ঈশ্বরদীর সড়কে এক বছরে ১৬৮ দুর্ঘটনা: মৃত্যু ২৯, আহত ১৬৯

ডেইলি ভিশন টুয়েন্টিফোর অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ১২:৩৫ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ৭, ২০২২

ঈশ্বরদীর সড়কগুলোতে ট্রাক-বাস, সিএনজি, ভটভটি ও মোটরসাইকেলসহ বেপরোয়া গতিতে বিভিন্ন যানবাহন চলাচল করায় ক্রমশ: দুর্ঘটনা বৃদ্ধি পাচ্ছে। নতুন নতুন আইন, ট্রাফিক পুলিশ ও হাইওয়ে পুলিশ তৎপরতায় দুর্ঘটনা কমছে না। সড়কে চলাচলকারী মানুষ শঙ্কিত। ট্রাফিক আইন না মানায় বেপরোয়া গতিতে গাড়ি চলাচল স্বাভাবিক নিয়মে পরিণত হয়েছে। একারণে বিদায়ী বছর ২০২১ সালে ঈশ্বরদীর সড়ক-মহাসড়কে দুর্ঘটনা ঘটেছে ১৬১টি। দুর্ঘটনায় মারা গেছেন ২৯ জন মানুষ। অর্থাৎ প্রতিমাসে গড়ে দুই জন। এ সময়ে আহত হয়েছেন ১৬৯ জন।

এসব দুর্ঘটনা বেশির ভাগ ঘটেছে চালকের বেপরোয়া ও অতিরিক্ত গতি এবং ট্রাফিক আইন না মানার কারণে। ঈশ্বরদী ট্রাফিক, হাইওয়ে পুলিশ এবং ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স কার্যালয় সুত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

বিদায়ী বছরে ঈশ্বরদীর মহাসড়কে সড়ক দুর্ঘটনায় মারা গেছে ২৩ জন। এসব দুর্ঘটনায় মামলা হয়েছে ১৭টি। উপজেলার বিভিন্ন সড়কে দুর্ঘটনার সংখ্যা ১৪৪টি। এতে মারা গেছে ৬ জন। আহতের সংখ্যা ১৬৯ জন। সংঘটিত দুর্ঘটনা সম্পর্কে মোটরসাইকেল সংশ্লিষ্ট দুর্ঘটনা ছিল বেশি বলে সংস্থাগুলো জানিয়েছে।

তবে, বেসরকারি হিসেবে সড়ক দুর্ঘটনায় হতাহতের সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে। সড়ক-মহাসড়কগুলোতে বাস-ট্রাক, সিএনজি, মোটরসাইকেল ও অবৈধ ভটভটিসহ বেপরোয়া গতিতে যানবাহনের ধাক্কায় অহরহ হতাহত ও সড়ক দুর্ঘটনা ঘটে চলছে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, শহরের উপজেলা সড়ক, টিপু সুলতান (পাকশী-ঈশ্বরদী), আইকে (ঈশ্বরদী-কুষ্টিয়া), ঈশ্বরদী-পাবনা সড়কে বালু বোঝাই ট্রাক ছাড়াও বেপরোয়া গতিতে সিএনজি, মোটরসাইকেল চলাচল করায় দুর্ঘটনার সংখ্যা বাড়ছে।

দোকান ব্যবসায়ী হায়দার আলী বলেন, ‘ট্রাকগুলো এত বেশি গতিতে আসা-যাওয়া করে যে-দোকানে ভয়ে থাকতে হয়। কখন জানি এসব যানবাহন দোকানে ঢুকে পড়ে। অপর ব্যবসায়ী বলেন, অপেক্ষাকৃত তরুণরা বেপরোয়া গতিতে মোটরসাইকেল চালায়। শিক্ষক আমিরুল ইসলাম বলেন, শহরে বেপরোয়া গতির ট্রাক-বাস ও সিএনজির কারণে রাস্তায় বের হতে ভয় লাগে।

ফায়ার সার্ভিস এন্ড সিভিল ডিফেন্স ওয়্যার হাউজের পরিদর্শক অপু কুমার মন্ডল বলেন, ঈশ্বরদীতে যানবাহনের সংখ্যা তুলনামূলকভাবে বেশি। বিশেষ করে মোটরসাইকেলের সংখ্যা প্রচুর। অধিকাংশ চালক ট্রাফিক আইন মেনে গাড়ি চালান না। ওভারটেক আর নির্দিষ্ট গতিবেগের চাইতে দ্রুতগতিতে গাড়ি চালানোর ফলে সড়কে দুর্ঘটনা ঘটছে। এসব দুর্ঘটনায় কেউ মারা যায় এবং আবার কেউ পঙ্গু হয়ে যাচ্ছেন।

হাইওয়ে পুলিশের এসআই জাহাঙ্গির আলম বলেন, চালকের বেপরোয়া মনোভাব ও অতিরিক্ত গতির কারণে সড়কে দুর্ঘটনা হচ্ছে। সড়কে দুর্ঘটনা কারণ হিসেবে ট্রাফিক সিগন্যাল অমান্য করা, অতিরিক্ত গতিতে গাড়ি চালানো, যান্ত্রিক ত্রুটি, রাস্তা খারাপ বা খানাখন্দ থাকা, অপ্রশস্ত সড়ক, ট্রাফিক আইন সম্পর্কে ড্রাইভারদের অজ্ঞতা বা অনীহা, লাইসেন্সবিহীন অদক্ষ চালক, বৈরি আবহাওয়া বলে তিনি উল্লেখ করেন।