৫০ বার তোপধ্বনির মাধ্যমে ঈশ্বরদীতে স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীর আনুষ্ঠানিকতা শুরু

ডেইলি ভিশন টুয়েন্টিফোর অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ৪:১০ পূর্বাহ্ণ, মার্চ ২৬, ২০২১

ভোরে সুর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে েআলহাজ্ব মোড় সড়কদ্বীপে বিজয় স্তম্ভে ৫০ বার তোপ ধ্বনির মাধ্যমে ঈশ্বরদীতে স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপন শুরু হয়েছে।

এসময় পাবনা-৪ আসনের জাতীয় সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা নূরুজ্জামান বিশ্বাস, উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা নায়েব আলী বিশ্বাস, পৌরসভার পক্ষে মেয়র ইসাহক আলী মালিথা, উপজেলা প্রশাসনের পক্ষে ইউএনও পি এম ইমরুল কায়েস, পুলিশ বিভাগের পক্ষে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ফিরোজ কবীর ও অফিসার ইনচার্জ আসাদুজ্জামান, সুগারক্রপ গবেষণা ইনস্টিউটের মহাপরিচালক ড. আমাজদ হোসনসহ সরকারি বিভিন্ন দপ্তর স্বাধীনতা যুদ্ধে নিহতদের প্রতি ফুল দিয়ে গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

Dailyvision24.com

বিজয়স্তম্ভে ঈশ্বরদীবাসীর উদ্দেশ্যে বক্তব্য রাখেন বীর মুক্তিযোদ্ধা নূরুজ্জামান বিশ্বাস এপি।

পরে মুক্তিযোদ্ধা সংসদ, ঈশ্বরদী উপজেলা আওয়ামী লীগ, পৌর আওয়ামী লীগ, মহিলা আওয়ামী লীগ, ঈশ্বরদী পৌরসভা, ঈশ্বরদী প্রেসক্লাব, ঈশ্বরদী মহিলা কলেজ, শ্রমিক লীগ, কৃষক লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ, যুব মহিলা লীগসহ বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন।

Dailyvision24.com

উপজেলা পরিষদের পক্ষ হতে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়।

স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী :

স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী ও জাতীয় দিবস আজ। ৫০ বছর আগে একটি রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের মাধ্যমে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর কবল থেকে মুক্তি লাভ করে বাংলাদেশ। আজ মহান স্বাধীনতা দিবস। বাঙালি জাতির ইতিহাসে সর্বশ্রেষ্ঠ অর্জন—একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা।

সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রামের স্ফুলিঙ্গে উজ্জীবিত সশস্ত্র জনযুদ্ধের মধ্য দিয়ে অর্জিত হয়েছে আমাদের মুক্তির ইতিহাস—স্বাধীনতার ইতিহাস। স্বাধীনতার ইতিহাস ৩০ লাখ শহিদের আত্মদান আর ২ লাখ মা-বোনের ত্যাগ-তিতিক্ষা এবং কোটি বাঙালির আত্মনিবেদন ও সংগ্রামের গৌরবগাথা, গণবীরত্বের ইতিহাস।

স্বাধীন বাংলাদেশের অভিযাত্রায় এক মহাসন্ধিক্ষণ অতিক্রম করছে আমাদের প্রিয় মাতৃভূমি। আজ বাংলাদেশ স্বাধীনতার ৫০ বছর পূর্ণ করছে। কষ্টার্জিত স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব সংহত করার নতুন শপথে বলিয়ান হওয়ার দিন আজ। বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী ‘মুজিববর্ষের’ মাহেন্দ্রক্ষণে উদ্যাপিত হচ্ছে ‘স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী’। এটি সমগ্র বাঙালি জাতির জন্য এক আনন্দঘন গৌরবের অনুভূতি। বঙ্গবন্ধুকন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে উন্নয়নের অগ্রযাত্রায় একের পর এক মাইলফলক অর্জন স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপনকে মহিমান্বিত করেছে।

বাঙালির শৃঙ্খলমুক্তির দিন আজ। বিশ্বের বুকে লাল-সবুজের পতাকা ওড়ানোর দিন। পরাধীনতার শৃঙ্খল ভেঙে ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষিত হয়েছিল। এরপর দীর্ঘ ৯ মাসের মুক্তিযুদ্ধে একসাগর রক্তের বিনিময়ে স্বাধীনতা অর্জন তার চূড়ান্ত পরিণতি। রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধের সূচনার সেই গৌরব ও অহংকারের দিন আজ। স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষ্যে ২৬ মার্চ থেকে আগামী ১৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত বর্ণাঢ্য কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। আজ জাতীয় প্যারেড স্কয়ারে ব্যাপক আয়োজনে থাকবেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। রাষ্ট্রপতি অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি থাকবেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এতে সভাপতিত্ব করবেন।

দিবসটি যথাযোগ্য মর্যাদায় উদ্যাপনের লক্ষ্যে জাতীয় পর্যায়ে স্বাস্থ্যবিধি মেনে নানা কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। আজ ঢাকাসহ সারা দেশে প্রত্যুষে ৫০ বার তোপধ্বনির মাধ্যমে দিবসটির সূচনা হবে। সরকারি, আধা সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও বেসরকারি ভবনে সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হবে এবং গুরুত্বপূর্ণ ভবন ও স্থাপনাসমূহ আলোকসজ্জায় সজ্জিত করা হবে। ঢাকা ও দেশের বিভিন্ন শহরের প্রধান সড়ক ও সড়কদ্বীপসমূহ জাতীয় পতাকা ও অন্যান্য পতাকায় সজ্জিত করা হবে। ##