ঈশ্বরদীতে গমের বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা

ডেইলি ভিশন টুয়েন্টিফোর অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ২:৪৫ অপরাহ্ণ, মার্চ ১৪, ২০২২

অনুকূল আবহাওয়া ও উচ্চ ফলনশীল জাতের গম আবাদের ফলে চলতি মৌসুমে ঈশ্বরদীতে গমের ভাল ফলনের আশা করছেন কৃষক ও কৃষি বিভাগ। রবি শস্যের মধ্যে অন্যতম লাভজনক আবাদ হচ্ছে গম। আর মাত্র কয়েকদিন পরই শুরু হবে গম কাটা-মাড়াইয়ের কাজ। বাজারে ভাল দাম থাকায় লাভবান হওয়ার স্বপ্ন দেখছেন চাষিরা।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছর উপজেলায় ১,৯০০ হেক্টর জমিতে গমের আবাদ হয়েছে। উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে প্রতি হেক্টরে ৩ দশমিক ৫৪ মেট্রিক টন। অনুকূল আবহাওয়া, সঠিক মাত্রায় সার প্রয়োগ এবং কৃষি বিভাগের সঠিক তদারকি, পরামর্শ, বাড়তি পরিচর্যা ও গম বপনের পর কয়েক দফায় বৃষ্টি হওয়ায় অধিকাংশ জমিতেই এবারে সেচের দরকার হয়নি । তাছাড়া গম ক্ষেতে কোন রোগ-বালাইও ছিল না। এতে কৃষকদের সেচ খরচ সাশ্রয় হওয়ায় উৎপাদন খরচ অনেক কম হয়েছে বলে কৃষকরা জানিয়েছেন। তাছাড়া বিগত কয়েক বছরের তুলনায় এবারে অধিকাংশ জমিতে কৃষকরা উচ্চ ফলনশীল জাত প্রদীপ, বারি-২৬, ২৮, ২৯, ৩০,৩১,৩২ ও ৩৩ জাতের গমের আবাদ করেছেন। তাই এবার গমের বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা দেখছেন কৃষক ও কৃষি বিভাগ।

উপজেলার মুলাডুলি, দাশুড়িয়া, সাঁড়া ইউনিয়নে ও পদ্মার চর বিলবামনিতে গমের আবাদ বেশি হয়েছে। সরেজমিনে এসকল এলাকায় গিয়ে মাঠের দিকে তাকালে দেখা যায়, গমের কাঁচা-পাকা শীষ বাতাসে দোল খাচ্ছে। প্রতিটি শীষ অনেক বড় হয়েছে এবং শীষে বিগত সময়ের চেয়ে এবার গমের দানা খুব ভালো হয়েছে।

কৃষকদের সাথে কথা বলে জানা যায়, আবহাওয়া যদি শেষ সময় পর্যন্ত ভালো থাকে তাহলে ভালো ভাবে কাটা-মাড়াই করে গম ঘরে তুলতে পারবেন এবং বর্তমান বাজার ভালো থাকায় চাষিরা লাভবান হবেন। সাঁড়া ইউনিয়নের পদ্মার চর বিলবামনি মৌজায় ৮ বিঘা জমিতে উচ্চ ফলনশীল বারি- ৩০ ও ৩২ জাতের গমের আবাদ করেছেন গোপালপুর গ্রামের জার্মান আলী। তিনি বলেন, গম চাষে বীজ, সার ও সেচ দিতে হয়। এবার গম বপনের পর কয়েক দফা বৃষ্টিতে তার জমিতে পানি দিতে হয়নি। ফলে উৎপাদন খরচ খুব কম হয়েছে। গমের শীষের আকার ও দানার সংখ্য দেখে মনে হচ্ছে প্রাকৃতিক বিপর্যয় না ঘটলে গমের বাম্পার ফলন হবে এবং বিঘা প্রতি ১০-১২ মণ গম পাবেন।

উপজেলার আড়মবাড়িয়া বøকের গোপালপুর গ্রামের কৃষক ও সাংবাদিক অধ্যাপক আলমাস আলীর উচ্চ ফলনশীল বারি- ৩৩ জাতের গমের প্রদর্শনী প্লট রবিবার বিকেলে পরিদর্শন করেন পাবনা খামারবাড়ি কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মিজানুর রহমান, অতিরিক্ত উপ-পরিচালক আব্দুল লতিফ, রোকুনজামান, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মিতা সরকার। গমের শীষের আকার ও দানার পরিমান বেশি দেখে গমের বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা দেখছেন এবং উপজেলায় গমের লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাবে বলে তারা জানান।

উপজেলার সাড়া ইউনিয়নের কৃষক বাসিদুল ইসলাম ডুমনা কাজী বলেন, এবারে তিনি বারি-৩০, ৩২,৩৩ জাতের গম আবাদ করেছেন। গমের জন্য আবহাওয়া অনুকুলে ছিল, তাই ভালো ফলন আশা করছেন। আড়মবাড়িয়া ব্লকের উপ-সহকারি কৃষি কর্মকর্তা জাহিদ হোসেন হিরোক বলেন, গমে সেচ দেওয়ার সময় বৃষ্টি হওয়ায় কৃষকদের সেচ কম দিতে হয়েছে। এতে উৎপাদন খরচ কম হয়েছে। এতে কৃষকরা লাভবান হচ্ছে।

উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ মিতা সরকার বলেন, এবছর উচ্চ ফলনশীল জাতের গমের আবাদ বেশি হওয়ায় এবং আবহাওয়া অনুক‚লে থাকায় গমের ভালো ফলনের আশা করছেন। বিশেষ করে উপজেলায় বøাস্ট রোগ প্রতিরোধী জিংক সমৃদ্ধ বারি-৩৩ জাতের গমের ২০০ হেক্টর জমিতে আবাদ হয়েছে। এই জাতটির শীষ লম্বা এবং শীষে দানার সংখ্যা বেশি হওয়ায় ফলন ভালো পাওয়া যাবে বলে আশা করা হচ্ছে। বাজার দর ভালো থাকায় এবার লাভবান হবেন গম চাষিরা।