ঈশ্বরদী ১লা অক্টোবর, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ । ১৬ই আশ্বিন, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ | বাংলা English

রাইস ট্রান্সপ্লাান্টারের মাধ্যমে আমনের চারা রোপণে ঈশ্বরদীতে কৃষকরা লাভবান হচ্ছে

ডেইলি ভিশন টুয়েন্টিফোর অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: আগস্ট ২২, ২০২২

ঈশ্বরদীতে আধুনিক পদ্ধতিতে রাইস ট্রান্সপ্লাান্টারের মাধ্যমে আমনের চারা রোপণ করছেন কৃষকরা। আধুনিক ধান রোপণের রাইস ট্রান্সপ্লাান্টারের যন্ত্রের সাহায্যে সম-গভীরতায়, সম-দূরত্বে এবং অল্প শ্রমে ধানের চারা রোপন হচ্ছে। এই পদ্ধতিতে কম খরচের পাশাপাশি একদিকে ফলন বাড়বে এবং সময় লাগবে কম। বর্তমান সময়ে শ্রমিক সংকট, অতিরিক্ত মজুরি ও খরচের কারণে ধান আবাদে কৃষকরা লাভবান হতে পারছেন না। একারণে রাইস ট্রান্সপ্লাান্টার মেশিনে ধান রোপনের ফলে কৃষকদের খরচ অনেকটাই কমছে। উপজেলা কৃষি অফিস কৃষিতে যান্ত্রিকীকরণের ব্যবহার বাড়াতে এবং কৃষকদের উৎসাহিত করতে রাইস ট্রান্সপ্লাান্টার দ্বারা ধানের চারা রোপনে কৃষকদের সহায়তা ও পরামর্শ দিচ্ছে।

সোমবার (২২ আগষ্ট) মুলাডুলি ইউনিয়নের দুবলাচরা গ্রামের কৃষক কবির মালিথার জমিতে সরেজমিনে দেখা যায়, রাইস ট্রান্সপ্লাান্টার মেশিনে ধানের চারা রোপণ করা হচ্ছে। মূলাডুলির কৃষকলীগের সাধারন সম্পাদক কৃষক কবির মালিথা জানান, রাইস ট্রান্সপ্লাান্টার যান্ত্রিকীকরণ পদ্ধতিতে ধানের চারা রোপণ করার কোনো ধারণা ছিল না। কৃষি কর্মকর্তার পরামর্শে ও সহায়তায় আমি এ বছর প্রথমবারের মত ২ বিঘা জমিতে ধানের চারা রোপণ করছি। বীজতলায় যে ধানের চারা দেওয়া হয়, চারা তোলার সময় ধান গাছের চারায় আঘাত লাগে। ওই চারাগাছ কিছু নষ্ট হয় সব বাঁচে না, এতে ফলন কম হয়।

মেশিনের সাহায্যে একটি চারাও নষ্ট হয় না জানিয়ে তিনি আরও বলেন, মেশিনের মাধ্যমে চারা লাগানোর ফলে মেশিনের সাহায্যেই গুটি ইউরিয়া সার ব্যবহার করা যাবে। আগে দুই বিঘা জমিতে শ্রমিক দিয়ে ধানের চারা রোপন করতে প্রায় ৫ হাজার টাকা খরচ হতো। রাইস ট্রান্সপ্লাান্টারের মাধ্যমে মাত্র ১৬০০ টাকা খরচ হয়েছে। শুধুমাত্র রাইস ট্রান্সপ্লাান্টার মেশিনের তেল, চালকের মজুরি ও মেশিন আনা-নেওয়ার খরচ আমাদের দিতে হয়। মেশিনের ভাড়া বাবদ খরচ দিতে হয় না। উপজেলা কৃষি অফিস এই মেশিন বিনা ভাড়ায় দিচ্ছে। মূলাডুলির ৮ নং ওয়ার্ড মেম্বার তারা মালিথা বলেন, আগে ১ বিঘা জমিতে ধানের চারা রোপন করতে ৪ জন শ্রমিক লাগতো, তিন বিঘা জমিতে ধানের চারা রোপন করতে তিন দিন লাগতো। এখন মেশিনে মাত্র তিন ঘন্টায় তিন বিঘা চারা রোপন করতে পারছি। এটা কৃষকদের জন্য একটা বড় অর্জন বলে জানান তিনি।

মুলাডুলির কৃষি উপ-সহকারী কর্মকর্তা আলিউজ্জামান জানান, রাইস প্লান্টার যন্ত্রের সাহায্যে মাত্র ৪৫-৬০ মিনিটে এক বিঘা জমিতে চারা রোপণ করা সম্ভব। সনাতন পদ্ধতিতে যেখানে এক বিঘা জমিতে ধান গাছের চারা রোপণ করতে কমপে ৪/৫ জন শ্রমিকের দরকার হতো। সময় লাগতো সারাদিন। শ্রমিকের মজুরি গুনতে হতো বেশি। এখন সময় বাঁচিয়ে অল্প খরচে এই পদ্ধতিতে স্বল্প সময়ে কম খরচে ধানের চারা রোপণ করা সম্ভব। এখন শ্রমিক সংকটের বিষয়টি সমাধান হচ্ছে।

ঈশ্বরদী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মিতা সরকার জানান, ধানের আবাদে খরচ বাড়ার কারণে কৃষকরা লাভবান হতে পারছে না। শ্রমিক সংকট, মজুরি বেশি ও অতিরিক্ত খরচের কারণে ধান আবাদে যাতে কৃষকরা উৎসাহ হারিয়ে না ফেলেন, সেজন্য বর্তমান কৃষিবান্ধব সরকার কৃষি সেক্টর যান্ত্রিকীকরণের উদ্যোগ নিয়েছেন। ভর্তুকির মাধ্যমে কৃষকদের ধানের চারা রোপনের জন্য রাইস প্লাান্টার যন্ত্র ও ধান কাটার জন্য কম্বাইন হারভেস্টার মেশিনসহ কৃষির আধুনিক কৃষি যন্ত্র সরবরাহ করছেন। একটি রাইস প্লাান্টার মেশিন প্রতিদিন ১৫ থেকে ২০ বিঘা পর্যন্ত জমিতে ধান রোপন করতে পারে। আধুনিক এ পদ্ধতিতে কৃষকরা ধান আবাদ করলে তারা স্বল্প সময়ে ও কম খরচে ধানের আবাদ করতে পারবে। কৃষকদের এ পদ্ধতিতে ধানের চারা রোপনের জন্য আমরা সার্বিক সহযোগিতা করে যাচ্ছি।

  • এই বিভাগের সর্বশেষ

    error: Content is protected !!