ঈশ্বরদীর কৃষিতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব

ডেইলি ভিশন টুয়েন্টিফোর অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ১০:০৬ পূর্বাহ্ণ, এপ্রিল ১৪, ২০২১

কৃষিতে সমৃদ্ধ ঈশ্বরদীর কৃষিতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব পড়তে শুরু হয়েছে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে শস্যের গুণাগুণ ও উৎপাদনের পরিমাণে পরিবর্তন আসছে। সন্ধ্যায় গড়ম এবং শেষ রত্রিতে ঠান্ডাসহ আরো কিছু কারণে ইতোমধ্যেই বোম্বাই লিচু, বোরো ধান, গম, ভূট্টা, নারিকেল, পেয়াড়া, বড়ইসহ বিভিন্ন সবজিতে নতুন নতুন রোগবালাই ও পোকার উপদ্রব দেখা দিয়েছে। ফলে কৃষিতে কীটনাশক ও সারের প্রয়োগ বাড়িয়েও কাঙ্খিত ফল পাওয়া যাচ্ছে না। ঈশ্বরদী উপজেলা কৃষি অফিস, কৃষক ও কৃষি সংশ্লিষ্ঠদের সাথে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে।
কৃষিক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখায় ঈশ্বরদীর ১৬ জন কৃষক জাতীয় পদক অর্জন করেছেন। তাপমাত্রা বৃদ্ধি জলবায়ু ও আবহাওয়ার স্বাভাবিক অবস্থা অস্বাভাবিক ও অস্থিতিশীল হওয়ায় ঈশ্বরদীর কৃষকরা এখন চরম দুঃশ্চিন্তাগ্রস্থ বলে বাংলাদেশ কৃষক উন্নয়ন সোসাইটির সভাপতি ও জাতীয় পদকপ্রাপ্ত কৃষক সিদ্দিকুর রহমান ময়েজ ওরফে কুল ময়েজ জানিয়েছেন। তিনি বলেন, দিন যতই যাচ্ছে জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে নতুন নতুন পোকার আগমন এবং রোগবালাই দেখা যাচ্ছে। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে জানুয়ারীর মাঝামাঝিতে শীতের প্রকোপ কমে তাপমাত্রা বৃদ্ধি পাওয়ায় বোম্বাই লিচুর গাছে মাত্র এক-তৃতীয়াংশ মুকুল এসেছে। সাম্প্রতিক সময়ে মন্দ হাওয়া ও ব্লাষ্ট রোগের কারণে বোরা ধান চিটা হয়ে গেছে। ধানের ফুল ফোটা বা পরাগায়ণের সময় তাপমাত্রা সর্বোচ্চ ৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত সহনশীল বলে তিনি জানান।
বুধবার (১৪ এপ্রিল) ঈশ্বরদীর তাপমাত্রা ৩৮.৫ ডিগ্রী সেলসিয়াসে উঠেছে। মাঝারি তাপপ্রবাহ বিরাজ করছে বলে আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে। এবারে ক্ষরা পরিস্থিতি এই এলাকায় সময়ের অনেক আগে থেকেই শুরু হয়েছে। বৃষ্টির দেখা নেই। ক্ষরার কারণে তিল, মুগ, বোনা আউশ এবং সবজি বপনে দেরী হচ্ছে । এই অবস্থাও জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বলে ঈশ্বরদী কৃষি অফিস জানিয়েছে।
ঈশ্বরদী উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ আব্দুল লতিফ জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ঈশ্বরদীর কৃষিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে শুরু করেছে বলে জানিয়েছেন। নতুন নতুন রোগ বালাই ও পোকার উপদ্রবে শস্যের গুণাগুণ ও উৎপাদনে পরিবর্তনের আশংকা প্রকাশ করেছেন। ভূট্টার ক্ষেত্রে ‘ফলআর্মিওয়াম’ পোকা এবং গমে ‘ ব্লাষ্ট ’ রোগের প্রাদুর্ভাব ঘটেছে। গমের ব্লাষ্ট রোগ প্রতিরোধের জন্য তিনি কৃষকদের নতুন সহনশীল জাত ‘বারিগম-৩৩’ ব্যবহারের পরামর্শ দিয়েছেন।
কৃষিবিদ আব্দুল লতিফ আরো বলেন, নারিকেল গাছে নতুন ‘রবজ স্পাইলিং ফ্লাই’ পোকার আগমন ঘটেছে। এই পোকা পাতার রস চুষে খায় এবং হানিডিউ নি:সরণ’ করে। এতে ‘শূতিমূল ছত্রাক’ জন্মে পাতা কালো হয়ে যাচ্ছে। যেকারণে ‘ফালক সংশ্লেষণ’ প্রক্রিয়া সংঘঠনে বাধাগ্রস্থ হচ্ছে। গাছ খাদ্য তৈরী করতে পারছে না। ফলে নারিকেল গাছ দূর্বল হয়ে মারা যাচ্ছে। একই সমস্যা পেয়াড়া ও কলাগাছেও কিছুটা দেখা গেছে বলে জানান তিনি।
ঈশ্বরদীর কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে টেকসই অবস্থানে টিকিয়ে রাখার জন্য পদকপ্রাপ্ত কৃষক আব্দুর বারী ওরফে কপি বারী সহনশীল জাত উন্নয়নে জোর দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। সেইসঙ্গে কৃষকের হাতের নাগালে যেন সব কৃষি উপকরণ ও সর্বশেষ কৃষি প্রযুক্তি সহজলভ্য হয়, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। অন্যথায় এখনই প্রতিকারের ব্যবস্থা না করলে সামগ্রিক জনজীবনে এটি দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলবে বলে তিনি মন্তব্য করেছেন।