কোভিড পরিস্থিতিতে ঈদের দিনও রূপপুর পারমাণবিক প্রকল্পের কাজ চলমান ছিল

ডেইলি ভিশন টুয়েন্টিফোর অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ৯:০৮ অপরাহ্ণ, জুলাই ২৬, ২০২১

কোভিড মহামারী পরিস্থিতি থামার কোনও লক্ষণ নেই। এরপরও রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ কাজে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। যা আজ দৃশ্যমান।’  বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রী স্থপতি ইয়াফেস ওসমান সোমবার টেলিফোনে কাজের অগ্রগতির খবর নিশ্চিত আরো বলেন, গত বুধবার ঈদুল আযহার দিনেও প্রকল্পের কাজ চলামান ছিল। প্রথম ইউনিটে আগামী ১৬ সেপ্টেম্বেরের মধ্যে পারমাণবিক চুল্লি বসানোর সম্ভাবনা রয়েছে।

মন্ত্রী বলেন, গত এক বছরেরও বেশী সময় ধরে করোনা মহামারীর মধ্যে গাইড লাইন অনুযায়ী প্রথম ইউনিটের নির্মাণ কাজের অগ্রগতির সাথে সাথে দ্বিতীয় ইউনিটের কাজও সাবলীলভাবে এগিয়ে চলছে। মহামারীর শুরু থেকেই রূপপুর প্রকল্পে স্বাস্থ্যবিধি মেনে দেশী ও বিদেশী কাজ করছে। একদিনের জন্য কাজ বন্ধ রাখা হয়নি। ইতোমধ্যেই আমরা প্রকল্পে কর্মরত সকলকে টিকার আওতায় আনার পদক্ষেপ গ্রহন করেছি। রাশিয়ার সহযোগিতায় দেশীয় কর্মকর্তা ও প্রকৌশলীদের  ‘স্পুটনিক ভি’ টিকা দেয়া হচ্ছে। পর্যায়ক্রমে সকলকেই টিকা দেওয়া হবে।

Dailyvision24.com

প্রকল্প পরিচালক ড. শৌকত আকবর সিডিউল অনুযায়ী নির্মাণ কাজ এগিয়ে চলেছে জানিয়ে বলেন, দ্বিতীয় ইউনিটের রিয়্যাক্টর পাওয়ার ভেসেলে চলতি মাসের শেষের দিকে বাংলাদেশের জল সীমানায় এসে পৌঁছাবে। প্রকল্পের সার্বিক কাজের অগ্রগতি ৩৭ ভাগ এবং প্লান্টের কনসট্রাকশন ৩৮.৬৫ ভাগ সম্পন্ন হয়েছে বলে জানান তিনি। প্রথম ইউনিটের রিয়্যাক্টর ভবনের নির্মাণ কাজ ভূপৃষ্ঠের তলদেশে মাইনাস ৮.৪৫ মিটার থেকে মাইনাস ৫.৪৫ মিটার পর্যন্ত ঢালাইসহ ৩০ মিটার কাজ সম্পন্নের পর উপরিভাগের কাজ চলছে।  উপরিভাগের কাজ চলতি মাসের শেষে ৬১ মিটার পর্যন্ত উন্নিত হবে।

তিনি আরো জানান, ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানগুলোর অধীনে প্রতিদিন ২৫-৩০ হাজার শ্রমিক কাজ করছে। শ্রমিকদের স্বাস্থ্য সুরক্ষার বিষয়ে বিশেষভাবে নজর রাখা হচ্ছে। দিনে দু’বার প্রত্যেক কর্মীর স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হচ্ছে। টিকা ও চিকিৎসা সহায়তার পাশাপাশি গ্রীণসিটিতে আইসলেশন সেন্টারও খোলা হয়েছে বলে জানান তিনি।

প্রকল্পের সাইট ডিরেক্টর প্রকৌশলী আশরাফুল ইসলাম গত ২১ জুলাই ঈদের দিনেও প্রকল্পের কাজ বন্ধ ছিল না জানিয়ে বলেন, ঈদের দিন প্রথম ইউনিটে দুটি হাইড্রো এ্যাকুমুলেটর সংস্থাপন করা হয়েছে। পরবর্তীতে ২৪ জুলাই ১ম ইউনিটের রিয়্যাক্টর ভবনের ডোমের লোয়ার পার্ট স্থাপন করার ফলে এখন ইনার কনটেইনমেন্ট ওয়ালের উপরিভাগের উচ্চতা ৪৪ মিটার হতে ৫১.৭ মিটারে উন্নিত হয়েছে।

রুশ নকশা অনুযায়ী দেশের প্রথম ও বৃহত্তম পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পে স্বাস্থ্য সুরক্ষা ব্যবস্থাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে ঈশ্বরদীর রূপপুরে থার্ড প্লাস জেনারেশনের ভিভিআর ১,২০০ মেগাওয়াটের দুটি ইউনিটের নির্মাণ কাজ একযোগে এগিয়ে চলেছে। ২০২৩ সালে ইউনিট-১ এবং ২০২৪ সালে ইউনিট-২ থেকে জাতীয় গ্রীডে বিদ্যুৎ সঞ্চালনের কথা রয়েছে।