ঈশ্বরদীতে অবৈধ বালুমহাল বন্ধে পুলিশের উদ্যোগ: অবৈধ বালু বোঝাই ড্রাম ট্রাকসহ আটক ৪

ডেইলি ভিশন টুয়েন্টিফোর অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ১২:২৪ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ২৪, ২০২১

অবশেষে ঈশ্বরদীর অবৈধ বালুমহাল বন্ধে ঈশ্বরদী থানা পুলিশ উদ্যোগ গ্রহন করেছে। বুধবার অবৈধ বালু বোঝাই তিনটি ড্রামট্রাকসহ ৪ জনকে আটক করেছে রূপপুর ফাঁড়ির পুলিশ। চররূপপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় সংলগ্ন পোস্টে ডিউটিরত এসআই আতিকুল ইসলামের নেতৃত্বে পুলিশ ফাঁড়ির সদস্যরা ড্রামট্রামগুলো আটক করে।
ঈশ্বরদীর পদ্মা নদী তীরবর্তি বেশ কয়েকটি প্রভাবশালীদের ছত্রছায়ায় দীর্ঘদিন ধরে নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন এবং চরের ফসলী জমি বিনষ্ট করে অবৈধ ইটভাটার জন্য মাটি কাটার মহোৎসব চলছিল। এসব বালু ও মাটি নিয়ে ঈশ্বরদীর বিভিন্ন এরাকায় দাপিয়ে বেড়ায় ৪০-৫০ টন ধারণ ক্ষমতার ড্রাম ট্রাক। রাস্তার ধারণ ক্ষমতার চেয়ে বেশী ওজনের ট্রাক চলাচল করায় রাস্তাগুলোর বেহাল অবস্থা। ড্রাম ট্রাক চলাচল প্রতিরোধে লক্ষীকুন্ডা ও সলিমপুর ইউনিয়নে এলজিইডি’র উদ্যোগে লোহার বার পোস্ট বসানো হলেও সম্প্রতি রাতের আঁধারে এই বার পোস্ট গুলো ভেঙ্গে ফেলা হযেছে।
মাঝে-মধ্যে প্রশাসেনর উদ্যোগে অবৈধ বালুমহাল ও ইটভাটায় অভিযান পরিচালিনা করা হলেও প্রশাসন ফিরে আসার পর আবারো চালু হয় অবৈধ বালু উত্তোলন এবং চরের কৃষি জমির মাটি কাটার কাজ। এই অবস্থায় ঈশ^রদী থানা পুলিশ বালু ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন প্রয়োগে বালু ও অবৈধ মাটি বহনকারী ট্রাক ও ড্রাম ট্রাক আটকের সিদ্দান্ত গ্রহন করে অভিযান শুরু করেছে।
পুলিশ জানায়, লক্ষীকুন্ডা ইউনিয়ন হতে তিনটি বালুবোঝাই ড্রাম ট্রাক ও একটি ট্রাক রূপপুর মোড়ের দিকে আসার সময় ট্রাকগুলো থামিয়ে বালুর উৎস এবং নদী হতে বালু উত্তোলনের বৈধ কাগজপত্র দেখতে চাইলে তা দেখাতে ব্যর্থ হয়। ইজারা সংক্রাপ্ত কোন কাগজপত্র বা পরিবহনের কোন বৈধ কাগজপত্র দেখাতে না পারায় এসময় তিনটি ড্রামট্রাক মোট ৪টি ট্রাকসহ ৪ জনকে আটক করা হয়।
আটককৃতরা হলো ছলিমপুর ইউনিয়নের আতিয়ার সরদারের ছেলে বাদশা সরদার(৫০), আটঘরিয়া উপজেলার সোনাকন্দর গ্রামের মৃত রোকমান হোসেনের ছেলে শাহাদত হোসেন(৯০), যশোরের অভয়নগর থানার বাশুয়ারী গ্রামের মৃত মিজানুর শেখের ছেলে এনামুল শেখ(২২) এবং নাটোরের লালপুর থানার মহেশ্বর টাঙ্গাইলপাড়ার আনোয়ার হোসেনের ছেলে সবুজ আলী(২১)। এঘটনায় থানায় মামলা দাযের হয়েছে।
ঈশ্বরদী থানার অফিসার ইনচার্জ আসাদুজ্জামান আসাদ জনান, বালু ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন ২০১০ এর ১৫ ( ১ ) ধারা বলে ঈশ্বরদী থানা পুলিশ অবৈধ বালমহাল ও মাটি কাটা এবং পরিবহন করা বন্ধে উদ্যোগ গ্রহন করেছে। দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা এই অববস্থাপনা বন্ধ করা দরকার জানিয়ে তিনি বলেন, যেহেতু বালু ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন ২০১০ রয়েছে, সেহেতু পুলিশ বিভাগই আইন প্রয়োগ করে ব্যবস্থা গ্রহন করবে।
জানা গেছে, ঈশ্বরদী উপজেলাধীন পদ্মানদী তীরবর্তী লালনশাহ সেতু , হার্ডিঞ্জ ব্রীজসহ পদ্মানদী তীরবর্তী লক্ষীকুন্ডা, সাঁড়াসহ বিভিন্ন এলাকাকে হুমকির মুখে ফেলে প্রভাবশালী চক্র দীর্ঘদিন যাবৎ অবৈধভাবে বালু উত্তোলন ও পরিবহন করে আসছিলো। এছাড়া লক্ষীকুন্ডার অর্ধ শতাধিক অবৈধ ইটভাটায় চরের ফসলী জমি বিনষ্ট করে মাটি কাটা হচ্ছে। তবে অবভযানের সময় মূলহোতারা সবসময় ধরাছোঁয়ার বাইরেই থেকে যাচ্ছে।