চিঠি হাতে পাননি ডিসিও

টিটিই শফিকুলকে বরখাস্ত ডিসিও নাসির উদ্দিনকে শোকজ

ডেইলি ভিশন টুয়েন্টিফোর অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ৯:০৩ অপরাহ্ণ, মে ৯, ২০২২

রেলের ভ্রাম্যমাণ টিকিট পরীক্ষক (টিটিই) শফিকুল ইসলামকে সাময়িক বরখাস্তের ঘটনায় পাকশী বিভাগীয় বাণিজ্যিক কর্মকর্তা (ডিসিও) নাসির উদ্দিনকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। তবে সোমবার রাত ৮.১০ পর্যন্ত ডিসিও এর হাতে শোকজের চিঠি পৌঁছেনি। তবে শোকজে স্বাক্ষরকারী  ডিআরএম বলছেন চিঠি পৌঁছে গেছে।

রোববার (৮ মে) বিকেলে বিভাগীয় বাণিজ্যিক কর্মকর্তা (ডিসিও) নাসির উদ্দিনকে শোকজ করেছেন পাকশী বিভাগীয় রেলওয়ে ব্যবস্থাপক (ডিআরএম) শাহীদুল ইসলাম। আগামী ৭ কার্যদিবসের মধ্যে তাকে শোকজের জবাব দিতে বলা হয়েছে। সোমবার (৯ মে) রাতে পাকশী বিভাগীয় রেলওয়ে ম্যানেজার (ডিআরএম) শাহীদুল ইসলাম শোকজের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, শোকজের চিঠি ইতোমধ্যেই পৌঁছে দেওয়া হয়েছে।

এবিষয়ে সোমবার (৯ মে) রাতে বিভাগীয় বাণিজ্যিক কর্মকর্তা (ডিসিও) নাসির উদ্দিনের সাথে ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, শোকজের কথা শুনেছি এবং পত্র-পত্রিকায় দেখেছি। তবে চিঠি এখনও হাতে পাইনি। এবিষয়ে তাঁর প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে তিনি বিব্রত বোধ করেন।

গত শুক্রবার (৬ মে) রেলমন্ত্রীর আত্মীয় পরিচয় দিয়ে  বিনা টিকেটে রেল ভ্রমণ করায় তিন যাত্রীর নিকট হতে জরিমানাসহ ভাড়া আদায়ের সুন্দরবন এক্সপ্রেসের টিটিই শফিকুল ইসলামকে সাময়িক বরখাস্ত করেন পাকশী বিভাগীয় বাণিজ্যিক কর্মকর্তা (ডিসিও) নাসির উদ্দিন।
রোববার (৮ মে) দুপুরে বরখাস্তের আদেশ প্রত্যাহার করে রেলওয়ে কর্তৃপ জানায়, রেলমন্ত্রীর আত্মীয় পরিচয়দানকারী তিন ব্যক্তিকে জরিমানার ঘটনার তদন্ত চলছে। তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের সময় তিন দিন বাড়িয়ে ৫ দিন করা হয়েছে।

নিজ ক্ষমতাবলে টিটিই শফিকুল ইসলামের সাময়িক বরখাস্তের আদেশ প্রত্যাহার করে স্বপদে বহাল করেন পাকশী বিভাগীয় রেলওয়ে ব্যবস্থাপক (ডিআরএম) শাহিদুল ইসলাম। তদন্তের আগেই তাকে দীর্ঘ সময়ে সাসপেন্ড করে রাখা ঠিক হবে না বলে তিনি মনে করেন। কারণ তদন্তে দোষ প্রমাণিত হওয়ার আগ পর্যন্ত তাকে দোষী সাব্যস্ত করা ঠিক হবে না। এজন্য তিনি তাকে পুনর্বহালের আদেশ দিয়েছেন। শফিকুল অফিসিয়াল প্রক্রিয়া সম্পন্ন শেষে সোমবার দুপুরে কাজে যোগ দিয়েছেন।

প্রসঙ্গত: গত বৃহস্পতিবার (৫ মে) রাতে খুলনা থেকে ঢাকাগামী আন্ত:নগর সুন্দরবন এক্সপ্রেস ট্রেনে বিনা টিকিটে এসি রুমে উঠেন রেলমন্ত্রী নূরুল ইসলাম সুজনের স্ত্রীর দুই মামাতে ভাই এবং বান্ধবীর এক ছেলে। বিনা টিকিটে রেলভ্রমণের দায়ে তাদের জরিমানাসহ ভাড়া আদায় করলে সাময়িক বরখাস্ত হন ভ্রাম্যমাণ টিকিট পরীক্ষক (টিটিই) শফিকুল ইসলাম। তবে টিটিই শফিকুলের বিরুদ্ধে অশোভন আচরণের অভিযোগ করেন রেলমন্ত্রীর স্ত্রীর বান্ধবীর ছেলে ইমরুল কায়েস প্রান্ত। এ নিয়ে সারাদেশে শুরু হয় ব্যাপক সমালোচনা।

শনিবার (৭ মে) ঘটনার প্রকৃত কারণ খুঁজে বের করতে পাকশী বিভাগীয় রেলওয়ে সহকারী পরিবহন কর্মকর্তা (এটিও) সাজেদুল ইসলামকে প্রধান করে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। কমিটির অন্য দুই সদস্য হলেন- সহকারী নির্বাহী প্রকৌশলী (এইএন) শিপন আলী ও রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর সহকারী কমান্ড্যান্ট (এসিআরএনবি) আবু হেনা মোস্তফা কামাল।

তদন্ত কমিটির প্রধান পাকশী বিভাগীয় রেলওয়ে সহকারী পরিবহন কর্মকর্তা (এটিও) সাজেদুল ইসলাম জানান, রবিবার দুপুর থেকে তদন্ত শুরু হয়েছে। সোমবার সকাল থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত কমিটি তদন্ত কাজ করেছে। তদন্ত অব্যাহতভাবে চলবে বলে জানান তিনি।