ঈশ্বরদীতে কোরবানির জন্য ক্রেতাদের নজর কেড়েছে গোলাপী মহিষ

ডেইলি ভিশন টুয়েন্টিফোর অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ১১:৫৯ অপরাহ্ণ, জুলাই ৬, ২০২২

ঈশ্বরদীতে কোরবানীর জন্য ক্রেতাদের নজর কেড়েছে গোলাপী রঙের মহিষ। পৌর এলাকার অরণকোলা হাট সংলগ্ন বেশ কয়েকটি খামারে এবার গোলাপী মহিষ পালন করা হয়েছে। দুর-দুরান্ত থেকে এসব মহিষ কিনতে ক্রেতারা খামারে আসছেন। অনলাইনে দেখে গোলাপী মহিষ কিনে নিচ্ছেন।

Dailyvision24.com
গোলাপী রঙের মহিষ দূর্লভ হওয়ায় আকর্ষণ সৃষ্টি করছে ক্রেতাদের। অনেকেই কালো ছাড়া অন্য রঙের মহিষ জীবনে কখনো দেখেননি। দূর্লভ এ মহিষ দেখতে খামারে প্রতিদিনই শত শত মানুষ ভিড় করছেন। অরণকোলা খামারগুলোতে প্রায় তিন চার বছর ধরে গোলাপী রঙের মহিষ পালন করা হলেও এবারই প্রথম কোরবানীর জন্য গোলাপী মহিষ বিক্রি করা হচ্ছে।

অরণকোলার আলো ডেইরি ফার্মের স্বত্বাধিকারী মাহাবুবুল আলম আলো জানান, তাঁর খামারে দু’টি গোলাপী রঙের মহিষ রয়েছে। এবার কোরবানীতে এগুলো তিনি বিক্রি করবেন। প্রতিদিনই ক্রেতারা আসছেন দরদাম করছেন। অনেকেই কৌতুহলবশত গোলাপী মহিষ দেখতে আসছেন। যে কোন সময় এগুলো বিক্রি হয়ে যেতে পারে।

মামা কৃষি ফার্মের স্বত্বাধিকারী শামীম হোসেন জানান, সাড়ে তিন বছর আগে তিনি অরণকোলা হাট থেকে গোলাপী রঙের দু’টি মহিষের বাছুর ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা দিয়ে কিনেছিলেন। মহিষ দু’টি সাড়ে ৯ লাখ টাকায় তিনি বিক্রি করেছেন। এ মহিষ কালো মহিষের মতোই শান্ত প্রকৃতির। খাদ্যেভ্যাসের কোন পরিবর্তন নেই। অন্যান্য মহিষ যা খায় এ মহিষও তাই খায়। শরীরের রঙ গোলাপী হওয়ায় ক্রেতাদের কাছে এ মহিষের কদর বেশি।

অরণকোলা ওয়ান স্টপ ক্যাটল র‌্যান্স ডেইরি ফার্মের স্বত্বাধিকারী গোলাম কিবরিয়া সোহান জানান, সাড়ে তিন বছর ধরে তিনি গোলাপী রঙের মহিষ পালন করছেন। ইতোমধ্যেই কয়েকটি গোলাপী মহিষ বিক্রি হয়েছে। আরও দু’টি মহিষ আছে। এ দু’টিরও দরদাম চলছে। ১৪ মণ ওজনের মহিষটি ৫ লাখ টাকা দরদাম হয়েছে। আরেকটি গোলাপী মহিষ সাড়ে চার লাখ টাকা দাম বলেছে। আজকালের মধ্যেই মহিষ দু’টি বিক্রি হয়ে যাবে।

জেলা কৃত্রিম প্রজনন কেন্দ্র ঈশ্বরদীর উপ-পরিচালক ডাঃ কাজী আশরাফুল ইসলাম জানান, সাধারণত বার্মা, থাইল্যান্ড ও ইন্ডিয়া থেকে এ ধরনের মহিষ এদেশে আনা হয়। শখের বশে অনেকেই দু’চারটা করে পালন করছেন। গোলাপী মহিষ বাণিজ্যিকভাবে এখনো পালন শুরু হয়নি। গায়ের রঙ গোলাপী হওয়ায় এ মহিষের কদর বেশি মনে হচ্ছে।

বাংলাদেশ প্রাণী সম্পদ অধিদপ্তরের মহিষ উন্নয়ন প্রকল্পের (দ্বিতীয় পর্যায়ের) পরামর্শক (কনসালটেন্ট) অধ্যাপক ওমর ফারুক জানান, গোলাপী বা সাদা রঙের মহিষ বার্মার জলাভূমি এলাকায় বেশি দেখা যায়। এগুলো কক্সবাজারের টেকনাফ হয়ে এদেশে আসে। গায়ের রঙ গোলাপী হওয়ায় এগুলো দেখতে বেশ সুন্দর। তাই কোরবানীর ঈদে ক্রেতাদের কাছে এগুলোর চাহিদা বেশি মনে হচ্ছে। এসব মহিষের মাংস বেশ সুস্বাদু ও স্বাস্থ্যসম্মত বলে তিনি জানান।