ট্রাকে করে কর্মস্থলে ফিরছে মানুষ

ডেইলি ভিশন টুয়েন্টিফোর অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ১০:০২ অপরাহ্ণ, মে ১৭, ২০২১

সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি:
ঈদের ছুটি শেষে ভোগান্তি নিয়েই কর্মস্থলে ফিরছে মানুষ। গণপরিবহন বন্ধ থাকায় ট্রাক-মিনি ট্রাকই একমাত্র ভরসা ঢাকামুখী নিম্ন-মধ্যবিত্ত মানুষের। ট্রাকের ভিতর গাদাগাদি করে রোদ-বৃষ্টি মাথায় নিয়েই যেতে হচ্ছে কর্মস্থল ঢাকায়।
উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন জেলা থেকে পুলিশের চোখ ফাঁকি দিয়ে ঝুঁকি নিয়ে বাসে চড়ে রওয়ানা হলেও বঙ্গবন্ধু সেতু পার হতে পারছে না। সেতুর গোলচত্ত্বরে পুলিশ বাসগুলো আটকে দিয়ে যাত্রীদের নামিয়ে দিচ্ছে। ফলে এসব যাত্রী আরও বিপাকে পড়ছে। ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থেকে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ট্রাকে করে ঢাকায় যাচ্ছে।
একদিকে ভোগান্তি অন্যদিকে বাড়তি টাকা গুণতেও হচ্ছে তাদের। যাত্রীরা বলছে, চাকরি বাঁচাতে যেকোন উপায়ে তাদের ঢাকায় যেতেই হবে। যাত্রীবাহী বাস বন্ধ থাকলেও ট্রাক-মিনিট্রাক ও প্রাইভেট কার ও মাইক্রো বাসের চাপ রয়েছে ব্যাপক।
যাত্রী মুক্তার হোসেন জানান, গণপরিবহন বন্ধ। কিন্তু চাকরি বাঁচাতে ঢাকা যেতেই হবে। বাধ্য হয়ে ভেঙে ভেঙে যাচ্ছি। এতে যেমন ভোগান্তি হচ্ছে তেমনি দ্বিগুণ টাকাও গুনতে হচ্ছে। যাত্র আজিয়া খাতুন জানান, গার্মেন্টস খুলবে। সময়তো না গেলে চাকরি থাকবে না। তাই ছোট ছোট মেয়েকে নিয়ে ট্রাকে করে যেতে হচ্ছে। বগুড়ার যাত্রী আইয়ুব আলী জানান, বগুড়া থেকে বঙ্গবন্ধু সেতু পর্যন্ত বাসে এসেছি। এখান থেকে বাস ফিরিয়ে দেয়া হচ্ছে। এখন মহাবিপদে পড়ে গেছি। তিন ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থাকার পর ট্রাকে ওঠে রওয়ানা হচ্ছি। জীবনের ঝুঁকি নিয়েই যেতে হচ্ছে। যাত্রী সাকিব আহমেদ জানান, করোনার কারণে বাস বন্ধ রেখেছে। কিন্তু ট্রাকে যেভাবে গাদাগাদি করে যেতে হচ্ছে তাতে বাস চালু থাকলেও ভালো হতো। স্বাস্থ্যবিধি মেনে যাওয়া যেতো। ট্রাকে তো স্বাস্থ্যবিধির কোন বালাই নেই।
বঙ্গবন্ধু সেতু পশ্চিম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোসাদ্দেক হোসেন জানান, বাস সেতু পার হতে দেয়া হচ্ছে না। যাত্রীদের নামিয়ে বাসের বিরুদ্ধে মামলা দিয়ে ফেরত পাঠানো হচ্ছে। কিন্তু ট্রাকে হাজার হাজার মানুষ পার হয়ে যাচ্ছে। মানবিক কারণে এসব রোধ করা সম্ভব হচ্ছে না।