ঈশ্বরদীতে দিপা আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগ: দোষীদের চিহ্ণিত করে শাস্তির দাবী

ডেইলি ভিশন টুয়েন্টিফোর অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ৪:২৫ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ২৮, ২০২২

ঈশ্বরদীতে আলো জেনারেল হাসপাতালের সাবেক কর্মচারী দিপা আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগ উঠেছে। এই আত্মহত্যার ঘটনা নিয়ে ঈশ্বরদীর সর্বত্র আলোচনা-সমালোচনার ঝড় বইছে। আত্মহত্যায় প্ররোচনাকারীদের চিহ্ণিত ও বিচারের দাবীতে সোমবার (২৮ ফেব্রুয়ারী) ঈশ্বরদী থানার সামনে মানববন্ধন ও প্রেসক্লাবের সামনে এলাকাবাসী বিক্ষোভ প্রদর্শন করেছে। বিক্ষোভকারীরা এসময় দিপার মৃত্যুর পেছনের নানা কারনগুলো জনসম্মুখে নিয়ে আসতে ধুম্রজালের সৃষ্টি করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন। গত ২৬ ফেব্রুয়ারী সকাল সাড়ে আটটার দিকে আলো জেনারেল হাসপাতালের সাবেক এই রিসেপসনিষ্ট দিপা খাতুন (২৬) গলায় দড়ি দিয়ে আত্মহত্যা করেন। দিপা ইস্তা চরপাড়া এলাকার ইটভাটার দিনমজুর ও ভ্যানচালক দুলাল প্রমানিকের ছোট মেয়ে। তবে দিপা উমিরপুড়ে মামা মমিন উদ্দিনের বাড়িতেই থাকতো এবং সেখানেই সে আত্মহত্যা করে।

জানা যায়, প্রায় ১০/১২ বছর ধরে আলো ডায়াগনস্টিক ও জেনারেল হাসপাতালে কাজ করতেন দিপা। কাজের সূত্রতায় ঈশ্বরদী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আরএমও এবং বেসরকারি আলো হাসপাতালের স্বত্বাধীকারী ডা. শফিকুল আসলাম শামীম ও তার স্ত্রী ডানার সাথে ভালো সম্পর্ক ছিলো। এরইমধ্যে হঠাৎ করেই গত ২৪ জানুয়ারী ২০২২ ডা. শামীম তার ফেইসবুক আইডিতে দিপাকে তার হাসপাতাল থেকে চাকরিচ্যুতির একটি স্ট্যাটাস পোষ্ট করেন। সেখানে দিপার ছবিতে একটি লাল কালির ক্রস চিহ্ন ব্যবহার করেন। আলো জেনারেল হাসপাতালের সাথে দিপার সকল সম্পর্ক ছিন্ন, বিধায় তার সাথে আর্থিক লেনদেনে প্রতিষ্ঠান দায়ী থাকবে না এই মর্মে জনগনকে সতর্ক হওয়ার বার্তা দিয়ে ফেইসবুক গ্রুপে শেয়ার করেন ডা. শামীম।

Dailyvision24.com

দিপার পরিবার সূত্রে জানা যায়, চাকরি হারাবার পর থেকে দিপার কাছে টাকা পাবে বলে একাধিক ব্যক্তি বাড়িতে আসতে শুরু করে। অনলাইন ব্যবসা করার কথা বলে দিপা নাকি তাদের থেকে প্রায় ৭০ লাখ টাকা ধার নিয়েছে।

দিপার মামা মমিন উদ্দিন প্রামানিকের অভিযোগ, কথিত পাওনা টাকার জের ধরে ভেলুপাড়া এলাকার আবু বক্কর মন্ডলের পুত্র মামুন মন্ডল গং একাধিকবার দিপাকে বাড়ী থেকে তুলে নিয়ে শারীরিক নির্যাতন করেছে। সেসময় তারা জোর করে দিপাকে দিয়ে স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর করে নিয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। মমিনের স্ত্রী ও দিপার মামি জানান, মামুনগং দিপাকে তুলে নিয়ে শিলা নামের একজনকে দিয়ে বেধরক মারধর করেছে। দিপার সমস্ত শরীর জুরে কালচে দাগ ছিলো বলে জানিয়েছে। মৃত্যুর আগের দিন রাত আনুমানিক ৮.৩০ ঘটিকার দিকে  দু’টি মোটরসাইকেল যোগে মামুন তার সাঙ্গপাঙ্গসহ দিপার মামার বাড়ীতে যায় এবং পরের দিন সকালের মধ্যে টাকা না দিলে গুলি করে হত্যা করার হুমকিসহ অকথ্য ভাষায় গালাগাল করে চলে আসে বলে অভিযোগ করেন।

সকালেই দিপার ঝুলন্ত দেহ তার শয়ন কক্ষ থেকে উদ্ধার করে পরিবারের সদস্যরা। উদ্ধারের পর তাকে ঈশ্বরদী সদর হাসপাতালে পাঠালে কর্তব্যরত চিকিৎসক দিপাকে মৃত ঘোষণা করেন। খবর পেয়ে ঈশ্বরদী থানা পুলিশ মৃতদেহটি পুলিশ হেফাজতে নেন এবং ময়না তদন্তের জন্য পাবনা মর্গে পাঠান।

এব্যাপারে ডা: শামীম জানান, দিপা তার প্রতিষ্ঠানের প্রায় ১০ লাখ টাকা আত্মসাত করার কারণে তাকে চাকুরিচ্রুত করা হয়। দিপা আরও কয়েকজনের নিকট থেকেও টাকা ধার নেয়। এবিষয়ে অন্যান্য পাওনাদারদের নিয়ে বৈঠক করার পর তাকে উকিল নোটিশ দেওয়া হয়।

ঈশ্বরদী থানার দায়িত্বরত অফিসার ইনচার্জ (তদন্ত) হাদিউল ইসলাম জানান, থানায় ইউডি মামলা হয়েছে। এই আত্মহত্যার ঘটনা পুলিশ সুপার মহিবুল ইসলাম খান স্যার সার্বক্ষণিক দেখভাল করছেন। সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত রহস্য উদঘাটন করার জন্য পুলিশ সচেষ্ট রয়েছে বলে জানান তিনি।