিও দেন তিনি। এদিকে মুন্নীর ভর্তি পরবর্তী পড়ালেখা সম্পন্ন হওয়া পর্যন্ত সব ব্যয় বহন করার সহায়তার প্রস্তাব করেছেন বেশ কিছু ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান। হুইপ ইকবালুর রহিম মুন্নীর পড়ালেখার সহায়তার আশ্বাস দিয়েছেন এবং তিনি বৃহস্পতিবার মুন্নী ও তার বাবার সঙ্গে ভিডিও কল করে কথাও বলেছেন। রানার গ্রুপের পক্ষে আওয়ামীলীগ নেতা কামরুজ্জামান উজ্জল, গিভেন্সী গ্রুপের চেয়ারম্যান খতিব আব্দুল জাহিদ, দেশের বিশিষ্ট মেডিসিন বিশেষজ্ঞ প্রফেসর ডা. খাজা নাজিমুদ্দিন, ঢাকার প্রতিষ্ঠান সাইল্যান্স হ্যান্ডস সাপোর্ট সোসাইটি,ভিপি নুর সহ দেশ বিদেশের অনেক ব্যক্তি, সংগঠন এবং প্রতিষ্ঠান মুন্নীর পড়ালেখার দায়িত্ব নেয়ার জন্য যোগাযোগ করেন। এছাড়া সুজানগর উপজেলা চেয়ারম্যান শাহীনুজ্জামান শাহীন , ইউএনও রওশন আলী মুন্নীর পরিবারে প্রতি বিশেষ সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেন। মেডিকেল কলেজের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের এমবিবিএস কোর্সের প্রথম বর্ষের ভর্তি পরীক্ষায় মেধাক্রমে ৩১১০তম হয়ে এম আব্দুর রহিম মেডিকেল কলেজ দিনাজপুরে ভর্তির সুযোগ পেয়েছেন সুজানগরের হতদরিদ্র ভ্যান চালকের মেয়ে মোছা.জান্নাতুম মৌমিতা মুন্নী। তিনি পাবনা মেডিকেল কলেজ কেন্দ্র থেকে পরীক্ষায় অংশ নেন। ভর্তি পরীক্ষায় ১০০ নম্বরের মধ্যে তিনি পেয়েছেন ৬৯.৭৫ নম্বর। শিক্ষা জীবন জুড়েই আর্থিক দুশ্চিন্তা ছিল মুন্নীর নিত্যসঙ্গী। কিন্ত অদম্য মেধা এবং ইচ্ছাশক্তির জোরে সব বাধা জয় করে মেডিকেলে পড়ার সুযোগ পেলেও আবার সেই আর্থিক দুশ্চিন্তাই তাকে ঘিরে ধরে। ভর্তির সুযোগ পেলেও বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায় অর্থ। কোথায় পাবেন অর্থ এবং কেইও দেবেন অর্থের যোগান-এই শঙ্কায় দিন কাটতে থাকে দরিদ্র পরিবারের মেয়ে মুন্নীর। মুন্নী পাবনা জেলার সুজানগর উপজেলার তাঁতীবন্দ ইউনিয়নের উদয়পুর গ্রামের বাকী বিল্লাহ ও মোছা.রওশন আরা খাতুনের মেয়ে। ৪ সন্তানের মধ্যে মুন্নী বড়। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি মুন্নীর পিতা একজন দরিদ্র ভ্যান চালক। মুন্নীর পিতার নিজ বাড়ির ২ কাঠা জায়গা ছাড়া তেমন কিছুই নেই। বাড়িতে রয়েছে মাটির ডোয়ার একটি ছোট টিনের ঘর। সেই একটি ঘরেই থাকেন পরিবারের সকলে। পরিবারে নুন আনতে পান্তা ফুরায় মুন্নীর পিতার। মেডিকেলে ভর্তি ও পড়ার খরচ যোগানোর সামর্থ্য তার পিতার নেই । মুন্নীর পিতা বাকী বিল্লাহ ব্র্যাকের স্থানীয় শাখা থেকে ২০ হাজার টাকা ঋণ নিয়ে একটি ভ্যান ক্রয় কেনেন এবং সেই ভ্যান চালিয়ে দিনে যে দুই-তিনশত টাকা আয় করেন-তা দিয়ে কোন রকম কষ্টে পরিবারের ৬ জনের মুখের আহার তুলে দেন। এ দিয়ে সংসারের অন্যান্য খরচও চালাতে হয়। তাই সংসার চালানো যেখানে দায়,সেখানে মেয়ের মেডিকেলে লেখাপড়ার খরচ চালানো তাদের কাছে দুঃস্বপ্ন। তারপরও মুন্নী স্বপ্ন দেখেন ডাক্তার হবেন। সুজানগর প্রতিনিধি এম এ আলিম রিপন পরিবেশিত মুন্নীর এই দু:খ গাঁথা গত মঙ্গলবার সর্বপ্রথম দৈনিক যুগান্তর এর অনলাইনে এবং বুধবার প্রিন্ট ইস্যুতে ‘মেডিকেলে চান্স পেয়েও ভর্তি নিয়ে দু:শ্চিন্তায় মুন্নী’ শিরোনামে ছাপা হয়। এতে অসংখ্য মানুষের মর্ম স্পর্শ করে। দেশ বিদেশের অনেক ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান, সংগঠন সহযোগিতার জন্য যোগাযোগ করেন। তবে জাতীয় সংসদের হুইপ এবং দিনাজপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য ইকবালুর রহিম এর প্রস্তাব মুন্নীর পরিবার গ্রহন করেন। মুন্নীর বাবা বাকি বিল্লাহ জানান, বৃহস্পতিবার সকালে ইকবালুর রহিম ভিডিও কলের মাধ্যমে তার সঙ্গে মেয়ে মুন্নী সঙ্গে কথা বলেছেন। তিনি মুন্নীর এমবিবিএস পাশ করা পর্যন্ত যাবতীয় ব্যয় বহন করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। এদিকে সবার ভালবাসায় সিক্ত মুন্নী এবং তার পরিবার প্রধান মন্ত্রীসহ সব ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান এবং সংগঠন যারা তার সহযোগিতার জন্য এগিয়ে এসেছেন-তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। বিশেষ করে দৈনিক যুগান্তর এর প্রতি তারা গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। মুন্নী সুজানগর পোড়াডাঙ্গা হাজী এজেম আলী উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি এবং পাবনা সরকারি এডওয়ার্ড কলেজ থেকে এইচএসসি পরীক্ষায় জিপিএ ৫ পেয়ে উত্তীর্ণ হন। পোড়াডাঙ্গা হাজী এজেম উদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সিদ্দিকুর রহমান বলেন, ১৯৮৪ সালে বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা হলেও বিগত ৩৬ বছরে এই বিদ্যালয় থেকে কোন শিক্ষার্থী সরকারী মেডিকেল কলেজে পড়ার সুযোগ পায়নি। কিন্তু এবারে দরিদ্র পরিবারের এই অত্যান্ত মেধাবী মেয়ে মুন্নী সে সুযোগ পাওয়ায় আমরা গর্বিত। এদিকে মুন্নীর দরিদ্র পরিবারের জন্য কেউ সাহায্য পাঠাতে চাইলে ০১৭১০০৬৩৮৪৪ নম্বরে যোগাযোগ অথবা মুন্নীর শিক্ষা হিসাব নম্বর ৮৭৬, (ইসলামী ব্যাংক) এ যোগাযোগ করতে পারেন।