রূপপুরে আলোয় আলোকিত ঈশ্বরদীর জনপদ

ডেইলি ভিশন টুয়েন্টিফোর অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ৩:২৯ অপরাহ্ণ, জুন ১৩, ২০২১

‘এইতো ৫-৬ বছর আগেও দেশের প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলের মতই ছিল আমার জন্মভূমি ঈশ্বরদীর রূপপুর। মানুষের জীবনযাত্রা ছিল শান্ত, স্থির ও স্বাভাবিক। সন্ধ্যা নামলেই  নিকষ কালো অন্ধকারে নিমজ্জিত হতো এলাকা। এখন চিত্র সম্পূর্ণই বদলে গেছে। স্বপ্নেও ভাবতে পারিনি, এই অজগাঁয়ে অত্যাধুনিক ২০তলা দৃষ্টিনন্দন এতাগুলো ভবন নির্মাণ হবে। আলো আর আলোতে আলোকিত হয়ে থাকবে এলাকা’।

কথাগুলো বলছিলেন রূপপুর গ্রামে জন্মগ্রহনকারী পাবনা জেলা পরিষদের সদস্য সাইফুল আলম বাবু মন্ডল। এখানে চলমান পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের ব্যাপক ও বহুমুখী কর্মযজ্ঞ পুরোপুরি বদলে দিয়েছে শুধু রূপপুরই নয়, ঈশ্বরদী অঞ্চলে বসবাসরত মানুষের জীবনযাত্রা। তাই রূপপুরের আলোয় আলোকিত হয়েছে ঈশ্বরদী।

Dailyvision24.com

প্রকল্প সূত্রে জানা যায়, ৩৬.১১ একর জমির উপর ২০১৬-২১ মেয়াদে গ্রীণসিটি নির্মাণ কাজ পূর্ণোদ্যমে চলছে। গ্রীণসিটির কাজ বাস্তবায়ন করছে বাংলাদেশ পরমানু শক্তি কমিশন ও গণপূর্ত অধিদপ্তর। গ্রীণসিটির মাষ্টার প্লান অনুযায়ী আবাসনের জন্য মোট ২১টি বহুতল বিশিষ্ঠ ভবন নির্মাণের কাজ চলছে। এগুলোর মধ্যে ২০ তলা বিশিষ্ঠ ১২টি, ১৬তলা বিশিষ্ঠ ৭টি এবং ১৫তলা বিশিষ্ঠ ২টি ভবন রয়েছে। ১৫ তলার ২টি ভবনে ১,৫০০ বর্গফুটের ফ্লাট থাকছে।

১,২৫০ বর্গফুটের ফ্লাটের ১৬টি এবং ৮৫০ বর্গফুটের ফ্লাটের ২০ তলা বিশিষ্ঠ ৩টি ভবন রয়েছে। ডরমেটরি কাম মাল্টিপারপাস কমার্শিয়াল ২০তলা (বিশতলা ভিত) ১টি ভবন নির্মাণের টেন্ডার ইতোমধ্যেই হয়ে গেছে। ফায়ার ষ্টেশন নির্মাণ কাজ সম্পন্ন হয়েছে। ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্লান্ট ও সোয়ারেজ ট্রিটমেন্ট প্লান্টও গ্রীণসিটিতে থাকছে। এছাড়াও গ্রীণসিটিতে ১টি দোতালা মসজিদ ভবন, ছয় তলা বিশিষ্ঠ স্কুল ভবন, দ্বিতল সাব-ষ্টেশন, জেনারেটর, পাম্প হাউজ ভবন, খেলার মাঠ, গেষ্ট হাউজ এবং ফোয়ারা নির্মাণের পরিকল্পনাও রয়েছে। প্রকল্পে কর্মরত দেশী ও বিদেশীরা এই গ্রীণসিটিতে বসবাস করবেন।

এপর্যন্ত অনেকগুলো আবাসিক ভবনের কাজ সম্পূর্ণ শেষ হয়েছে। রূপপুরের আকাশে মাথা তুলে দাঁড়িয়েছে সম্পূর্ণ শেষ হওয়া ভবন। বিদ্যুৎ প্রকল্পে কর্মরত ৩,০৭৫ রাশিয়ানসহ বিদেশীরা বসবাসও শুরু করেছেন। অন্যান্য আরো বেশ কয়েকটি ভবনের কাজ চলমান রয়েছে। আলাদাভাবে একটি পাওয়ার সাব ষ্টেশন নির্মাণ হয়েছে। আবাসিক কোয়ার্টারগুলোতে আধুনিক মানের সকল সুযোগ-সুবিধার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। সরেজমিনে আবাসিক ইউনিটগুলো ঘুরে দেখা যায়, সকল ইউনিটেই আসবাবপত্র সরবরাহ হয়েছে। এসি, ইন্টারনেট সংযোগ, টেলিফোন, রান্নার গ্যাস সরবরাহ এমনকি বাথরুমে গিজারের ব্যবস্থাও সকল ফাটেই রাখা হয়েছে। আধুনিকতার সবকিছুই আবাসিক কোয়ার্টারে বিদ্যামান।

অন্য ভবনগুলোর নির্মাণ কাজে কর্মরত রয়েছেন কয়েক হাজার শ্রমিক। দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞ, কর্মকর্তা ও কর্মীদের কর্মচাঞ্চল্যে প্রায় ২৪ ঘন্টাই মূখরিত থাকে গ্রীণসিটি এলাকা। সন্ধ্যা হলেই এখন আর আগের মত অন্ধকার নামে না রূপপুরে। রাতের নিকষ কালো আঁধার উদ্ভাসিত হয় ফাড লাইটের উজ্জ্বল আলোয়।

গ্রীণসিটির আশেপাশে এরই মাঝে গড়ে উঠেছে বার, রেস্টুরেন্ট এবং বিদেশী নাগরিকদের নিত্য প্রয়োজনীয় সামগ্রীর দোকান। বিদেশী নাগরিকদের পদচারণায় ঈশ্বরদী শহরের বাজার এখন সবসময় মূখরিত থাকে।

রূপপুরের প্রাইমারী শিক্ষক আমিরুল ইসলাম বলেন, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ আমাদের কাছে স্বপ্নের মতো ছিল। এটি যে বাস্তবে রূপ লাভ করবে তা কখনো কল্পনাও করতে পারিনি। যে আঙ্গিকে আবাসন সিটি নির্মাণ হচ্ছে তা দেখে আমরা হতবাক। টেলিভিশনেই এধরণের আধুনিক ভবন দেখেছি। বিদেশের আদলে এখন বাড়ির পাশেই নির্মাণ হচ্ছে এই আধুনিক সিটি। তাই রূপপুরের বাসিন্দা হয়ে আমরা এখন গর্ববোধ করি। তিনি আরো বলেন, গুগুলে রূপপুর লিখে সার্চ দিলেই এখন আমাদের এলাকা খুঁজে পাওয়া যায়।