বিশাল জনগোষ্ঠির চাহিদা সত্ত্বেও

উপেক্ষিত ঈশ্বরদী বিমানবন্দর চালুর দাবি

ডেইলি ভিশন টুয়েন্টিফোর অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ৩:১০ অপরাহ্ণ, আগস্ট ২৯, ২০২২

বন্ধ বিমানবন্দর চালুর জন্য ঈশ্বরদী, পাবনা, নাটোর ও কুষ্টিয়ার মানুষ বেশ কিছুদিন ধরে দাবী জানিয়ে আসছিল। সরকারের মেগা রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষ এবং বিদেশীদের পক্ষ হতেও দ্রুত বিমানবন্দর চালুর দাবী জানানো হয়। ২০১৮ সালের সংসদ নির্বাচন এবং ২০২০ সালে পুনঃনির্বাচনে আওয়ামী লীগের ইশতেহারে বিমানবন্দর চালুর বিষয়টি উল্লেখ থাকলেও দীর্ঘদিন সরকার এব্যাপারে কোন পদক্ষেপ গ্রহন করেনি। স্থানীয় সাংসদ বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব নূরুজ্জামান বিশ্বাস নির্বাচিত হওয়ার পর জাতীয় সংসদে প্রস্তাব উত্থাপন এবং সরকারের সংশ্লিষ্ঠ দফতরে তদবির শুরু করেন। এরই প্রেক্ষিতে একটি টিম সম্ভাব্যতা যাচাই এবং ১৫ অক্টোবর বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী মাহবুব আলী সরেজমিনে ঈশ্বরদী বিমানবন্দর পরিদর্শন করেন। পরে ২০২১ সালের ২৮ নভেম্বর জাতীয় সংসদে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী মাহবুব আলী বলেন, বিভিন্ন মহলের দাবীর প্রেক্ষিতে সরকার ঈশ্বরদী বিমানবন্দর সংস্কার ও পুনরায় চালুর পরিকল্পনা করছে। এরপর প্রায় নয় মাস অতিক্রান্ত হলেও বিমানবন্দর চালুর বিষয়ে দৃশ্যমান কোন পদক্ষেপ গ্রহন করা হয়নি। বিষয়টি সিভিল এভিয়েশন কর্তৃপক্ষের আলোচনা ও বিবেচনার মধ্যেই এখনও সীমাবদ্ধ রয়েছে। আলোচনা ও বিবেচনার ঘেরাটোপ থেকে বেরিয়ে এখনও বেরিয়ে আসতে পারেনি ঈশ্বরদী বিমানবন্দর চালুর বিষয়টি।

Dailyvision24.com

সর্বশেষ গত ২২ আগষ্ট বিকেলে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রী স্থপতি ইয়াফেস ওসমান, অনুমিত হিসাব সংক্রান্ত কমিটির সভাপতি আব্দুস শহীদ এমপি এবং পাবনা-৪ আসনের বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব নূরুজ্জামান বিশ্বাস এমপি ত্রিপক্ষীয় আলোচনায় জরুরী ভিত্তিতে বিমানবন্দর চালুর বিষয়ে একমত পোষণ করেছেন। বৈঠকে তাঁরা বিষয়টির সূরাহার জন্য প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

ঈশ্বরদী বিমানবন্দরের জন্য মোট ৪৩৬.৬৫ একর জমি অধিগ্রহণ করা হয়। যার মধ্যে ১৪৫.৯১ একর বাংলাদেশের বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপরে দখলে রয়েছে । যাতে বিমানবন্দরের টার্মিনাল বিল্ডিং, রানওয়ে, ট্যাক্সিওয়ে, এপ্রোন, নেভিগেশন এবং সংযোগ সরঞ্জাম, অফিসারদের আবাসিক এলাকা এবং বিমানবন্দরে প্রবেশের রাস্তা রয়েছ। অবশিষ্ট ২৯০.৭৪ একর জমি বর্তমানে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর দখলে রয়েছে। ওই জমি সিএএবি-কে হস্তান্তর করা হলে ঈশ্বরদী বিমানবন্দর সংস্কার করে আবার চালু করা হবে বলে প্রতিমন্ত্রী মাহবুব আলী সংসদে উল্লেখ করেন।

সড়কপথে দীর্ঘ রাস্তায় যানজট বাড়তে থাকায় মানুষ এখন সময় ও শক্তি বাঁচাতে বিমান ভ্রমণের দিকে ঝুঁকেছে। ফলস্বরূপ, নতুন ক্রস-কান্ট্রি দীর্ঘ দূরত্বের অভ্যন্তরীণ বিমান রুটের উদ্ভব এবং সেগুলোর সবকটিই লোড ফ্যাক্টরগুলির সাক্ষি হচ্ছে। সেই সাথে অব্যবহৃত ঈশ্বরদী বিমানবন্দর পুনরায় চালুর দাবী আরও জোরালো হচ্ছে।

