কাজীরহাট ফেরিঘাটে যাত্রীদের চাপ, অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ

ডেইলি ভিশন টুয়েন্টিফোর অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ৯:৪০ অপরাহ্ণ, মে ২১, ২০২১

পিপ : ঈদের ছুটি শেষে কর্মজীবী মানুষের ঢাকামুখী ঢল এখনও অব্যাহত আছে। এরই মধ্যে শুক্রবার (২১ মে) ঈদের পর শেষ ছুটির দিন হওয়ায় কাজীরহাট ফেরিঘাটে যাত্রীদের চাপ ব্যাপক লক্ষ্য করা যায়। এরই মধ্যে কাজীরহাট-আরিচা নৌপথে চলাচলকারী চারটি ফেরির মধ্যে একটি ফেরি বন্ধ করে দেওয়ায় প্রতিটি ফেরিতে যাত্রীরা পা রাখারও জায়গা পাচ্ছেন না।
সরেজমিনে শুক্রবার সকালে পাবনা বেড়া উপজেলার কাজীরহাট ফেরিঘাটে গিয়ে দেখা যায়, ছুটি শেষে উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন জেলার মানুষ ঢাকামুখী ছুটছেন। গণপরিবহন বন্ধ থাকায় বিভিন্ন ধরনের যানবাহনে তাঁরা কাজীরহাট ঘাটে এসে নামছেন। ফেরির স্বল্পতা থাকায় এসব যাত্রী ঘন্টার পর ঘন্টা তীব্র রোদ ও গরম উপেক্ষা করে ঘাটে অপেক্ষা করছেন। আরিচা থেকে কাজীরহাটে ফেরি এসে ভেড়া মাত্রই যাত্রীরা তাতে হুড়মুড়িয়ে উঠছেন। এভাবে উঠতে গিয়ে দুর্ঘটনায় আহত হচ্ছেন অনেকে। অনেকে আবার তীব্র গরমে অসুস্থ হয়েও পড়ছেন। গাদাগাদি করে ফেরি ওঠার ফলে ন্যুনতম স্বাস্থ্যবিধির তোয়াক্কা করছেন না কেউ।
কাজীরহাট ঘাটে ফেরিতে ওঠার আগমুহূর্তে ঘাট ইজারাদারের নিয়োজিত লোকজনের কাছ থেকে ফেরি পারাপারের টিকিট সংগ্রহ করে যাত্রীরা ফেরিতে ওঠার সুযোগ পাচ্ছেন। নদী পারাপারের টিকিটমূল্য ২৫ টাকা হলেও যাত্রীর কাছ থেকে ৩০ টাকা করে আদায়ের অভিযোগ উঠেছে।
এদিকে বিআইডব্লিউটিসি সূত্রে জানা গেছে এই নৌপথে প্রতিদিন চারটি করে ফেরি যাওয়া-আসা করত। কিন্তু গত মঙ্গলবার (১৮ মে) থেকে এই চারটি ফেরির মধ্যে একটি ফেরি যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে মেরামতের জন্য কারখানায় পাঠানো হয়েছে। ফলে তিনটি ফেরি দিয়ে যাত্রী ও যানবাহন পারাপার বেশ কঠিন হয়ে পড়েছে।
রাশেদ হাসান নামের শিক্ষার্থী ঈদের ছুটি কাটিয়ে নাটোর থেকে শুক্রবার সকালে ঢাকার উদ্দেশে রওনা করেন। ফেরিঘাটে পৌঁছার পর ইজারাদারদের মনোনীত প্রতিনিধিদের বাধার মুখে পড়েন তিনি। তাঁর কাছ থেকে ফেরিতে নদী পারাপারের টিকিটের জন্য ৩০ টাকা আদায় করা হয়।
রাশেদ আক্ষেপ করে বলেন, ‘নাটোর থেকে কখনও বাসে আবার কখনও সিএনজিচালিত অটোরিকশায় ভেঙে ভেঙে ঘাট পর্যন্ত এসেছি। প্রতিটি যানবাহনেই বেশি ভাড়া দিতে হয়েছে। ভেবেছিলাম সরকারি ফেরিতে আসল ভাড়ায় পার হওয়া যাবে। কিন্তু এখানেও ভাড়া বেশি নিল।
