বিয়ের প্রলোভনে ধর্ষণ, অতঃপর তালাক

আলোচনায় আটঘারিয়ার দেবোত্তর ইউপি চেয়ারম্যান চঞ্চল

ডেইলি ভিশন টুয়েন্টিফোর অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ৮:০১ অপরাহ্ণ, জুন ২৫, ২০২১

বিয়ের প্রলোভনে ফেলে চট্টগ্রাম ভেটারিনারি এ্যান্ড এ্যানিমেল সায়েন্সস বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্রী ধর্ষণের অভিযোগ ওঠেছে। বিয়ে করতে রাজি না হয়ে উপরন্তু আটঘরিয়া উপজেলার দেবোত্তর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান চঞ্চল ওই ছাত্রীকে প্রাণনাশের হুমকিসহ ধর্ষণ ভিডিও চিত্র সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছেড়ে দেয়ার হুমকি দিয়েছে।

অপরাধীর দৃষ্টান্তমূলক সাজা দিতে তিনি প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেন। বাংলাদেশ ক্রাইম রিপোর্টার্স এসোসিয়েশনে মঙ্গলবার দুপুরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এক ছাত্রী লিখিত বক্তব্যে এমনটাই দাবী করেছেন।

বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া তরুণী আরো বলেন, তিনি যেন ধর্ষণ মামলা না করতে পারেন, সে জন্য বিয়ে না করেই তাকে তালাকনামা পাঠানো হয়েছে। তিনি চট্টগ্রাম ভেটারিনারি অ্যান্ড এমিনের সায়েন্স বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়েন। তার বাড়ি পাবনা।

অভিযুক্ত চঞ্চল আটঘরিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সদ্য ঘোষিত সাধারণ সম্পাদক।

ভিকটিম দাবি করেন, শুধু আমি নই, আমার বড় বোন আদুরীও ওই চেয়ারম্যানের লালসার শিকার হয়ে মারা গেছেন। যেটি আমরা মাত্র কয়েক দিন আগে বাড়ির বইপত্র গোছগাছ করার সময় পাওয়া একটি ডায়েরীর সূত্র ধরে জানতে পারি । আমার বোন আদুরী খাতুনের প্রেমিক চঞ্চলের হাতে লেখা একটি ব্যক্তিগত ডায়েরী থেকে জানতে পারি, আমার বোনের সঙ্গে চেয়ারম্যান চঞ্চলের প্রেমের সর্ম্পক হয় ২০১০ সালে। চঞ্চল তখন দেবোত্তর ইউনিয়নের ইশারত আলী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক। আমার বোন একই বিদ্যালয়ের ছাত্রী ছিলেন। আমাদের বাড়িতে চঞ্চলের যাতায়াতের সুবাদে আদুরীর সঙ্গে তার প্রেম চলছিল।

আমার বোনকে বিয়ে করবে আশ্বাস দিয়ে ২০১২ ইং সালে বেড়াতে নিয়ে যায় পাবনা শহরে। সেখানে অজ্ঞাত এক বাড়িতে তার বোনকে চঞ্চল ধর্ষণ করে। বোন বাড়িতে ফেরার পর অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে পাবনা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা বোনকে মৃত ঘোষণা করেন। বোনের মৃত্যুকে আমরা স্বাভাবিকভাবেই মেনে নেই। কারণ তখন আমরা বিষয়টি জানতাম না। বোন মারা যাওয়ার পর চঞ্চল সান্তনা দিতে আমাদের বাড়িতে যাতায়াত করতে থাকেন। ২০১৭ সাল পর্যন্ত এভাবেই সামাজিক সর্ম্পক চলে আসছিল।
এলাকায় প্রভাবশালী হওয়ায় আমরাও বিষয়টি স্বাভাবিকভাবেই মেনে নেই। এক পর্যায়ে চঞ্চল আমাকে বলেন, আদুরীকে তার বিয়ে করার ইচ্ছে ছিল। কিন্তু মারা যাওয়ার কারণে সেটি যেহেতু আর সম্ভব হয়নি। এজন্য তিনি আমাদের পরিবারের সঙ্গে আত্মীয়তা করতে প্রস্তাব দেন। এতে করে আমার সঙ্গে চঞ্চলের স্বাভাবিক সর্ম্পক হয়।

পরে তা প্রেমের সর্ম্পকে গড়ায়। বিয়ে হওয়ার বিষয়টি এক প্রকার নিশ্চিত। একদিন আমাকে বেড়ানোর কথা বলে পাবনা শহরে নিয়ে যায়। সেখানে জোরপূর্বক আমার সঙ্গে অবৈধ শারীরিক সর্ম্পক স্থাপন করে। তা মোবাইল ফোনে ধারণ করে রাখে। সেই সুযোগ নিয়ে বার বার আমার সঙ্গে অনৈতিক শারীরিক সর্ম্পক স্থাপন করতে প্রস্তাব দিতে থাকে। বিয়ের করার কথা বললে সে নানা টালবাহানা করতে থাকে। পাশাপাশি নানাভাবে হুমকি দিয়ে আসছে। এতদিন পর বোনের ডায়েরী পাওয়ার পর সার্বিক পরিস্থিতি পর্যালোচনায় আমাদের ধারণা, আমার বোনের মৃত্যুর রহস্য উৎঘাটন হবে বলে।

এক পর্যায়ে হঠাৎ করেই তিনি তালাকনামা পেয়ে অবাক হয়ে যান। সেই তরুণী বলেন, বোনের মৃত্যুর পর তিনি আমাকে বিয়ে করার প্রস্তাব দেন। কিন্তু বিয়ে করেননি। বিয়ে না করেই তিনি আমাকে তালাকনামা পাঠিয়েছেন যাতে আমি তার বিরুদ্ধে ধর্ষণ মামলায় যেতে না পারি। কিন্তু তার সঙ্গে আমার কবে বিয়ে হলো?

তবে এ সকল অভিযোগের বিষয়ে জানতে ইউপি চেয়ারম্যান আবু হামিদ মো. মোহাইম্মীন হোসেন চঞ্চলের মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলে তার ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।

এ বিষয়ে আটঘরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হাফিজুর রহমান বলেন, এ বিষয়ে থানায় কেউ কোন অভিযোগ করেনি। অভিযোগ পেলে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।

তবে সংবাদ সম্মেলন করা তরুণী জানিয়েছেন তিনি জেলা পুলিশ সুপার মহিবুল ইসলাম খান বিপিএম এর মাধ্যমে পুলিশের আইজিপির নিকট অভিযোগ করেছেন।