ঈশ্বরদীর লক্ষীকুন্ডায় ফসলি জমির মাটি ও বালু কাটার মহোৎসব

ডেইলি ভিশন টুয়েন্টিফোর অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ৩:১৮ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ৩১, ২০২২

ঈশ্বরদীর লক্ষীকুন্ডায় পদ্মার জেগে উঠা চরের ফসলি জমির মাটি ও বালু কাটার মহোৎসব চলছে। এসব মাটির বেশীরভাগ যাচ্ছে স্থানীয় অবৈধ ইটভাটায়। এতে শত শত বিঘা ফসলি জমি নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি পরিবেশ হচ্ছে দূষিত। চরাঞ্চলের এসব ফসলী জমিতে গম, খেসাড়ি, মসনেসহ বিভিন্ন সবজির আবাদ হয়। মাটি কাটার ফলে আবাদী জমির পরিমাণ ক্রমশ: হ্রাস পাচ্ছে। বিগত বছরে ওই এলাকায় বেশ কয়েকদফা অভিযান পরিচালিত হয়েছে। প্রত্যন্ত এবং শহর থেকে ওই এলাকা দূর হওয়ায় অভিযানের টিম পৌঁছানোর আগেই সটকে পড়ে মাটি ও বালু খেকো চক্র। অভিযানের সময় ধরা পড়ে দিনমজুর ও বেতনভূক্ত কর্মচারী।

লক্ষীকুন্ডা ইউনিয়নের মাটি ব্যবসায়ীদের সিন্ডিকেটের মাধ্যমে প্রতিদিন ওই এক ইউনিয়ন থেকে শত শত গাড়ি মাটি কেটে নিচ্ছে। স্থানীয় প্রভাবশালী চক্র এই অপকর্মের সাথে জড়িত থাকলেও চক্রের মূল হোতারা সবসময়ই ধরা-ছোঁয়ার বাইরে থাকে।

স্থানীয়রা জানান, চক্রটি কৃষকদের প্রলোভন দেখিয়ে ভেক্যু মেশিন দিয়ে এসব ফসলি জমির মাটি কেটে নিচ্ছে। সরেজমিন দেখা যায়, উপজেলার লক্ষীকুন্ডা ইউনিয়নের নবীনগর, দাদাপুর, বিলকেদার, কামালপুর এলাকায় ভেক্যু মেশিনের মাধ্যমে ফসলি জমির মাটি কেটে তা ট্রাক ও ট্রাক্টর করে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। চরাঞ্চলের লুট করা মাটি ও বালু ইটভাটা ও অন্যত্র পরিবহনের জন্য ইট,সুড়কি ও বালি দিয়ে মজবুত ৬টি রাস্তা নির্মাণ করা হয়েছে। এই রাস্তা দিয়ে দিনরাত চলাচল করছে ১০ চাকার ট্রাক, ড্রাম ট্রাক ও ট্রাক্টর।

এব্যাপারে বিলকেদার গ্রামের মাটি ব্যবসায়ী নামপ্রকাশ না করার শর্তে বলেন, আমার মতো আরও অনেক ব্যবসায়ী ফসলি জমির মাটি কেটে নিচ্ছেন, আগে তাদের বন্ধ করতে বলেন তারপরই আমরা বন্ধ করব।

এবিষয়ে ঈশ্বরদী উপজেলা নির্বাহী অফিসার পিএম ইমরুল কায়েস বলেন, বিগত বছরে ওই এলাকায় বেশ কয়েকদফা অভিযান চালানো হয়েছে। শহর থেকে ওই এলাকার দূরত্ব অনেক বেশী। আমরা পৌঁছানোর আগেই মাটিখেকোরা সটকে পড়ে। ভেক্যু মেশিন এবং দিনমজুর ছাড়া কাউকে পাওয়া যায় না। এবারে মাটি সরবরাহের উৎস বন্ধের পদক্ষেপ গ্রহন করেছি। রবিবার লক্ষীকুন্ডার ইটভাটায় অভিযান চালিয়ে জরিমানা করেছি। ফসলী জমির উপরিভাগের মাটি কেটে নষ্ট না করার বিষয়ে নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে। এই অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে তিনি জানিয়েছেন।

পাবনা জেলা পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালকের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করলেও তাকে পাওয়া যায় নি।