ঈশ্বরদীতে করোনাকে মানুষ মনে করছে ‘সিজনাল ইনফ্লুয়েঞ্জা জ্বর’

ডেইলি ভিশন টুয়েন্টিফোর অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ১২:৫৫ অপরাহ্ণ, জুন ২৯, ২০২১

কঠোর বিধিনিষেধের মধ্যেও ঈশ্বরদীতে করোনা ভাইরাস সংক্রমণের লাগাম টেনে ধরা যাচ্ছে না। প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক মানুষ করোনায় আক্রান্ত হচ্ছে। হাসপাতাল থেকে চিকিৎসাসেবা পাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। শহর থেকে এখন গ্রামেও ছড়িয়ে পড়েছে সংক্রমণ।

ঈশ্বরদীতে অনেকেই জ্বর-গলা ও মাথা ব্যথা, সর্দি-কাশি নিয়ে ঘুরছেন । চিকিৎসকের ভাষ্য, নিশ্চিত করোনার উপসর্গ হলেও নমুনা পরীক্ষা করছেন না অনেকে। মনে করছেন এ তো ‘সিজন্যাল জ্বর’। করোনা না! করোনা তো বড় বড় শহরের রোগ ! মফস্বলে ঢুকবে কেন!

কয়েক দিন ধরে সাঁড়া ইউনিয়নের পালিদেহা গ্রামের এক তরুণ জ্বর ও সর্দি কাশিতে ভুগছেন। প্রথমে করেননি করোনা পরীক্ষা। তিনি বলেন, ঠান্ডা জ্বর তো প্রতি বছরই হয়। স্বাভাবিক নিয়মেই তার এই রোগ হয়েছে। তার বাড়িসহ আশপাশের প্রায় সব বাড়িতেই জ্বর, ঠান্ডা ও সর্দি-কাশিতে ভুগছেন অনেকে। ৯ দিন পর পরীক্ষায় পজিটিভ রিপোর্ট এসছে। প্রথমেই পরীক্ষা না করানোর কারণে এখন করোনা উপসর্গ নিয়ে ঘুরছেন গ্রামের অসংখ্য মানুষ।

জ্বর, সর্দি-কাশি, গা ব্যথা ও ডায়রিয়া দেখা দিলেও বেশির ভাগ লোক ডাক্তার দেখাতে অনীহা প্রকাশ করছেন। তবে সচেতনদের মধ্যে বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। তারা বলছেন, সংক্রমণের শৃঙ্খল ভেঙে দিতে না পারায় এমন পরিস্থিতি উদ্ভব হয়েছে। উপসর্গ থাকলেও অধিকাংশ মানুষ করোনা পরীক্ষায় তেমন আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। ফলে দিনকে দিন করোনা সংক্রমণ ঝুঁকি বেড়েই চলছে।

ঈশ্বরদীতে এখন প্রতিদিনই হাসপাতালের অ্যান্টিজেন টেষ্টে করোনা রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। পারিবারিক-সামাজিক ও ধর্মীয় অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ বেড়ে গেছে। স্বাস্থ্যবিধির বিষয়েও উদাসীনতা চোখে পড়ার মতো। শহর ও গ্রামগুলোর প্রতিটি বাড়িতেই জ্বর-সর্দি নিয়ে কেউ না কেউ চিকিৎসা নিচ্ছে। উপসর্গ দেখা দিলেই যে করোনা পরীক্ষা করাতে হবে, এ বিষয়ে স্বাস্থ্য বিভাগের ওয়ার্ড পর্যায়ের কর্মীদের প্রচারণা চালাতে হবে ।