খরচ কম, লাভ বেশী

সরিষার আবাদ বেড়েছে ঈশ্বরদীতে

ডেইলি ভিশন টুয়েন্টিফোর অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ৩:০৬ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ২, ২০২২

সোয়াবিনের চেয়ে এখন সরিষার তেলের চাহিদা বেড়েছে। সরিষা আবাদের খরচও কম। তাই কম খরচে বেশি লাভ হওয়ায় ঈশ্বরদীতে সরিষার আবাদ বেড়েছে। ঈশ্বরদীর সালিমপুর, দাশুড়িয়া, পাকশী, সাহাপুর, মুলাডুলি, সাঁড়া ও লক্ষীকুন্ডা ইউনিয়নে এখন সরিষার আবাদ চোখে পড়ার মতো।

ঈশ্বরদীতে এবারে সরিষার বাম্পার ফলন হয়েছে। উপজেলার বিভিন্ন এলাকার বিস্তীর্ণ ফসলের মাঠ জুড়ে হলুদ ফুলের সমারোহ। সরিষার আবাদ ভালে হওয়ায় কৃষকের চোখে-মুখে ফুটে উঠেছে আনন্দের আভা।

Dailyvision24.com

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, সাত ইউনিয়নে এবারে ৭২০ হেক্টর জমিতে সরিষা আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল । কিন্তু জলাবদ্ধতার কারণে ৬৫০ হেক্টর জমিতে সরিষার আবাদ হয়েছে। ইউনিয়নগুলোর মধ্যে মুলাডুলি ও দাশুড়িয়া ইউনিয়নে সরিষার আবাদ বেশি। এখানে কৃষকরা সাধারণত ৬টি জাতের সরিষা আবাদ করে থাকে। উচ্চফলনশীল সরিষা গুলোর মধ্যে রয়েছে বারি-৯, বারি-১৪, বারি-১৭, বারি-১৮, বিনা-৯ এবং টরি-৭ জাত। মাঘের শেষ দিকে ও ফাল্গুণের শুরুতে তে থেকে সরিষা তোলা হবে। অন্যান্য ফসলের তুলনায় সরিষার উৎপাদন খরচ কম। এছাড়া বিগত কয়েক বছর ধরে বাজারে সরিষার তেলের চাহিদা বৃদ্ধি পাওয়ায় ভালো দাম পাওয়ায় চাষিরা ক্রমশ: সরিষা চাষের দিকে ঝুঁকে পড়ছেন।

বিভিন্ন এলাকায় ফসলের মাঠে গিয়ে দেখা যায়, সরিষার তে পরিচর্যার কাজে কৃষকরা ব্যস্ত সময় পার করছেন। দাশুড়িয়ার নওদাপাড়া এলাকার কৃষক শহিদুল ইসলাম সাড়ে তিন বিঘা জমিতে সরিষার আবাদ করেছেন। আমন ধান কাটার পর মাঘ, ফাল্গুন দুই মাস জমি পতিত না রেখে সেই জমিতে সাথি ফসল হিসেবে সরিষার আবাদ করেছেন। এতে বাড়তি আয় করা যাবে। এ ছাড়া সরিষা আবাদে তেমন শ্রম দিতে হয় না, খরচও কম। এখন দামও পাওয়া যায় ভালো বলে তিনি জানিয়েছেন।

মুলাডুলির কৃষক হারান শেখ জানান, তিন বিঘা জমিতে সরিষার আবাদ করে যা লাভ হয়, তা অন্য ফসলের চেয়ে বেশি। বারি-১৪ জাতের সরিষার আবাদ করেছেন। সরিষার গাছ খুব ভালো হয়েছে। মাঠের চেহারা দেখে মনে হচ্ছে, গতবারের চেয়ে বেশি উৎপাদন হবে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মিতা সরকার ঈশ্বরদীতে ক্রমশ: সরিষার আবাদ বৃদ্ধি পাচ্ছে বলে জানিয়েছেন। এখানকার মাটি অন্যান্য ফসলের মতো সরিষা চাষে উপযোগী জানিয়ে তিনি বলেন, বাজারে সরিষা তেলের চাহিদা বৃদ্ধি পাওয়ায় কৃষকরা দাম ভালো পাচ্ছে। এ কারণে এখানে এর আবাদ দিন দিন বাড়ছে। যে কোনো আবাদের চেয়ে সরিষা চাষে খরচ ও পরিশ্রম দুটিই কম লাগে। তিন মাসেরও কম সময়ের মধ্যে সরিষার ফলন পাওয়া যায়। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এ বছরও সরিষার আবাদ ভালো হবে। তিনি বলেন, বিগত কয়েক বছর ধরে ধাপে ধাপে সরিষার আবাদ বৃদ্ধি পাচ্ছে। এবারে উপজেলায় ৬৫০ হেক্টর জমিতে সরিষার আবাদ হচ্ছে। তবে ল্ক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল ৭২০ হেক্টর জমি। জলাবদ্ধতার কারণে বাকি জমিতে কৃষকরা সরিষা আবাদ করতে পারেননি। মাঠে উচ্চফলনশীল বারি-১৪ ও বারি-১৭ জাতের আবাদ বেশী। আগামীতে বারি-১৮ জাতের সরিষা আবাদ সম্প্রসারণ করা হবে। এই জাতের তেল স্বাস্থ্যসম্মত এবং ফলনও অনেক বেশী।