অনাবৃষ্টি আর তীব্র খরায় মরে যাচ্ছে শিমগাছ

ডেইলি ভিশন টুয়েন্টিফোর অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ৯:৫৮ পূর্বাহ্ণ, আগস্ট ১৩, ২০২২

অনাবৃষ্টি আর তীব্র খরায় মরে যাচ্ছে শিম গাছ। দেশের শিম উৎপাদনে অন্যতম ঈশ্বরদীর মলাডুলির চাষিরা আগাম শিম চাষ করে লাভবান হতে চেয়েছিলেন। কিন্তু এবারে চাষিদের সে আশার গুড়ে বালি পড়েছে। আগাম শিমের চাষ করেও চাষিদের মাথায় হাত। ভরা বর্ষা মৌসুমেরও প্রত্যাশিত বৃষ্টি হচ্ছে না। বিগত ৪২ বছরের মধ্যে আষাঢ়- শ্রাবণ মাসে এতো কম বৃষ্টিপাত হয়নি বলে ঈশ্বরদী আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে। আবহাওয়া অফিস আরও জানায়, ২০২১ সালে জুন-জুলাই মাসে ঈশ্বরদীতে গড় বৃষ্টিপাতের পরিমাণ ছিল ১১.৭৫ মিলিমিটার। আর ২০২২ সালে দুই মাসে গড় বৃষ্টি হয়েছে মাত্র ২.৫৫ মিলিমিটার। অর্থাৎ শতকরা হিসেবে গত বছরের তুলনায় এবারে ৭৮.৩০ভাগ কম বৃষ্টি হয়েছে। যেকারণে পানির অভাবে মাটিতে রস না থাকায় বেশিরভাগ শিমগাছ মরে যাচ্ছে। শিমগাছ মরে যাওয়ায় কৃষকদের লাভের বদলে লোকসান গুনতে হবে। তাই এখন অনেকেই মরা গাছ উঠিয়ে আবারও শিমের চারা রোপণ করেছেন।

ঈশ্বরদীর মুলাডুলি ইউনিয়নে ১০ বছরেরও বেশী সময় ধরে আগাম শিম চাষ হচ্ছে। দুই জাতের অটো ও রূপভান নামের আগাম শিমের চাষ করা হয়। খরার তীব্রতায় শিমগাছের পাতা হলুদ, ছিদ্র ও বিবর্ণ হয়ে গেছে। তদুপরি পোকার আক্রমণে গাছ দুর্বল হয়ে মারা যাচ্ছে। নিরুপায় চাষিরা মরা শিমগাছ উপড়ে ফেলে নতুন করে বীজ ও চারা রোপণ করছেন। মুলাডুলি এলাকার কৃষক, কৃষি ও আবহায়া অফিসের সাথে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে।

Dailyvision24.com

মুলাডুলির প্রতিরাজপুর গ্রামের কৃষক বক্কার প্রমাণিক জানান, ১০০-১৫০ টাকা কেজি দরে আগাম শিম বিক্রি হয়। অতিরিক্ত টাকা খরচ করে আগাম শিমের আবাদে এবারে আমরা তির সম্মুখীন। শিমগাছ মরে যাওয়ায় লাভবান হওয়াতো দূরের কথা সীমাহীন ক্ষতি হবে। তীব্র খরায় এখন শিমের গাছগুলো লালচে হয়ে বিবর্ণ হয়ে গেছে। এগুলো উঠিয়ে নতুন করে লাগানো হচ্ছে। এগুলোর ফলন কার্তিক ও অগ্রাহায়ণ মাসে পাওয়া যাবে। তখন আর বেশি দামে বিক্রি হবে না।

শেখপাড়ার শাজাহান সরদার জানান, এক বিঘা জমিতে বিট (ঢিবি) তৈরি, বীজ, কীটনাশকবাবদ প্রায় ১৫ হাজার টাকা প্রাথমিক খরচ হয়ে গেছে। এনজিও এর ঋণের টাকায় অটো শিমের আবাদ করেছি। খরায় দেড় মাসের মাথায় বেশিরভাগ শিমগাছ মরে গেছে।

মুলাডুলি ইউনিয়নের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা আলিউজ্জামান বলেন, খরার তীব্রতায় এবং কাঙ্খিত বৃষ্টি না হওয়ায় আগাম শিমের আবাদে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে ।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মিতা সরকার জানান, শিমগাছের জন্য মাটিতে যে পরিমাণ রস প্রয়োজন অনাবৃষ্টির কারণে সেটি না থাকায় পোকার আক্রমণ হয়েছে। এতে পাতা বিবর্ণ হয়ে গাছ নিস্তেজ হয়ে পড়ে। শিম চাষিরা এবারে ক্ষতিগ্রস্থ। মরা গাছ উঠিয়ে কৃষকদের নতুন করে শিমের চারা লাগানোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।