তীব্র ক্ষরায় ঈশ্বরদীতে লিচুর ব্যাপক ক্ষতি: অপুষ্ট দানার রং ধরা লিচুই বাজারে উঠেছে

ডেইলি ভিশন টুয়েন্টিফোর অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ৯:৩০ পূর্বাহ্ণ, মে ৩, ২০২১

লিচুর রাজধানী বলে ঈশ্বরদীতে তীব্র ক্ষরায় লিচুর গুটি ঝরে পড়ায় বাগান মালিকরা চরম ক্ষতিগ্রস্থ। অনাবৃষ্টি এবং তীব্র ক্ষরার কারণে লিচুর দানা অপুষ্টই রয়ে গেছে। প্রখর রোদে পুড়ে এরমধ্যেই লিচুর গায়ে রং ধরতে শুরু করেছে। আর এই সামান্য রং ধরা অপুষ্ট লিচুই বাজারে উঠেছে

বেশ কিছুদিন ধরে ঈশ্বরদীর তাপমাত্রা ৩৮-৪০ ডিগ্রী সেলসিয়াসের মধ্যে উঠানামা করছে। বৃষ্টির দেখা নেই। ক্ষরার তীব্রতা ও বৈরী আবহাওয়ায় লিচুর গুটি আশঙ্কজনক হারে ঝরে পড়েছে। এই অবস্থায় দিশেহারা লিচুচাষিরা। সারা দেশের চাহিদা মেটাতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছে ঈশ্বরদীর সুস্বাদু বোম্বাই লিচু।  এবারে গাছে মাত্র ৩০ ভাগ বোম্বাই লিচুর গুটি দেখা গিয়েছিল। এরই মধ্যে তীব্র ক্ষরা পরিস্থিতি ও আবহাওয়ার বৈপিরিত্যে লিচুচাষিদের রঙিন স্বপ্ন অঙ্কুরেই বিনষ্ট হয়েছে।

ঈশ্বরদীর লিচুর আবাদে প্রসিদ্ধ সাহাপুর, আওতাপাড়া, বাঁশেরবাধা, জয়নগর, মানিকনগর ও মিরকামারী শেখের দাইড় এলাকায় লিচুর বাগান ঘুরে এই চিত্র দেখা গেছে। সোমবার বাগানে গিয়ে দেখা যায়, এরইমধ্যে গাছ থেকে ঝরে পড়েছে বিখ্যাত বোম্বাই লিচুর গুটি ও কুঁড়ি। কিছু কিছু গাছে মোজাফ্ফর ( দেশী গুটি) জাতের অপুষ্ট ও ছোট আকৃতির লিচুতে লাল বর্ণ ধারণ করতে শুরু করেছে। ছোট দানার অপুষ্ট লিচুতে রং ধরায় লিচু চাষীরা চরম হতাশাগ্রস্থ।

জাতীয় পদকপ্রাপ্ত লিচু চাষী আব্দুল জলিল কিতাব মন্ডল জানান, গাছে মুকুল না আসা, তীব্র ক্ষরায় লিচুর গুটি ঝরে পড়া  এবং দানা পুষ্ট না হওয়ায় চাষীদের এবারে সর্বশান্ত হয়ে পড়বে। জলবায়ু পরিবর্নের প্রভাব এবং তাপমাত্রা বেশি থাকার কারণে মুকুল অঙ্কুরিত না হওয়ার সাথে সাথে গুটি ঝরে পড়েছে এবং দানা অপুষ্ট রয়ে গেছে। রং ধারা অপুষ্ট দানার লিচু আর পুষ্ট বা বড় হওয়ার সম্ভাবনা নেই জানিয়ে তিনি বলেন, এই পরিস্থিতিতে ঈশ্বরদীতে লিচু গবেষণাগার স্থাপন অত্যন্ত জরুরী বলে জানান তিনি।

এদিকে হঠাৎ করেই বাজারে অপুষ্ট দানার সামান্য রং ধরা লিচু বাজারে উঠেছে। একশত লিচু ২৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে । লিচু বিক্রেতা হামজা জানান, এর আগে কোনদিন এরকম অপুস্ট ও ছোট দানার লিচু বিক্রি করিনি। অভাবগ্রস্থ কোন কোন চাষী টাকার প্রয়োজনে এবং বেশী দাম পাওযার আশায় লিচু ভেঙ্গে বাজারে নিয়ে এসেছে। তবে, লিচুর অপুষ্ট দানা দেখে ক্রেতারা কিনতে চাচ্ছে না। ছোট ছেলেমেযেদের চাপে কেউ কেউ কিনছেন বলে জানান তিনি। ##