ঈশ্বরদীতে লিচু ফুল থেকেমধু সংগ্রহ: সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা ২৬ মে:টন মধু

ডেইলি ভিশন টুয়েন্টিফোর অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ৬:২৬ অপরাহ্ণ, মার্চ ১৮, ২০২২

ঈশ্বরদীতে লিচু ফুল থেকে ২৬ মে:টন মধু সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে মৌয়ালরা মাঠে নেমেছে। লিচু বাগানগুলো জুড়ে স্থাপিত হয়েছে হাজারো মৌ বাক্স। সারি সারি সাজানো ঘর আকৃতির কাঠের তৈরি ছোট ছোট বাক্স। লিচু ফুল থেকে মধু আহরণের পর মৌমাছি ছুঁটছে আপন নীড়ে। মৌয়ালরা, এক সপ্তাহ পর শুধুমাত্র ঈশ্বরদী উপজেলায় লিচু ফুল থেকে ২৬ হাজার কেজি মধু বিশেষ যন্ত্রের সাহায্যে সংগ্রহ করবেন মৌয়ালরা। লিচুর গুটি আসা শুরু না হওয়া পর্যন্ত লিচু ফুল থেকে মৌমাছির মাধ্যমে মধু সংগ্রহ করবেন মৌয়ালরা। বৃহস্পতিবার (১৭ মার্চ) ঈশ্বরদী উপজেলার কয়েকটি ইউনিয়নের লিচু বাগানগুলো ঘুরে এ তথ্যই জানা গেছে।

Dailyvision24.com

সবুজ পাতার মধ্যে স্বর্ণালী লিচুর মুকুলে ভরে উঠেছে পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলার লিচু গাছগুলো। চারিদিকে লিচুর ফুল আর মুকুলের সুগন্ধ ছড়িয়ে পড়েছে। গত বছরের তুলনায় এ বছর লিচু গাছে ফুল ও মুকুলের পরিমাণ অনেক বেশি। লিচুর মুকুল যেন ঝড়ে না পড়ে, মুকুল টেকাতে পরিচর্যায় কোনো ঘাটতি রাখছেন না চাষিরা।

কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, ঈশ্বরদী পৌরসভা ও সাতটি ইউনিয়নর বিভিন্ন গ্রামে লিচু বাগান রয়েছে ১১ হাজার ২৫৮টি। মধু সংগ্রহের জন্য মৌয়ালরা মৌ-বাক্স স্থাপন করেছেন ৬ হাজার ৫০০টি। ঈশ্বরদী উপজেলায় বর্তমানে তিন প্রজাতির লিচুর ফলন হচ্ছে। মোজাফ্ফর বা দেশি এবং বোম্বাই আর চায়না-৩।

বাগান ঘুরে দেখা যায়, সবুজ পাতার মধ্যে সোনারঙা ফুল আর মুকুলে ছেয়ে গেছে লিচু বাগানগুলো। লিচু গাছের নিচে থরে থরে মৌ বাক্স সাজিয়ে রাখা হয়েছে। প্রতিটি মৌ-বাক্সে হাজারো মৌমাছির গুঞ্জন। কৃষকের পরিচর্যার সাথে মৌয়ালদের ব্যবস্থা বেড়েছে। প্রতিটি লিচু বাগানে ১৫০ টি করে বাক্স রয়েছে। দেশের বিভিন্ন জেলা শহর থেকে আসা মৌয়ালরা একটি বাক্স থেকে কমপে পাঁচ কেজি মধু সংগ্রহ করবেন। প্রতি কেজি মধু ২৫০-৩০০ টাকা দরে পাইকারি বিক্রি করেন তারা।

টাঙ্গাইলের ভুঞাপুর উপজেলা থেকে মধু সংগ্রহ করতে রূপপুর গ্রামে আসা হাফিজুল ইসলাম হাফিজ বলেন, একটি লিচু বাগানে ২০০ বাক্স রেখেছি। মৌমাছিরা ঝাঁক বেঁধে লিচুর মুকুল থেকে মধু সংগ্রহ করে নিজ নিজ বাক্সের ভেতরে এসে মধু জমা করে।

ময়মনসিংহ থেকে আসা আব্দুল হাই জনান, প্রতিবছর আমরা মধু সংগ্রহ করতে আসি। সেরা বাগান থেকে আমরা মধু সংগ্রহ করি। যে বাগানে ফুল বেশি, তেমন বাগানে বাক্স বসাই। মৌমাছির চাকগুলোর বাক্স প্রথমে বাগানে রেখে দেওয়া হয়। প্রতিটি লিচুর বাগানে দেড়শ’ বাক্স রাখা রয়েছে। লিচুর ফুল থেকে মধু সংগ্রহ করার পর মৌমাছিরা বাক্সের ভেতরে চাকে মধু জমা করে। এক সপ্তাহের ব্যবধানে প্রতি বাক্সে পাঁচ কেজি মধু জমা হয়।

জাতীয় পদকপ্রাপ্ত লিচু চাষি কিতাব মন্ডল জানান, লিচুর মুকুল থেকে মৌমাছিরা যদি মধু সংগ্রহ করে, তাতে পরাগায়ন হলে লিচুর ভালো ফলন হয়। ফলে কীটনাশক তেমন দরকার হয় না। তাই বিনামূল্যেই মৌয়ালদের মৌমাছির বাক্স বাগানে বসাতে দেই।

ঈশ্বরদী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মিতা সরকার জানান, লিচু ফুল ও মুকুলে মৌমাছি বসলে পরাগায়ন ভালো হয়, রোগবালাইও অনেকটা কম হয়। সে েেত্র অনেক বাগানে গুটি আসার পর কীটনাশক দরকার হয় না। এতে ওই লিচুর বাগানে বাম্পার ফলন হওয়ার অনেক সম্ভাবনা থাকে। এতে লিচুর যেমন বাম্পার ফলন হয়, তেমনি মধুও উৎপাদন হয় ভালো।
তিনি আরও বলেন, লিচু বাগানে সাড়ে ৬ হাজার মৌবাক্স স্থাপন করেছেন মৌয়ালরা। তারা দেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে এসে মধু সংগ্রহ করছেন। প্রতিটি বাক্সের ১০টি ফ্রেমে অর্ধলাধিক মৌমাছির উপস্থিতি রয়েছে।