ঈশ্বরদী ১লা অক্টোবর, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ । ১৬ই আশ্বিন, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ | বাংলা English

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের দামামায় ঈশ্বরদীতে নিত্যপন্যের দাম বেড়েছে

ডেইলি ভিশন টুয়েন্টিফোর অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ফেব্রুয়ারি ২৬, ২০২২

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের দামামায় ঈশ্বরদীতে নিত্যপন্যের দাম বেড়েছে। বিশেষ করে সোয়াবিন, পামওয়েল, সুপার তেল, চিনি ও মসল্লার দাম বেড়ে যাওয়ায় সাধারণ মানুষ পড়েছে চরম বেকায়দায়। ২৪ ফেব্রুয়ারী বৃহস্পতিবার সকালে যুদ্ধের খবর প্রচারিত হওয়ার পর বিকেল থেকেই এসব পণ্যের দাম বেড়ে যায়।

জানা যায়, বৃহস্পতিবার সকালে পাইকারী বাজারে সোয়াবিন তেল ১৭২ টাকা কেজি দরে বিক্রি হলেও বিকেলে দাম বেড়ে ৮০ টাকা হয়। পামওয়েল ও সুপার তেলের দামও বেড়েছে সমান গতিতে। ওইদিন সকালে প্রতি কেজি চিনি পাইকারী বাজারে ৭৪.৪০ টাকায় বিক্রি হলেও বিকেল থেকে বাড়তে বাড়তে শনিবারে ৭৭ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। শুক্রবার বাজার বন্ধ ছিলো। তেল-চিনির পাশাপাশি মসল্লারও দাম বেড়েছে। শনিবারে বাজারে দেখা যায়, দুপুর ১২টার মধ্যেই বাজারে বোতলজাত ৫ লিটারের সোয়াবিন তেল অদৃশ্য হয়েছে। ব্যবসায়ীরা বলছেন খরিদ্দাররা ২-৫টি পর্যন্ত কিনে নিয়ে গেছেন। বোতলজাত সোয়াবিনের গায়ে মূল্য লেখা আছে। এগুলো আগের সরবরাহকৃত। তাস্বত্বেও প্রতি বোতলে ১০-২০ টাকা বেশী নেওয়া হচ্ছে। আর বাজারে খোলা তেলের মূল্য এখন বোতলজাত তেলের চেয়ে অনেক বেশী। খুচরা বাজারে এসব পণ্যের দাম আরও বেশী।

আটা ও চিনির পাইকারি ব্যবসায়ী উত্তম বরাসিয়া বলেন, গমের দামও বাড়বে বলে আলামত পাচ্ছি। দেশে আমদানিকৃত গমের বেশীরভাগই আসছে রাশিয়া ও ইউক্রেন থেকে। চিনি ও তেল প্রসংগে তিনি বলেন, ঢাকা ও চট্টগ্রামের মহাজনরা আরও দাম বাড়ার আশায় বিক্রি বন্ধ করে দিয়েছে। সকাল থেকে কেনার চেষ্টা করছি, সকলেই নেই আর নেই বলছে।

বাজারে আসা ভোক্তা বীর মুক্তিযোদ্ধা গোলাম মোস্তফা চান্না মন্ডল বলেন, বাজারের স্থানীয় কয়েকজন পাইকারি ব্যবসায়ীর কাছে বিপুল পরিমাণ তেল মজুদ রয়েছে। বৃহস্পতিবার সকালে যুদ্ধ শুরু হলো আর বিকেলেই দাম বেড়ে গেল, এটা কেমন কথা। ঢাকা-চিটাগাং থেকে মাল আসতেও তো দুয়েকদিন সময় লাগে। বোতলজাত তেলও ডিলার ও পাইকাররা সরিয়ে ফেলেছে বলে তিনি মনে করেন। বাজারে মূল্য স্থিতিশীল রাখার জন্য তিনি প্রশাসন ও ভোক্তা অধিকার কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

ভোক্তা অধিকারের স্থানীয় প্রসিকিউটার সানোয়ার হোসেন খোকন ভোক্তাদের সচেতন থাকার আহব্বান জানিয়ে বলেন, সকল ভোক্তার পণ্য কেনার সময় বিক্রিত পণ্যের ক্রয়কৃত চালান দেখার অধিকার রয়েছে। ভোক্তারা সচেতন হলে ব্যবসায়ীরা প্রতারণা করতে পারবে না। এব্যাপারে শিঘ্রই বাজারে অভিযান চালানো হকে বলে জানান তিনি।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার পিএম ইমরুল কায়েস বলেন, ভোক্তা অধিকার কর্তৃপক্ষের সাথে আলোচনা করে পদক্ষেপ গ্রহন করা হবে।

  • এই বিভাগের সর্বশেষ

    error: Content is protected !!