ঈশ্বরদীতে হলো ধর্ষন: মামলা হলো প্রচেষ্টার

ডেইলি ভিশন টুয়েন্টিফোর অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ১২:০৭ অপরাহ্ণ, আগস্ট ৩১, ২০২২

ঈশ্বরদীর দাশুড়িয়ায় শ্বশুর কর্তৃক পুত্রবধুকে ধর্ষনের ঘটনা থানায় ধর্ষন প্রচেষ্টার অভিযোগে মামলা দায়ের হয়েছে। ধর্ষন প্রচেষ্টা মামলা দায়েরের ঘটনায় এলাকায় তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। ভুক্তভোগী পুত্রবধূর বক্তব্যে ধর্ষনের বিস্তারিত বিবরণ জানা গেছে। ঈশ্বরদী থানা পুলিশ বলছে, ভিকটিমের বয়ান অনুযায়ী ধর্ষন প্রচেষ্টা মামলা রেকর্ড হয়েছে। তবে ভিকটিমকে ডাক্তারী পরীক্ষা কেন করানো হলো না, এনিয়ে এলাকায় বিরূপ সমালোচনা চলছে। মূলত: লম্পট শ্বশুরকে রক্ষার জন্যই এভাবে মামলা রেকর্ড হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এদিকে ভিকটিমের গরীব বাবাকে বিভিন্নভাবে ম্যানেজ করা হচ্ছে বলে এলাকাবাসীরা জানিয়েছে।

 

এবিষয়ে গত সোমবার ( ২৯ আগষ্ট) ধর্ষনের স্বীকার পুত্রবধু স্মৃতি খাতুন (১৯) জানায়, শ্বশুর আলম হোসেন ওরফে দেবেন আলম (৪৮) ২৭ আগষ্ট তার শ্বাশুরিকে নিয়ে মেয়ের বাড়িতে যায়। বিকেলে শ্বশুর দেবেন একা ফিরে শ্বাশুরি আজকে আসবে না জানিয়ে বাজারে চলে যায়। বাজার থেকে ফিরে আসার পর স্মৃতি তাকে ভাত খেতে দেয়। এরপর রাত ৯টার দিকে দরজা বন্ধ করে তাকে সাড়ে ৯টা পর্যন্ত উপুর্ষ্যপরি ধর্ষণ করে। ধর্ষনের ঘটনা সবাইকে বলে দিবে বললে ম্বশুর দেবেন তাকে মেরে ফেলার হুমকি দেয় এবং তার মোবাইল কেড়ে নিয়ে ছুঁড়ে ফেলে দেয়। স্মৃতি আরও জানায়, থানায় পুলিশকে সে একথা গুলোই জানিয়েছে এবং শ্বশুরও দরজা বন্ধ করার কথা স্বীকার করেছে। মেডিকেল টেষ্ট প্রসংগে স্মৃতি জানায়, পুলিশ তাকে বলে কাপড়-চোপড় তো ধুয়েই ফেলেছ-এখন টেষ্ট করে কি হবে।

এবিষয়ে ঈশ্বরদী থানার অফিসার ইনচার্জ অরবিন্দ সরকার বলেন, রবিবার (২৮ আগষ্ট) ঘটনা মূখে শুনে মামলা দায়েরের আগেই অভিযুক্ত শ্বশুর দেবেন আলমকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়। স্মৃতির বক্তব্য অনুযায়ী ধর্ষন প্রচেষ্টার মামলা রেকর্ড করে আসামীকে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।

ঈশ্বরদী স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা র্কর্মকর্তা ডা: আসমা খান বলেন, ধর্ষনের পর কাপড়-চোপড় ধুয়ে ফেলা হলেও শরীরে ভায়োলেন্সের আলামত থাকবে। তাছাড়া শরীর ধুয়ে ফেলার পরও কেমিকেল বা ফরেনসিক টেষ্টে কিছু আলামত থেকে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে।

কালিকাপুর হাই স্কুলের শিক্ষক ইব্রাহিম হোসেন এঘটনায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ঘটনার নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু তদন্ত হওয়া প্রয়োজন। তানাহলে সমাজে এধরণের ঘটনা অহরহ ঘটবে।

এর আগে শনিবার (২৭ আগষ্ট) রাতে বাড়িতে কেউ না থাকার সুযোগে লম্পট শ্বশুর দেবেন আলম তার পুত্রবধু স্মৃতি খাতুন (১৯) কে তার ঘরে জোরপূর্বক ধর্ষনের চেষ্টা করে। ঘটনাটি স্মৃতি খাতুন তার স্বামীকে (ঢাকায়) জানালে তিনি বিশ্বাস না করে উল্টো তাকেই বকাবকিসহ তালাকের হুমকি দেয়। লোক লজ্জার ভয়ে রবিবার সকালে স্মৃতি খাতুন বাগবাড়িয়া গ্রামে তার বাবার বাড়িতে চলে যায়। তার বাবার নাম চাঁদ আলী।

ঘটনাটি জানাজানি হলে লম্পট আলম বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করে এবং পুত্রবধু স্মৃতির পরিবারকে নানাভাবে হুমকি দেয়। এক পর্যায়ে রবিবার সন্ধ্যায় ভুক্তভোগী স্মৃতি তার পিতা পরিবারের অন্য সদস্যদের সাথে নিয়ে ঈশ্বরদী থানায় এসে লম্পট শ্বশুর দেবেন আলমের বিরুদ্ধে অিভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগ পেয়ে ঈশ্বরদী থানার ওসি (তদন্ত) হাদিউল ইসলামের নেতৃত্বে একদল পুলিশ রাত সাড়ে ৯ টার দিকে অভিযান চালিয়ে কালিকাপুর উচ্চ বিদ্যালয় সংলগ্ন একটি ঝোপ থেকে তাকে গ্রেফতার করে থানায় নিয়ে আসে। আলম হোসেন ওরফে দেবেন আলম কালিকাপুর দিকশাইল গ্রামের মৃত আবুল কাশেম এর ছেলে।