কেজিতে দাম বেড়েছে ১-৬ টাকা

ঈশ্বরদী মোকামে চালের বাজার অস্থিতিশীল

ডেইলি ভিশন টুয়েন্টিফোর অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ৩:০৯ অপরাহ্ণ, ডিসেম্বর ২৫, ২০২১

উত্তরাঞ্চলের অন্যতম বৃহত্তম ঈশ্বরদীর জয়নগর চালের মোকাম অস্থিতিশীল হয়ে পড়েছে। কয়েকদিনের ব্যবধানে কেজিতে দাম বেড়েছে ১ টাকা থেকে ৬ টাকা। তবে আমন মৌসমের নতুন মোটা স্বর্ণা ও ৪৯ জাতের চালের দাম কেজিতে এক টাকা থেকে দেড় টাকা বাড়লেও বোরো মৌসমুমের কথিত মিনিকেট, নাজিরশাইল, বাসমতি, সম্পা কাটারি এবং ২৮ ও ২৯ চালের দাম প্রকারভেদে কেজিতে বেড়েছে ২ থেকে ৬ টাকা।

ধানের ভরা মৌসুমে ইতোপূর্বে কখনও চালের দাম বৃদ্ধির নজির না থাকলেও এবারেই ব্যতিক্রমভাবে দাম বেড়েছে। ভরা মৌসুম এবং এবারে ধানের বাম্পার ফলন হওয়ায় ভারত হতে এলসি’র মাধ্যমে আর চাল আমদানি হচ্ছে না। যেকারণে চিকন চালের দাম বেশী বৃদ্ধি পেয়েছে। এরইমধ্যে দেশের বড় বড় ব্যবসায়ী ও অটোরাইচ মিলের মালিকরা সিন্ডিকেট করে এসব চালের দাম বাড়িয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। চিকন ধান এখন কৃষকের ঘরে না থাকলেও ওইসব ব্যবসায়ীদের গুদামে বিপুল পরিমাণ মজুদ রয়েছে বলে জানা গেছে। দাম বাড়ার সাথে সাথে অতিরিক্ত মুনাফার আশায় সিন্ডিকেট ব্যবসায়ীরা বাজারে সরবরাহও কমিয়ে দিয়েছে। সরকারকে বেকায়দায় ফেলার জন্য বিরোধী দলীয় ঘরাণার ওইসব ব্যবসায়ীরা কৃত্তিম সংকট সৃষ্টি করে চালের দাম ক্রেতার নাগালের বাইরে নিযে যাওয়ার অপচেষ্টায় লিপ্ত বলে ছোট ছোট ব্যবসায়ী ও হাসকিং মিল মালিকরা অভিযোগ করেছে। বাজারের চালের খুচরা ও পাইকারি বিক্রেতা ও হাসকিং মিল মালিকদের সাথে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে।

বৃহস্পতিবার ঈশ্বরদীর খুচরা বাজারে ৫৬ টাকার কথিত মিনিকেট ৬২ টাকা, ৬৬ টাকার বাসমতি ৭০ টাকা, ৫৬ টাকার সম্পাকাটারি ৬০ টাকা, ৪৮ টাকার ২৮ ধানের চাল ৫০ টাকা, ৪৫ টাকার ২৯ চাল ৪৬ টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে। নতুন স্বর্ণা ও ৪৯ জাতের চাল কেজিতে এক থেকে দেড় টাকা বেড়ে ৪২ টাকয় বিক্রি হচ্ছে।

