দ্রুত নগরায়ন এবং জিডিপি প্রবৃদ্ধির ফলে বাংলাদেশে পাম অয়েলের ব্যাবহার বাড়বে

ডেইলি ভিশন টুয়েন্টিফোর অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ৯:৩৭ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ৩, ২০২২

দ্রুত নগরায়ন এবং জিডিপি প্রবৃদ্ধির ফলে বাংলাদেশে পাম অয়েলের ব্যাবহার বাড়বে বলে বুধবার বিকেলে অনুষ্ঠিত ওয়েবিনারে বিশেষজ্ঞরা মতামত ব্যক্ত করেছেন। বিকাশমান অর্থনীতি, মাথাপিছু আয় বৃদ্ধি এবং জীবনধারায় ক্রমবর্ধমান ইতিবাচক পরিবর্তনের ফলে বাংলাদেশে আগামী বছরগুলোতে ভোজ্যতেলের ব্যাবহার তাৎপর্যপূর্ণভাবে, একইসঙ্গে ক্রমবর্ধমান চাহিদা পূরণে পাম অয়েলের আমদানী অনেক গুন বৃদ্ধি পাবে। গতবছর সয়াবিন তেলের তুলনায় পাম অয়েলের আমদানী ছিল প্রায় দ্বিগুন। পাম অয়েল বর্তমানে দেশের সর্বাধিক ব্যাবহৃত ভোজ্যতেল এবং বিশ্বে এই তেলের অন্যতম বৃহৎ আমদানীকারক। পাম তেলের মূল সরবরাহকারী ইন্দোনেশিয়া এবং মালয়েশিয়া।

পাম অয়েল উৎপাদনকারী দেশগুলোর সংগঠন সিপপসি ২ জানুয়ারী আয়োজিত, “পাম অয়েল এবং বাংলাদেশে ভবিষ্যৎ বাজার প্রবণতা” শীর্ষক এক আন্তর্জাতিক ওয়েবিনারে এ সকল তথ্য প্রকাশ করা হয়। বাংলাদেশে পাম তেলের ব্যাবহার এবং এর আমদানী প্রবণতা নিয়ে এই ওয়েবিনারের আয়োজন করা হয়।

স্বাগত বক্তব্যে সিপপসি’র নির্বাহী পরিচালক তান শ্রী দাতুক ড. ইউসুফ বাসিরন বিশ্বে অন্যতম বৃহৎ আমদানীকারক হিসেবে বাংলাদেশের নাম উল্লেখ করে বলেন, “পাম অয়েলের সাস্টেইনিবিলিটি নিশ্চিত করতে বৃহৎ উৎপাদনকারী দেশ ইন্দোনেশিয়া ও মালয়েশিয়ার সম্মিলিত প্রচেষ্ঠায় যথাক্রমে ইন্দোনেশিয়ান সাস্টেইনেবল পাম অয়েল (ISPO) এবং মালয়েশিয়ান সাস্টেইনেবল পাম অয়েল (MSPO) কার্যকরী করা হয়েছে। অন্যান্য ভোজ্যতেল গুলো যেখানে তাদের ওপর ন্যাস্ত দায়িত্ব পালনে সংগ্রাম করে যাচ্ছে, সেখানে পাম অয়েল ১৭টির মধ্যে ১১টি টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্য অর্জনে ভূমিকা পালন করছে”।

ওয়েবিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপনকালে টি.কে. গ্রুপ অফ ইন্ডাস্ট্রিজের সিনিয়র পরিচালক তারিক আহমেদ বলেন, “অতিমারী সত্তে¡ও বাংলাদেশে ভোজ্যতেল বাজারে একটি বড় অংশ দখল করে আছে পাম অয়েল। দেশে এই তেল রান্নার কাজে ব্যাপকভাবে ব্যাবহৃত হচ্ছে এবং ভোক্তারা এর স্বাস্থ্যসুবিধা সম্পর্কে ওয়াকিবহাল। এটা সত্য যে, অতিমারীকালে পাম অয়েলকে বেশ কিছু চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হচ্ছে, তবে ইন্দোনেশিয়া এবং মালয়েশিয়ার মতো বৃহৎ উৎপাদনকারী দেশগুলোর উচিৎ বাংলাদেশ বাজারের সম্ভাবনার প্রতি বিশেষ নজর দেয়া”।

মালয়েশিয়ান পাম অয়েল কাউন্সিলের সাবেক আঞ্চলিক ব্যবস্থাপক (বাংলাদেশ ও মায়ানমার) এ.কে.এম ফখরুল আলম জানান যে বাড়িঘরে সাধারণ ব্যাবহারকারী ছাড়াও হসপিটালিটি এবং খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্পে পাম অয়েলের ব্যাবহার ভবিষ্যতেও অব্যহত থাকবে। তার মতে, “দ্রæত নগরায়ন এবং জিডিপি’র প্রবৃদ্ধির ফলস্বরূপ ক্রয়ক্ষমতা বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং প্রাত্যহিক জীবনে খাদ্যতালিকায় সাস্টেইনেবল পাম অয়েলসহ উচ্চমানসম্পন্ন খাদ্যদ্রব্য অন্তর্ভূক্তির সক্ষমতা বাড়ছে”।

ইন্দোনেশিয়া পাম অয়েল গবেষণা ইন্সটিটিউটের গবেষক ড. সাচনাজ ডেস্টা অফটারিনা বলেন, “স্মলহোল্ডার রিপ্ল্যান্টিং কর্মসুচীর মাধ্যমে পাম অয়েলের উৎপাদন বৃদ্ধি সম্ভব। বিশ্বব্যাপী নেট জিরো এমিশন অর্জনে পাম অয়েল বিশেষ ভূমিকা রাখছে। গ্লোবাল সাস্টেইনিবিলিটির প্রতি পাম অয়েলের এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গীকার। পরিবেশ বান্ধব সারের ব্যাবহার, সনদপ্রাপ্ত কৃষি পদ্ধতির অনুশীলন, শস্য বৈচিত্রকরণ এবং এগ্রোফরেস্ট্রি পাম অয়েলের সাস্টেইনিবিলিটি অর্জনে অতিরিক্ত ভূমিকা পালন করছে”।

সিপপসি’র উপ-নির্বাহী পরিচালক দুপিতো সিমামোরা তার সমাপনী বক্তব্যে বলেন, “এটা সুস্পষ্ট যে বাংলাদেশ বাজারে পাম অয়েল নেতৃস্থানীয় এবং অন্যান্য ভোজ্যতেলের তুলনায় সাস্টেইনিবিলিটি ইস্যুতে যথেষ্ট এগিয়ে। আমাদের মূল বক্তাদের গুরুত্বপূর্ণ আলোচনার ভিত্তিতে সিপপসি’র জন্য একটি সুনির্দিষ্ট ও কার্যকরী সুপারিশমালার খসড়া প্রণয়ন করা প্রয়োজন। পাম অয়েলের মার্কেট শেয়ার ধরে রাখতে এটির সুবিধাগুলো কার্যকরীভাবে টার্গেট গ্রæপের কাছে পৌছে দিতে অধিক প্রচেষ্টা গ্রহণ করা জরুরী”।

ওয়েবিনারটি সঞ্চালনা করেন এপকো ওয়ার্ল্ডওয়াইডের উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক ইয়াশ কনসাল।