যৌন উত্তেজক সিরাপ কোম্পানীর মালিকের ভাইকে থানা থেকে ছেড়ে দিল পুলিশ ! সিল করা কারখানা খোলার পায়তারা

ডেইলি ভিশন টুয়েন্টিফোর অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ৯:১৬ অপরাহ্ণ, মে ৭, ২০২১

পিপ : পাবনায় অবৈধ যৌন উত্তেজক সিরাপ তৈরীর কারখানার মালিকের ছোট ভাই শান্তকে থানা থেকে ছেড়ে দিল পুলিশ। বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে পাবনা সদর থানা থেকে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়। এর আগে বৃহস্পতিবার দুপুরে পাবনা শহরের আফুরিয়া ফাষ্ট ফুড (এইচবিডি) ইন্ডা: প্রাইভেট লিমিটেড কোম্পানীতে অভিযান চালিয়ে ৫ লক্ষ টাকা জরিমানা ও কারখানা সীলগালা করে দেয় গোয়েন্দা পুলিশ ও জেলা প্রশাসন। এদিকে সিল করা কারখানা খোলার পায়তারা করছে রাজ্জাক এবং তার শ্যালক আরিফ।
পুলিশ জানায়, আফুরিয়ার ফাষ্ট ফিলিংস ফ্যাক্টরীতে দীর্ঘদিন ধরে হট ফিলিংসসহ কয়েকটি আইটেমে সেক্সুয়াল সিরাপ তৈরী করা হচ্ছে, যা দেশের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলার মুদির দোকানে পর্যন্ত বিক্রি হয়। ফ্যাক্টরীর স্বত্বাধিকারী আরিফুল ইসলাম আরিফ ও তার দুলাভাই আব্দুর রাজ্জাক আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে ম্যানেজ করে মানুষের জন্য ক্ষতিকারক ড্রাগ তৈরী করে বলে অভিযোগ দীর্ঘদিনের। ফ্যাক্টরীর মালিক পাবনার প্রভাবশালী ব্যক্তিদের ছত্র ছাঁয়ায় থাকার কারণে এ বিষয়ে কেউ মুখ খুলতে সাহস পায় না। বিষয়টি পুলিশের নজরে এলে ঔষুধ প্রশাসন ও জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট এর সমন্ময়ে একটি টীম অভিযান চালায় সেখানে। অভিযানে বিপুল পরিমান এসএস পাউডারসহ বিভিন্ন উৎপাদিত পণ্য পাওয়া যায়। তবে কারখানার মালিক আব্দুর রাজ্জাক ও আরিফ অভিযানের আগেই পালিয়ে যায়। এ সময় রাজ্জাকের ভাই শান্ত ঘটনাস্থলে সকলকে ভয়ভীতি দেখানোর চেষ্টা করে এক পর্যায়ে কিছু মানুষকে সে মারধর করে। এ সময় পুলিশ শান্তকে থানায় নিয়ে ধরে আসে। তবে রাত সাড়ে ১০টার দিকে তাকে ছেড়ে দেয় পুলিশ।
এ ব্যাপারে পাবনা সদর থানার ওসি মো. নাছিম আহম্মেদ সাংবাদিকদের বলেন, উর্ধতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
অভিযানে নেতৃত্বদানকারী পাবনার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) মাসুদ আলম সাংবাদিকদের বলেন, অভিযানের সময় নয় অন্য একটি ঘটনায় শান্তকে থানায় আনা হয়েছিল। তার বিরুদ্ধে কেউ কোন অভিযোগ না করায় তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
বিভিন্ন সুত্র জানায়, গত একযুগ ধরে পাবনার আফুরিয়ায় ফাষ্ট ফুড (এইচবিডি) ইন্ডা: প্রাইভেট লিমিটেড কোম্পানীর মালিক আব্দুর রাজ্জাক ফ্রুট সিরাপ তৈরীর অনুমোদন নিয়ে যৌন উত্তেজক সিরাপ তৈরী করে বাজারজাত করে আসছেন। এই কোম্পানীটি আফুরিয়া এলাকার আব্দুর রাজ্জাক হাজী ও তার শ্যালক আরিফুল ইসলাম মিলে এই ব্যবসা পরিচালনা করছেন। তাদের উৎপাদিত এইসব যৌন উত্তেজক সিরাপ খেয়ে সর্বশান্ত হচ্ছেন অনেকেই। এভাবে অবৈধ যৌন উত্তেজক সিরাপ বিক্রি করে কোটি কোটি টাকার মালিক হয়েছেন।
সুত্র ্রও জানায়, ২০১৯ সালের জুন মাসে নওগাঁ শহরে এই ফাস্টফুড কোম্পানীর তৈরীকৃত যৌন উত্তেজনা বর্ধক ফাস্ট কিংস আপ ফ্রুট সিরাপ পান করার পর এক ব্যাক্তি একটি বাড়িতে প্রবেশ করে মাকে হত্যার পর মেয়েকে ধর্ষণ করেন। বিষয়টি নিয়ে সারা দেশে আলোচনা সমালোচনার ঝড় ওঠে। এই ফ্যাক্টরীর উৎপাদিত হট ফিলিং সেক্সুয়েল ড্রিংক্স সেবন করে নওগাঁয় এ পযন্ত ৩ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং অনেকে অসুস্থ্য অবস্থায় নওগাঁ হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়ারও অভিযোগ রয়েছে। এ ব্যাপারে নঁওগা থানায় একটি মামলাও রয়েছে।
২০১৯ সালের ২৫ জুন রাতে নওগাঁর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) লিমন রায়’র নেতৃত্বে নওগাঁ জেলা গোয়েন্দা পুলিশ রাজ্জাক হাজীর আফুরিয়া ফাষ্ট ফিলিংস নামের ওই ফ্যাক্টরিতে অভিযান চালিয়ে রাজা, নজরুলসহ ৩ জনকে গ্রেফতার করে। সেই সাথে ফ্যাক্টরী সিলগালা করে দেন। একই সাথে নওগাঁ জেলার বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমান এই কোম্পানীর মালামাল জব্দ করা হয়।