স্কুলশিক্ষক আব্দুর রাজ্জাক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘ঈদের আগে স্ত্রী ও সন্তানদের নিয়ে ঢাকা যাওয়ার জন্য এসেছি। এমনিতেই ফেরি কম থাকায় দেড় ঘন্টা তীব্র রোদের মধ্যে বসে থাকতে হয়েছে। এর ওপর ওরা ভাড়াও বেশি নিল। তিনি আরও বলেন টিকিটের মূল্য একশ টাকা দাবি করলেও আমাদের দিতে হবে উপায়তো আর নেই। ফেরির সংখ্যা বাড়িয়ে আমাদের কষ্ট না দিয়ে যদি বেশি ভাড়া নিত তবু না হয় সহ্য হত।’
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ঘাট এলাকার একাধীক ব্যাক্তি জানান, স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান উপজেলা চেয়ারম্যান তাদের যোগসাজস্বেই টিকিটের মুল্যের চেয়ে কায়দা করে পাঁচ টাকা বেশি নেওয়া হচ্ছে। এতে প্রতিদিন লক্ষ লক্ষ টাকা অবৈধ ইনকাম করে তারা ভাগবটোয়ারা করে নিচ্ছে।
এব্যাপারে রুপপুর ইউপি চেয়ারম্যান আবুল হাসেম উজ্জ্বল এর সাথে কথা হলে তিনি জানান, অতিরিকক্ত ভাড়া নেওয়ার বিষয়ে আমিও শুনেছি তবে নিষেধ করা হয়েছে মনে হয় আর নিচ্ছে না।
এ ব্যাপারে বিআইডব্লিউটিসি ফেরি সার্ভিসের টিকিট বিক্রির দায়িত্বে থাকা কাজিরহাট ঘাট এলাকার ইজারাদারের প্রতিনিধি পল্লব হোসেন দাবি করেন, ভাড়া এক টাকাও বেশি নেওয়া হচ্ছে না। ঘাটে ১২ জন টিকিট বিক্রেতা রয়েছেন এবং তাঁরা সরকার নির্ধারিত ২৫ টাকা করেই আদায় করছেন।
নগরবাড়ী নৌপুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ পরিদর্শক জাহাঙ্গীর হোসেন খান বলেন, ‘বেশি ভাড়া নেওয়ার অভিযোগ আমাদের কাছেও এসেছে। অভিযোগ পেয়েই উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে বিষয়টি জানিয়েছি। আর নিরাপদে ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে যাত্রীরা যাতে ফেরি উঠতে ও নামতে পারে সে ব্যাপারে আমরা আন্তরিকভাবে কাজ করে যাচ্ছি।’
বিআইডব্লিউটিসি আরিচা কার্যালয়ের উপ-মহাব্যবস্থাপক জিল্লুর রহমান বলেন, ‘মঙ্গলবারের (১৮ মে) আগ পর্যন্ত আমাদের চারটি ফেরি পালা করে কাজীরহাট-আরিচা নৌপথে চলত। কিন্তু যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে একটি ফেরি ডকে পাঠানোয় এখন তিনটি ফেরি চলছে। এতে ফেরি কমে যাওয়ায় ফেরিগুলোতে চাপ বেড়েছে। মেরামতের জন্য পাঠানো ফেরিটি মেরামত না হয়ে আসলে আপাতত ফেরি বাড়ানোর আর কোনো উপায় নেই। ভাড়া বেশি নেওয়ার ব্যাপারে বিচ্ছিন্ন কিছু অভিযোগ পেয়ে আমরা তাদের (ইজারাদার) নিষেধ করে দিয়েছি।’