ট্রেন চলাচল বন্ধের আলটিমেটাম

রেলওয়ের রানিং কর্মচারীদের রানিং ভাতা পুনঃপ্রতিষ্ঠার দাবীতে পাকশীতে বিক্ষোভ

ডেইলি ভিশন টুয়েন্টিফোর অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ২:২৮ অপরাহ্ণ, জুন ১৪, ২০২১

রেলওয়ের রানিং কর্মচারী ট্রেন চালক, পরিচালক, টিটিই ট্রেন অপারেশনের সাথে সম্পৃক্তরা রানিং ভাতা (মাইলেজ) পুনঃপ্রতিষ্ঠার দাবীতে বিক্ষোভ মিছিল, সমাবেশ ও স্মারকলিপি প্রদান করেছে। পশ্চিমাঞ্চল রেলের পাকশী বিভাগীয় ব্যবস্থাপকের কার্যালয়ের সামনে সোমবার (১৪ জুন) এই বিক্ষোভ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।

Dailyvision24.com

বাংলাদেশ রেলওয়ের ট্রেন চালক লোকোমাস্টারদের সংগঠন বাংলাদেশ রেলওয়ে রানিং স্টাফ ও শ্রমিক কর্মচারী সমিতি (রেজি-বি ১৮৭৮) আয়োজিত বিক্ষোভে রানিং ভাতা বন্ধ করে দেওয়ায় তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ প্রকাশ করা হয়। পাকশীতে বিক্ষোভ মিছিল শেষে সম্মিলিত সমাবেশে রেলওয়ের রানিং ষ্টাফরা জানান, যে কোন মূহুর্তে ট্রেন চলাচল বন্ধ হতে পারে।

Dailyvision24.com

সমাবেশে ট্রেনের রানিং ষ্টাফরা বলেন, দিন-রাত, ঝড়-বৃষ্টি মহামারী উপেক্ষা করে রেলওয়েকে গতিশীল রাখতে জীবনের ঝুকি নিয়ে তারা দেশের এক প্রান্ত থেকে আরেক প্রান্তে ট্রেন যাত্রীদের সেবাদানসহ দেশের অর্থনীতিতে সম্মুখ সারীর যোদ্ধা হিসাবে কাজ করে আসছে। ১০৩৯ মোতাবেক ১০০ মাইল বা প্রতি ৮ ঘন্টা ট্রেন পরিচালনার জন্য রানিং স্টাফগণ ১ দিনের মূল বেতনের সমপরিমান অর্থ রানিং ভাতা / মাইলেজ হিসাবে প্রাপ্য হবেন। একজন রেলওয়ে কর্মচারী সপ্তাহে সর্বোচ্চ ৮৪ ঘন্টার বেশি ডিউটি করবে না। এ সাপ্তাহিক রবিবার বিশ্রামের দিন ও উল্লেখ আছে। অর্থাৎ রবিবার বা সাপ্তাহিক যেকোনো বন্ধের দিনে ডিউটি করলে Holiday মাইলেজ প্রাপ্তির বিধান আছে। যা বর্তমানে বিলুপ্ত। হোল্টেজ মাইলেজ ও বিলুপ্ত। একজন রানিং স্টাফ দৈনিক ১২ ঘন্টা করে মাসে সর্বোচ্চ ৩৬০ ঘন্টা (৪৫ দিন মাইলেজ) কর্মঘন্টার বিধান আছে। কিন্তু বাংলাদেশ রেলওয়েতে ট্রেন চালক স্বল্পতার কারণে প্রতি মাসে লোকোমাস্টারদের ৪৮০ ঘন্টা (৬০ দিন মাইলেজ ) থেকে ৫৬০ ঘন্টা (৭০ দিন মাইলেজ ) বা তাঁর অধিক হয়ে থাকে। বর্তমানে অর্থ মন্ত্রণালয় ঘোষিত সিস্টেমে রানিং কর্মচারীদের মাইলেজ তথ্য ইনপুটের ক্ষেত্রে জটিলতা দেখা দিয়েছে। অর্থাৎ সফটওয়্যারটি ৩০ দিনের বেশি মাইলেজ ভাতা ইনপুট নিচ্ছে না। এ সংক্রান্ত জটিলতার কারণে গত ১ জুন প্রধান যন্ত্র প্রকৌশলী (পূর্ব ও পশ্চিম) হতে অতিরিক্ত মহাপরিচালক (অর্থ), রেলভবনে চিঠি দেয়া হয়েছে বলে তারা জানিয়েছেন।

 

সমাবেশ শেষে পাকশী বিভাগীয় ব্যবস্থাপক (ডিআরএম) শহিদুল ইসলামের নিকট স্মারকলিপি প্রদান করা হয়।

বাংলাদেশ রেলওয়ে রানিং স্টাফ ও শ্রমিক কর্মচারী সমিতি কেন্দ্রিয় কমিটির সহ-সভাপতি সেলিম হাওলাদার, যুগ্ম সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান, সহ-সাধারণ সম্পাদক রবিউল ইসলাম, সাংগাঠনিক সম্পাদক আব্দুল হালিম, কার্যকরী সদস্য আব্দুর রাজ্জাক, গার্ড কাউন্সিলের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক আফজাল হোসেন, রেলশ্রমিক লীগের ঈশ্বরদী শাখার সাধারণ সস্পাদক আসলাম উদ্দিন খান, রাজবাড়ী শাখার সাধারণ সম্পাদক শফিকুল ইসলাম, রাজশাহী শাখার সভাপতি মোহাম্মদ আসাদ প্রমূখ।

পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের খুলনা, রাজবাড়ি, রাজশাহী, পার্বতিপুর ও ঈশ্বরদী শাখার রানিং স্টাফ ও শ্রমিক কর্মচারী সমিতি, গার্ড কাউন্সিল ও টিটিই এসাসিয়েশনের নেতারা এসময় উপস্থিত ছিলেন।