ক্রেতাশূন্য ঈশ্বরদীর কাপড়ের বাজার

ডেইলি ভিশন টুয়েন্টিফোর অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ১১:২৭ পূর্বাহ্ণ, এপ্রিল ৯, ২০২২

ঈদুল ফিতরের জন্য বাজারের সকল প্রকারের কাপড়ের দোকানদাররা বিপুল পরিমাণ মালামাল তুলেছেন। গত ২রা এপ্রিল থেকে শুরু হয়েছে মাহে রমজান। ছয় রমজানেও বাজারে নেই কোন ক্রেতা। বিগত দুই বছর করোনার কারণে তেমন বেচাকেনা হয়নি। ঈদুল ফিতরের এই ভরা মৌসুমেও ক্রেতাদের উপস্থিতি কম। মাসের প্রথমে রমজান শুরু হওয়ায় প্রথম থেকেই ভালো বিক্রি হবে বলে ব্যবসায়ীরা আশা করেছিলেন। এজন্য অনেকেই চড়া সুদে ঋণ নিয়ে দোকান ভর্তি করেছেন। এই সময়টাতে ছিট কাপড়সহ অন্যান্য দোকানে ভীড় জমে যায়। কিন্তু কাপড়ের বাজার, বঙ্গবন্ধু মার্কেট, মণির প্লাজা ও গোপাল মার্কেটে শুক্রবার ছুটির দিনেও ক্রেতা শুণ্য।

বাজারের পুরাতন কাপড় ব্যবসায়ী আধুনিক বস্ত্রালয়ের মালিক সুবির বিশ্বাস জানান, প্রথম থেকেই এমনকি রোজার আগে থেকেই বিক্রি শুরু হয়ে যায়। মাসের প্রথমে তদুপরি শুক্রবার ঈদের কোন কেনাকাটা হচ্ছে না।

Dailyvision24.com

গোপাল মার্কেটের মালিক নান্নু বলেন, মার্কেটের দোকানদাররা অনেক বিনিয়োগ করেছে। শুক্রবার দুপুর ১টা অনেক দোকানে বউনি পর্যন্ত হয়নি। বিক্রি না হলে অনেকেই এবারে পথে বসবে।

অঙ্গরূপার মালিক আলম জানান, ভেড়ামারা, পাকশী, বনপাড়া, দয়রামপুরসহ আশেপোশের অনেক এলাকার মানুষ ছুটির দিনে বিশেষ করে শুক্রবারে মার্কেট করতে আসে। কিন্তু কেনার লোক নেই।

মনির প্লাজার ফেয়ার টাচের মালিক অঞ্জনা কর্মকার জানান, করোনার কারণে বিগত দুই বছর বেচাকেনা হয়নি। এবারে ভালো বিক্রির আশায় বিপুল টাকার মাল তুলেছি। দেখার লোকও আসছে না।

নাসিম শাড়ি কুটিরের মালিক মোহাম্মদ নাসিম জানান, ১০ রোজার পরে বিক্রি বাড়তে পারে। তবে প্রথম দশ দিনের ক্যাশ ঘাটতি পোষাবে না।

বাজারে দেখা হয় থ্রিপিস কিনতে আসা পারভীন সুলতানার সাথে। তিনি বলেন, নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের দাম আকাশচুম্বি। আগে পরিবারের ভরণপোষণ, তারপরে জামা-কাপড়। দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির কারণে মানুষ সংসার চালাতেই হিমসিম খাচ্ছে। তাছাড়া বাজার ঘুরে দেখলাম নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের সাথে পাল্লা দিয়ে জামা-কাপড়ের দামও অনেক বেড়েছে।

শিল্প ও বণিক সমিতির সভাপতি শফিকুল ইসলাম বাচ্চু বলেন, করোনার কারণে পুঁজি হারিয়ে অনেকেই নিঃস্ব হয়েছে। বিভিন্ন সমিতি ও ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে ব্যবসায়ীরা মাল তুলেছে। এই পরিস্থিতিতে কিযে হবে বলতে পারছিনা।