ব্রিটিশ শাসনামলে পাবনার ঈশ্বরদীতে বিমানবন্দর প্রতিষ্ঠিত হয়। ১৯৮৭ সালে লোকসানসহ নানা অজুহাতে প্রথম বিমানবন্দরটি বন্ধ করে দেয়া হয়। দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর প্রায় ৪ কোটি টাকা ব্যয়ে সংস্কার করে ১৯৯৪ সালে বিমানবন্দরটি আবার চালু করা হয়। দীর্ঘ ১৭ বছর পর ২০১৩ সালে ইউনাইটেড এয়ারওয়েজ ঈশ্বরদী বিমানবন্দর থেকে ফাইট পরিচালনা শুরু করে। কিন্তু ৬ মাস ১১ দিন চালু থাকার পর ২০১৪ সালের ২৯ মে আবার বন্ধ হয়ে যায় এটি। তবে মাঝে-মধ্যে হেলিকপ্টার ও বিমান বাহিনীর প্রশিণ বিমানগুলোকে এটি ব্যবহার করতে দেখা গেছে। কিন্তু এখন পরিস্থিতি ভিন্ন বলে জানিয়েছেন বিমান চলাচল খাতের সংশ্লিষ্টরা।

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র প্রকল্পের কারণে ঈশ্বরদী বিমানবন্দরকে ঘিরে নতুন সম্ভাবনার উন্মেষ ঘটেছে বলে জানিয়েছেন পাবনা-৪ (আটঘরিয়া-ঈশ্বরদী) আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব নূরুজ্জামন বিশ্বাস। এছাড়াও ঈশ্বরদী ইপিজেড, বাংলাদেশ সুগারক্রপ রিসার্চ ইনস্টিটিউট, আঞ্চলিক কৃষি গবেষণা কেন্দ্র, ডাল গবেষণা কেন্দ্র, পাবনা সুগার মিল, রেলওয়ের পাকশী বিভাগীয় অফিসউল্লেখযোগ্য। রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র এবং ইপিজেডের কারণে বিদেশীসহ কর্মকর্তা এবং ব্যবসায়ী বিপুল সংখ্যক মানুষের যাতায়াত ঈশ্বরদীতে। তাই জরুরী ভাবে বিমানবন্দর চালু প্রয়োজন বলে তিনি মনে করেন।

রাশিয়ার জেএসসি এএসই’র ভাইস প্রেসিডেন্ট এবং রূপপুর প্রকল্পের রাশিয়ান প্রকল্প পরিচালক এলেক্সি ডেইরি বলেন, ‘আমরা ঢাকা-ঈশ্বরদীর মধ্যে বিমান সংযোগ স্থাপনের ধারণাকে সমর্থন করি। এটি আমাদের লোকদের মূল্যবান সময় বাঁচাতে এবং ঝামেলা এড়াতে সহায়তা করবে।’

এব্যাপারে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের হেড অফ মার্কেটিং অ্যান্ড সেলস এম শফিকুল ইসলাম বলেন, “যদি সিএএবি ঈশ্বরদী বিমানবন্দরের রানওয়ে মাত্র ৫০০ মিটার প্রসারিত করে, তাহলে আমরা এটিআর ৭২-৬০০-এর মতো ছোট বিমানের মাধ্যমে বিমানবন্দরে এবং সেখান থেকে ফ্লাইট অপারেশন পরিচালনা করতে পারি।” তিনি দাবি করেন, এই রুটে বিমান ভ্রমণের প্রচুর চাহিদা রয়েছে। যা বর্তমানে প্রয়োজন।

এবিষয়ে সিভিল এভিয়েশন অথরিটির মেম্বার (অপারেশন এন্ড প্লানিং) এয়ার কমোডর সাদিকুর রহমান চৌধুরী ইত্তেফাককে বলেন, বিভিন্ন কারণে বিমানবন্দরটি বন্ধ হয়েছিল। জনপ্রতিনিধিসহ বিভিন্ন জায়গা থেকে আমাদের বলা হচ্ছে চালুর জন্য। এবিষয়ে আলোচনা চলছে। এয়ারলাইন্সগুলো আগ্রহ প্রকাশ করেছে। রূপপুর পারমাণবিক কেন্দ্রের সাথে সাংঘর্ষিক হবে কিনা সেবিষয় মাথায় রেখেই ফিজিবিলিটি যাচাই করে দেখা হবে। অনেকগুলো ফ্যাক্টর এবং জায়গারও সমস্যা রয়েছে। সিষ্টেমেটিক প্রক্রিয়ায় আলাপ-আলোচনায় চলছে এবং চালুর বিষয়টিও বিবেচনায় আছে।