ঈশ্বরদীর স্কুলে বঙ্গবন্ধুর জন্মদিনে শিক্ষার্থীদের কাঁচা বাদাম ও হিন্দি ডিজে গানের নাচ

ডেইলি ভিশন টুয়েন্টিফোর অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ৭:০৬ অপরাহ্ণ, মার্চ ১৯, ২০২২

জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ১০২ তম জন্মদিনের অনুষ্ঠানে ঈশ্বরদীর স্কুল শিক্ষার্থীদের কাঁচা বাদাম ও হিন্দি ডিজে গানের তালের সঙ্গে নাচ সোস্যাল মিডিয়ায় এখন ভাইরাল। এই অনুষ্ঠানকে নিয়ে সর্বত্র বইছে সমালোচনা ও নিন্দার ঝড়। বৃহস্পতিবার (১৭ মার্চ) পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলার মানিকনগর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে বঙ্গবন্ধুর জন্মদিন ও জাতীয় শিশু দিবসের অনুষ্ঠানে এসব নাচ পরিবেশন করেন শিক্ষার্থীরা।

এই অনুষ্ঠান বিদ্যালয়ের ফেসবুক আইডি থেকে লাইভ দেওয়া হয়। এরপরই ভিডিওটি ভাইরাল হয়। বিদ্যালয়ের ফেসবুক আইডিতে নিন্দনীয় মন্তব্য শুরু করেন সাধারণ মানুষ। তোপের মুখে পরে বিদ্যালয়ের আইডি থেকে ভিডিওটি ডিলিট করা হয়। তবে তার আগেই মিলিয়ন ভিউয়ারসের মাইল ফলক ছুয়ে ফেলে ভিডিওটি।

ফেসবুকে ভাইরাল হওয়া ওই ভিডিও কিপে দেখা যায়, স্টেজের পেছনে বঙ্গবন্ধুর জন্মবার্ষিকী ও জাতীয় শিশু দিবসের আলোচনা সভার ব্যানার টাঙানো রয়েছে। সেখানে একক, দ্বৈত ও দলগতভাবে নাচছে ছাত্রীরা। কাঁচা বাদাম ও হিন্দি ডিজে গানের তালে স্টেজের ওপরে ও আশপাশে শিক্ষক- শিক্ষার্থীদের নাচতে দেখা যায়।

এবিষয়ে বীরমুক্তিযোদ্ধা ও সাংবাদিক ফজলুর রহমান ফান্টু বলেন, জাতির জনকের জন্মদিনের অনুষ্ঠানে বিদেশী ডিজে গানের তালে নৃত্য পরিবেশন আমাদের সংস্কৃতি বিরোধী। এসবের মাধ্যমে তারা বঙ্গবন্ধুর জন্মদিনকে বিতর্কিত করার অপচেষ্টা করেছে। মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বিরোধী কিছু শিক্ষক এসব করে বিতর্কের সৃষ্টি করতে চায়। এদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আনিসুর রহমান বলেন, অনুষ্ঠানটি দুটি পর্বে ভাগ করে করা হয়। প্রথমে বঙ্গবন্ধুর জন্মদিন উপলক্ষে আলোচনা সভা, কেক কাটা, দোয়া মাহফিল ও পুরষ্কার বিতরণ। দ্বিতীয় পর্বে শিশু জাতীয় দিবস উপলে শিক্ষার্থীরা নাচ-গান করে। করোনা মহামারীর কারণে দীর্ঘদিন বিদ্যালয়ের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হয়নি। এবার শিক্ষার্থীরা অনুষ্ঠানে সুযোগ পেয়ে নাচ গান করেছে। শিার্থীদের নাচে কোন ক্রুটি বিচ্যুতি হলে আমরা এ জন্য অনুতপ্ত।

ঈশ্বরদী উপজেলা শিক্ষা অফিসার সেলিম আক্তার বলেন, বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষককে রবিবার অফিসে দেখা করতে বলা হয়েছে। তার কাছে থাকে এবিষয়ে জানতে চাওয়া হবে। পাশাপাশি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

পাবনা জেলা শিক্ষা অফিসার এস এম মোসলেম উদ্দীন বলেন, মানিকনগর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে কিছু সময়ের জন্য উপস্থিত ছিলাম। প্রধান শিক্ষক এবং স্কুল ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হবে জানিয়ে আমাদের থাকতে বলেছিলেন কিন্তু সময় স্বল্পতার কারণে কেক কেটে ও পুরস্কার বিতরণ করে চলে আসি। পরে সোস্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে জানতে পেরেছি অরুচিকর দুই একটি নাচ হয়েছে। তিনি আরো বলেন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটির বহু সুনাম রয়েছে। পরীক্ষায় ভাল ফলাফলের পাশাপাশি তথ্য প্রযুক্তি, খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক পরিবেশনাতেও তাদের বেশ সুনাম রয়েছে।

ঈশ্বরদী উপজেলা নির্বাহী অফিসার পি.এম ইমরুল কায়েস বলেন, বিষয়টি আমি শুনেছি। এব্যাপারে তদন্ত করে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।