প্রতারণার শিকার ভোক্তা

ভেজাল চাউলে ঈশ্বরদী বাজার সয়লাব

ডেইলি ভিশন টুয়েন্টিফোর অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ২:১৯ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ২৭, ২০২২

ভেজাল মিনিকেট, নাজিরশাল, বাঁশমতি ও আঠাশ চাউলে এখন ঈশ্বরদী বাজার সয়লাব হয়ে গেছে। বাজারের বিভিন্ন দোকানে এসব চাউল অবাধে বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। ক্রেতারা নিত্য প্রতারিত হলেও কার্যকর কোন পদক্ষেপ গ্রহন করা হচ্ছে না। এছাড়াও সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী প্লাষ্টিকের বস্তায় চাউল বাজারজাত নিষিদ্ধ থাকলেও কেউই তা মানছেন না।

বুধবার ঈশ্বরদী বাজারের পাইকারী ও খুচরা দোকান ঘুরে দেখা যায়, প্লাষ্টিকের বস্তায় বাজারজাত করা চাউল বিক্রি হচ্ছে। বস্তার ওপরে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের নামে মোড়ককৃত মিনিকেট, নাজিরশাইল, বাসমতি ও আটাশ চাউলের নাম লেখা রয়েছে। খুচরা ব্যবসায়ীরা জানান, বস্তার ওপরে যেসব চাউলের নাম লেখা রয়েছে সেটা দেখে আমরা কিনে আনি। বিক্রির পর খরিদ্দাররা এসে অভিযোগ করেন, ভাত ভালো হয়নি। চাউল দেখতে চিকন হলেও ভাত হয় মোটা। যেসব ব্র্যান্ডের চাউলের নাম লেখা থাকে আসলে সেসব ব্র্যান্ডর চাউল নয়। কাটিং ও বাছাই মেশিনে চিকন ও চকচকে করা হয়।

অনুসন্ধানে জানা যায়, ঈশ্বরদীর জয়নগর মোকামে ও দাশুড়িয়া এবং কুষ্টিয়ার বেশকিছু অসাধু চাউল মিল মালিক অতিরিক্ত মুনাফার লোভে প্লাষ্টিক বস্তায় ভর্তি নাজিরশাল, মিনিকেট, বাসমতি,আঠাশসহ বিভিন্ন নামে প্রিন্ট করা বস্তায় এসব চাউল বাজারে সরবরাহ করছে। ঈশ্বরদী ও কুষ্টিয়া মোকামে ইতোমধ্যেই বেশ কয়েকটি কাটিং ও বাছাই মিল স্থাপন করা হয়েছে। এসব মিলে অসাধু ব্যবসায়ীরা বিভিন্ন ব্র্যান্ডের নামে কমদামী চাউল কাটিং এবং পালিশ করে বাজারজাতের মাধ্যমে অতিরিক্ত মুনাফার ভোগ করছে।

জয়নগর মোকামের সম্পদ ট্রেডার্সের মলিক মঞ্জুর রহমান আক্ষেপ করে বলেন, এদের যন্ত্রণায় আমরা ভালো চাউল বিক্রি করতে পারছিনা। এসব লিখে কি করবেন, কিছুই হবেনা। বর্তমানে ২৮-২৯ জাতের ধান বাজারে নেই। বাছাই মিলে ২৩ ও ৪৮ জাতের চাউল কাটিং ও পালিশ করে ২৮ বলে বাজারজাত করা হচ্ছে। ৪৯ জাতকে কাটারি ও একসিদ্ধ করে নাজিরশাইল বলে বাজারজাত করাছে। বিণা-৭ ধানের চাউলকে মিনিকেট বলে দেদারছে বিক্রি হচ্ছে। এসব ব্র্যান্ডের আসল চাউলের দাম বেশী, তাই একটু কমদামে এগুলো বাজারে ছাড়া হচ্ছে বলে জানান তিনি।

এবিষয়ে ভোক্তা অদিকার সংরক্ষণের স্থানীয় প্রসিকিউটর ও উপজেলা নিরাপদ খাদ্য পরিদর্শক সানোয়ার রহমান খোকন চাউলে ভেজাল ও প্রতারণার বিষয়টির সত্যতা স্বীকার করে বলেন, ২০০৯ সালের ভোক্তা অধিকার আইনের ৪১ ও ৪৪ ধারার পরিপন্থি। তিনি আরও বলেন, আমি ইতোমধ্যে চাউল কল মালিক সমিতির কর্মকর্তা ও ব্যবসায়ীদের সাথে বৈঠক করে ১৫ দিনের আলটিমেটাম দিয়েছি। এরমধ্যে সংশোধন না হলে আগামী ১ ফেব্রুয়ারী থেকে অভিযান শুরু হবে। বস্তায় নিজ মিলের ও প্রকৃত চাউলের সীল, প্লাষ্টিকের বস্তা বর্জন এবং কুষ্টিয়া থেকে আমদানিকৃত চাউল ক্রয়ের চালান থাকতে হবে বলে তিনি ব্যবসায়ী ও মিল মালিকদের জানিয়ে দিয়েছেন।