আবাদের খরচ বৃদ্ধি

রবিশস্য নিয়ে চিন্তিত ঈম্বরদীর কৃষক

ডেইলি ভিশন টুয়েন্টিফোর অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ৩:৪০ অপরাহ্ণ, ডিসেম্বর ১৯, ২০২১

ডিজেলসহ রবিশস্য আবাদের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় ঈশ্বরদীর কৃষকেরা দু:চিন্তাগ্রস্থ হয়ে পড়েছেন। আমন ধান কাটা শেষ হওয়ায় এখন কৃষকেরা গম আবাদের পাশাপাশি আলু, পেয়াজ, রসুন, খেসাড়ী, মটর, ছোলা মসুর ও শীতকালীন সবজি চাষাবাদে ব্যস্ত সময় পাড় করছেন। কিন্তু রবি মৌসুমে আবাদের যাবতীয় সরঞ্জামের সাথে শ্রমিকের মজুরি বৃদ্ধি পাওয়ায় বিপাকে পড়েছেন তারা।

কৃষকরা জানান, ডিজেলের দাম বৃদ্ধির সাথে সাথে জমিতে হাল চাষে শ্রমিকের মজুরি ও সেচ খরচ বেড়ে গেছে। আগে ট্রাক্টর ও পাওয়ার টিলার দিয়ে এক বিঘা জমিতে এক চাষ দিতে খরচ ছিল ৩০০ টাকা। ডিজেলের দাম বৃদ্ধির পর ট্রাক্টর চালক ও মালিকরা বিঘা প্রতি এক চাষ ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকা পর্যন্ত নিচ্ছেন। আর শ্রমিকের মজুরি ৪০০ টাকা থেকে বেড়ে ৬০০ টাকা হওয়ায় বিপাকে পড়েছেন কৃষকরা। শনিবার সকালে ঈশ্বরদী উপজেলার কয়েকটি স্থানে মাঠ ঘুরে দেখা যায়, বিস্তীর্ণ এলাকার মাঠ জুড়ে মসুর আবাদ ও গম চাষে নেমেছেন চাষিরা। ডিজেল চালিত ট্রাক্টর ও পাওয়ার ট্রলি এবং শ্রমিক দিয়ে জমি চাষ করা হচ্ছে। গম, পেয়াজ ও শাক-সবজির জমিতে শ্যালো ইজ্ঞিন দিয়ে পানি সেচ দেওয়া হচ্ছে।

উপ-কৃষি সহকারি এবং কৃষকরা জানান, দেশে ডিজেলের মোট চাহিদার বড় একটি অংশ ফসল উৎপাদন ও কৃষিপণ্য পরিবহনে ব্যবহার হয় । ডিজেলের দাম লিটার প্রতি ১৫ টাকা বাড়লে ফসলের উৎপাদন ব্যয় বাড়বে প্রায় ত্রিশ শতাংশ। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে কৃষি অর্থনীতি।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ঈশ্বরদীর বিভিন্ন তেল পাম্পে আগে ডিজেল প্রতি লিটার ৬৫ টাকায় বিক্রি হলেও এখন দাম ১৫ টাকা বেড়ে ৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আর ইউনিয়ন পর্যায়ের গ্রামীন হাট-বাজারে স্থানীয় খুচরা ডিজেল বিক্রেতারা আরও ৩ থেকে ৫ টাকা বেশি নিয়ে বিক্রি করছেন।

ঈশ্বরদীর সাঁড়া ইউনিয়নের কৃষক ইসলাম উদ্দিন জানান, এক বিঘা জমিতে গম চাষে সাধারনত: খরচ হয় ৮ থেকে ১০ হাজার টাকা। কিন্তু তেলের দাম ও শ্রমিকের মজুরি বৃদ্ধি এবং অন্যান্য কৃষি উপকরণের দাম বাড়ায় বিঘা প্রতি আরও ৩ থেকে ৫ হাজার টাকা বেশী থরচ হবে। উৎপাদন খরচ বাড়ায় মূলধনের অভাব দেখা দিয়েছে বলে জানান তিনি। এতে অসহায় হয়ে পড়েছেন অনেক চাষি।

ট্রাক্টর চালক সাজীদুল সরদার বাবু বলেন, গাড়ি চালিয়ে লাভ না হয়, তাহলে আমরা কিভাবে চলব। আগে তেলের দাম কম ছিল, তাই চাষের খরচ কম নেয়া হতো। এখন ডিজেলের দাম ও শ্রমিকরে মজুরি বেড়ে যাওয়ায় বিঘা প্রতি ৫০ থেকে ১০০ টাকা বেশি নেওয়া হচ্ছে।

বাংলাদেশ কৃষক সমিতির পাবনা জেলা কমিটির সাধারন সম্পাদক আহসান হাবীব বলেন, যান্ত্রিক কৃষি ব্যবস্থায় উৎপাদন খরচ অনেকটায় নির্ভর করে ডিজেলের উপর। তেলের দাম বাড়ায় বেড়েছে হাল, সেচ ও পরিবহন খরচ। পাশাপাশি সার, বীজ ও কীটনাশকের দামও বেড়েছে। কৃষকদের স্বার্থে ডিজেলের দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করে পূর্বের অবস্থায় বহাল রাখা অথবা কৃষি কাজের জন্য ডিজেলে ভর্তুকী প্রদানের দাবি জানান তিনি।