তরুণ উদ্যোক্তা দুম্বার খামারি সোহেল: কঠোর লকডাউনে কোরবানির দুম্বা নিয়ে বিপাকে

ডেইলি ভিশন টুয়েন্টিফোর অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ১১:০৭ অপরাহ্ণ, জুলাই ১০, ২০২১

দুম্বার খামার করে কোটিপতি হওয়ার স্বপ্নে বিভোর ঈশ্বরদীর তরুণ উদ্যোক্তা সোহেল হাওলাদার (৩২)। পাঁচ বছর ধরে তিনি নির্বিঘ্নে দুম্বাসহ উন্নতজাতের ছাগলের খামার পরিচালনা করছেন। এতে প্রতি বছর খরচ বাদে তিনি প্রায় ২০ লাখ টাকা উপার্জন করছেন। কোনবানির ঈদকে সামনে রেখে ৩০টি দুম্বার পাশাপাশি খামারে মূল্যবান তোতাপুরি, হরিয়ানা, পাকিস্তানী বিটল ও দেশীয় মোট ৮০টি ছাগল প্রজাতির প্রাণি মজুদ রয়েছে। কিন্তু লকডাউনে পরিবহণ বন্ধ থাকায় অতি মূল্যবান এসব কোরবানির পশু নিয়ে বেকায়দায় পড়েছেন।

Dailyvision24.com

পৌর এলাকার কাচারিপাড়ার ইব্রাহিম হাওলাদারের বড় ছেলে উচ্চ মাধ্যমিক পাশ করে বাবার সাথে ভারত থেকে পণ্য আমদানির ব্যবসায় নেমে পড়ে। রাজস্থানে যেয়ে সে দুম্বা ও তোতাপুরি প্রতিপালনে আগ্রহী হয়। বাড়িতেই গড়ে তোলে খামার। প্রথমে ঢাকা থেকে ৫টি দুম্বা নিয়ে তাঁর খামারের যাত্রা শুরু। খামারে প্রজননের পাশাপাশি প্রতিবছর দুম্বাসহ অন্যান্য ছাগল প্রজাতির প্রাণি দেশের বাইরে আমদানি করে  কোরবানির প্রতিপালন করেন বলে জানিয়েছেন।

সোহেল জানায়, ৩০টি দুম্বার মধ্যে বৃহস্পতিবার অনলাইনে যোগাযোগ করে সাতক্ষিরায় দুটি দুম্বা বিক্রি করেছেন। একটি ২ লাখ পঞ্চাশ হাজার ও আরেকটি ১ লাখ ৮০ হাজার টাকা। কোরবানির জন্য বড় সাইজের প্রায় ১১০-১২০ কেজি ওজনের দুম্বার দাম তিন লাখ টাকা। গাভীন দুম্বা ১ লাখ ৭০ হাজার থেকে ৮০ হাজার টাকা। বাচ্চা দুম্বার দাম ১ লাখ টাকা। এছাড়াও তার কাছে ১২০ কেজি ওজনের ৮টি তোতাপুরি ছাগল রয়েছে। যার দাম ৮০ হাজার থেকে এক লাখ টাকা।

সোহেল আরো জানায়, কোরবানির জন্য দেশে দুম্বার ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। কঠোর লকডাউনে পরিবহণ বন্ধ থাকায় বাহিরের পার্টি কিনে নিয়ে যেতে পারছে না। বিপুল অংকের এই পশু সম্পদ নিয়ে চরম বেকায়দায় পড়েছি।

দুম্বাসহ এসব সুন্দর প্রাণি প্রতিপালনে তেমন কষ্ট নেই এবং অসুখ-বিসূখও কম হয় জানিয়ে তিনি বলেন, এটি অত্যন্ত লাভজনক ব্যবসা। এরআগে দেশের সবখানেই তিনি দুম্বা সরবরাহ করছেন এবং বছরে খরচ বাদ দিয়ে প্রায় ২০ লাখ টাকা লাভ থাকে।
ঈশ্বরদী উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা: রফিকুল ইসলাম দুম্বা পালন অত্যন্ত লাভজনক জানিয়ে বলেন, মরু অঞ্চলের প্রাণি হলেও আমাদের পরিবেশগত কোন সমস্যা নেই।  চরাঞ্চল দুম্বা প্রতিপালনের জন্য উপযোগী জানিয়ে তিনি আরো জানান, ঘাস খাওয়ার পাশাপাশি কিছু দানাদার খাদ্যের কারণে দুম্বা পালনে খরচ কম হয়।