তীব্র দাবদাহে জন-জীবন স্থবির

ঈশ্বরদীতে তাপমাত্রার পারদ ৪১ ডিগ্রিতে

ডেইলি ভিশন টুয়েন্টিফোর অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ৫:৪৩ অপরাহ্ণ, এপ্রিল ২৫, ২০২২

ঈশ্বরদীতে ২৪ ঘন্টার ব্যবধানে তাপমাত্রার পারদ পয়েন্ট আট ডিগ্রি বেড়ে ৪১ ডিগ্রি সেলসিয়াসে উঠেছে। সোমবার (২৫ এপ্রিল) বিকেল তিনটায় ঈশ্বরদী আবহাওয়া অফিসের পারদ বিগত ৮ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করেছে। রোববার (২৪ এপ্রিল) সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছিল ৪০ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এর আগের দিন ছিল ৩৮ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। অর্থাৎ দুই দিনের ব্যবধানে তাপমাত্রা বেড়েছে ২ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। তীব্র দাবদাহে ৫ জন হিট ষ্ট্রোকে আক্রান্ত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

পরিবেশে রোদ তো নয়, যেন আগুন নামছে আকাশ থেকে। সকাল ১০ টার পর হতেই তাপমাত্রা বাড়তে বাড়তে দুপুরে এসে চরম অসহনীয় অবস্থায় পৌঁছে। মরু অঞ্চলের লু হাওয়ায় তীব্র তাপদাহে অতিষ্ঠ মানুষ। আগুন ঝরা আবহাওয়ায় পুড়ছে পদ্মাপাড়ের ঈশ্বরদীবাসী। সোমবার দুপুরে রাস্তা-ঘাটে লোকজন চলাচল স্থবির হয়ে পড়ে। সকালের দিকে ঈদের কেনাকোটার জন্য বাজারে কিছুটা লোক সমাগম থাকলেও দুপুর ১২টার পর তা একবোরেই কমে যায়। সড়কে দুয়েকটি ভ্যান, ট্রাক, মোটরকার চলাচল করলেও রিক্সা পাওয়া দুস্কর। গড়ম বাতাসের হল্কায় চোখ-মূখ পুড়ে যাওয়ার উপক্রম। নদী-নালা, খাল-বিল কোথায়ও পানি না থাকায় মানুষের চেয়ে পশু-পাখিরা আরও বেশী বেকায়দায় পড়েছে। বৃষ্টি হওয়ার কোন লক্ষণ নেই। টানা তাপদাহে বৃষ্টির জন্য হাহাকার পড়ে গেছে। কিন্তু কাঙ্খিত বৃষ্টির দেখা নেই! আবহাওয়া অফিস এই পরিস্থিতিকে তীব্র তাপপ্রবাহ জানিয়ে বলেছে বৃষ্টির জন্য আরও অপো করতে হবে। নাহলে আরও বাড়তে পারে।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সমস্যা বেড়েই চলেছে। পদ্মা নদীতে পানি না থাকা এবং বৃক্ষ নিধনের কারণেই প্রকৃতির বিরূপ প্রভাবের অন্যতম কারণ বলে বিশেষজ্ঞ মহলের ধারণা। প্রকৃতির আরও ভয়াবহ প্রভাব হতে সৃষ্টির সেরা জীব মানুষকে রা করতে হলে সরকারের পদ্মা নদীসহ অন্যান্য নদ-নদী, খাল-বিল ড্রেজিংএর উদ্যোগ গ্রহন করা জরুরী।

তীব্র খরার কারণে ডায়ারিয়া ও আমাশয়ের প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। সোমবার দুপুরে ঈশ্বরদী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরী বিভাগে কর্মরত ডাঃ শাহরিয়ার রহমান জানান, গত কয়েকদিনে বিপুল সংখ্যক ডায়ারিয়ায় আক্রান্ত রোগী হাসপাতালে চিকিৎসা গ্রহন করেছে।

রূপপুর মোড়ে শাহিনুর রহমান ও পাভেল নামে ২ জন সোমবার দুপুর ১টার দিকে হিট ষ্ট্রোকে আক্রান্ত হয়। স্থানীয় ডাক্তারের কাছে চিকিৎসা দিয়ে এদের বাড়ি পাঠানো হয়েছে বলে এলাকার শিক্ষক আমিরুল ইসলাম জানিয়েছেন।

দাশুড়িয়া ট্রাফিক মোড় ২ জন এবং শহরের আলহাজ¦ মোড়ে আরও ১ জন হিট ষ্ট্রোকে আক্রান্ত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। এদের স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।