বাজারের চাল ব্যবসায়ী রেজাউল ইসলাম জানান, নতুন ধান ওটার সময় ইতোপূর্বে কোনদিন দাম বাড়েনি। এবারেই ব্যতিক্রম হযেছে। লম্বা আকৃতির চিকন চাল ভরা মৌসুমের কারণে ভারত হতে আমদানি করছে না। আমদানি অব্যাহত থাকলে চিকন চালের দাম বৃদ্ধির হতো না। এখন সিন্ডিকেট করে বড় বড় ব্যবসায়ীরা চিকন চালের দাম বাড়িয়েছে। ব্যাংকের লোনের টাকায় কেনা এদের গুদামে বিপুল পরিমাণ চিকন ধান মজুদ রয়েছে। এখন তারা সুদে-আসলে টাকা তুলে নিচ্ছে। আর বেকায়দায় পড়েছে সাধারণ ক্রেতা।

ঈশ্বরদী উপজেলা চালকল মালিক সমিতির সভাপতি জুলমত হায়দার জানান, ভরা মৌসুম, এখনও মাঠে ধান রয়েছে। বুঝে উঠতে পারছি না, কেন দাম বাড়ছে। ভরা মৌসুমে দাম বাড়ার নজির নেই। এবারে বাম্পার ফলন হওয়ায় ভারত হতে এলসি’র মাধ্যমে চাল আমদানি বন্ধ রয়েছে। মোটা ধানের দাম মণ প্রতি ১০০ টাকা বাড়লেও চিকন ধানের দাম বেড়েছে ২০০ টাকা। প্রথমদিকে সরকারি খাদ্যগুদামে চাল সরবরাহ যথাযথভাবে হয়েছে। সরকার আবার মিলগুলোতে বরাদ্দ বাড়িয়ে চাল সংগ্রহের উদ্যোগ নিয়েছে। কিন্তু হঠাৎ করে ধানের দাম বেড়ে যাওয়ায় গুদামে চাল সরবরাহ থমকে গেছে।

তিনি আরো বলেন, চিকন ধান কৃষকের ঘরে এখন না থাকলেও বড় বড় ব্যবসায়ী ও অটো মিল মালিকদের গুদামে বিপুল পরিমাণ মজুদ রয়েছে। এসব ব্যবসায়ীদের বেশীর ভাগই সরকার বিরোধী। সরকারকে বেকায়দায় ফেলার জন্য এলসি বন্ধ করে এবং বাজারে চিকন চাল সরবরাহ কমিয়ে দিয়ে কৃত্তিম সংকট সৃষ্টি করে চিকন চালের দাম কেজিতে ৬ টাকা পর্যন্ত বাড়িয়ে দিয়েছে। এসব সিন্ডিকেট ব্যবসায়ী ও অটো মিল মালিকদের সাথে প্রতিযোগিতায় টিকতে না পেরে ঈশ্বরদীর পাঁচ শতাধিক হাসকিং মিল বন্ধ হয়ে গেছে বলে তিনি জানিয়েছেন।

প্রাইমারি স্কুল শিক্ষক আমিরুল ইসলাম বলেন, তেল, চিনি, ডালসহ নিত্য প্রয়োজনীয় সব জিনিষের দাম বেড়েছে মাত্রাতিরিক্ত। চালের দাম ছিল কিছুটা স্থিতিশীল। এখন চালের দামও বেড়ে গেল। যেহারে দাম বেড়েছে, বেতন বাড়েনি। কিভাবে এখন সংসার চলবে ভেবে পাচ্ছিনা।

উপজেলা খাদ্য কর্মকর্তা শরিফুল ইসলাম শাহীন জানান, কৃষকদের ধানের ন্যায্য ‍মূল্য প্রাপ্তি নিশ্চিতের জন্য সরকার চাল আমদানি নিরুৎসাহিত করতে করারোপ করে। চাল আমদানি কমে গেছে। চিকন চাল আমদানি না হওয়ায় ব্যবসায়ীরা দাম বাড়িয়েছে। তবে মোটা চালের দাম কি কারণে বেড়েছে সেটা উর্দ্ধতন কর্তৃ পক্ষ বলতে পারবে। তবে খাদ্যগুদামে এখন চাল সরকরাহ ধীরগতিতে হচ্ছে বলে জানান তিনি।