সেন্ট্রাল স্কুলের জায়গা বিক্রি করে হোটেলের সিড়ির তৈরির কাজ বন্ধ করলো জেলা প্রশাসন


পিপ : পাবনার আওয়ামীলীগ নেতা কর্তৃক স্কুলের জায়গা বিক্রি করে হোটেলের সিড়ির তৈরির কাজ বন্ধ করলো জেলা প্রশাসন। গতকাল সোমবার দুপুরে জেলা প্রশাসক কবীর মাহমুদের নির্দেশে জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা এসএম মোসলেম উদ্দিন স্কুলে উপস্থিত হয়ে নির্মাণ কাজ বন্ধ করে দেন। এ সময় স্কুলের দোকান, সম্পদ বিক্রি ও ভাড়া সংক্রান্ত যাবতীয় আর্থিক কাগজ পত্রাদি দ্রুততম সময়ে জেলা প্রশাসকের নিকট জমাদানের নির্দেশ দেয়া হয়। এ ছাড়া এ সব অনিয়ম দুর্নীতি তদন্তে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। স্কুল পরিচালনা পরিষদের সভাপতি ও আওয়ামী লীগ নেতা আবু ইসহাক শামীম সম্প্রতি, স্কুলভবনের প্রশস্ত সিঁড়ি ভেঙে জায়গা বিক্রির চুক্তি করেন। জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মোসলেম উদ্দিন জানান, ঐতিহ্যবাহী প্রায় শতবর্ষী পাবনা সেন্ট্রাল গার্লস হাইস্কুলের সভাপতি আবু ইসহাক শামীম স্বেচ্ছারিতা ও দুর্নীতির মাধ্যমে স্কুলের সম্পদ বিক্রি করছেন গণমাধ্যমের এমন সংবাদ প্রকাশিত হলে জেলা প্রশাসক মহোদয় আমাকে বিষয়টি তদন্তে নির্দেশ দেন। সরেজমিনে সোমবার দুপুরে সেন্টাল গালর্স হাইস্কুলে গিয়ে মূলফটকের পাশে নতুন সিঁড়ির নির্মাণ কাজ করতে দেখা যায়। এ সময়ে আমরা জেলা প্রশাসকের নির্দেশে তাৎক্ষণিকভাবে এ নির্মাণ কাজ বন্ধ করে দিয়েছি। স্কুল সভাপতি ঢাকায় থাকায় তাকে দ্রুততম সময়ে অনিয়ম ও দুর্নীতির বিষয়ে বক্তব্য জানাতে যথাযথ কাগজপত্রাদি সহ জেলা প্রশাসকের সাথে দেখা করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
স্কুলের প্রধান শিক্ষক তালেবুর রহমান জানান, দুপুরে শিক্ষা অফিসার মহোদয় উপস্থিত হয়ে নির্মাণ কাজ বন্ধের নির্দেশ দিলে আমরা শ্রমিকদের বিদায় করে দিয়েছি। সভাপতি মহোদয় ফিরলে জেলা প্রশাসক স্যারের নির্দেশানুযায়ী পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।
এ ব্যাপারে পাবনা জেলা প্রশাসক কবীর মাহমুদ জানান, ঐতিহ্যবাহী সেন্ট্রাল গালর্স স্কুলের পরিচালনা পরিষদের বিরুদ্ধে অনিয়মের বিভিন্ন অভিযোগ আমরা পেয়েছি। ইতিমধ্যে সিঁড়ি ভেঙে জায়গা বিক্রির প্রক্রিয়া বন্ধ করা হয়েছে। অনিয়ম দুর্নীতির সকল অভিযোগের তদন্ত করা হবে।
প্রসঙ্গত, পাবনা মধ্য শহরের স্বনামধন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সেন্ট্রাল গালর্স হাই স্কুলের বর্তমান বিদ্যালয় পরিচালনা পরিষদের সভাপতি ও জেলা আওয়ামীলীগ’র যুগ্ম সম্পাদক আবু ইছাহাক শামীম’র বিরুদ্ধে অনিয়ম দুর্নীতি ও স্বেচ্ছারিতায় স্কুল ভবনের দোকান বিক্রি ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠে। সম্প্রতি করোনায় বিদ্যালয়টি বন্ধ থাকার সুযোগে মূল ফটকের পাশে প্রশস্ত প্রধান সিঁড়িসহ সুবিশাল জায়গা বিক্রির জন্য খাবার বাড়ি নামের রেষ্টুরেন্টের সাথে চুক্তি করেন এ নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশ হলে বিষয়টি নিয়ে তৎপর হয় প্রশাসন।
এ ছাড়া তার বিরুদ্ধে স্বেচ্ছাচারিতা ও ক্ষমতার অপব্যবহার করে ব্যাপক অনিয়ম, দূর্নীতির মাধ্যমে কোটি টাকা লোপাটের অভিযোগ উঠেছে। অনৈতিক উদ্দেশ্যে সভাপতির এ ধরণের একের পর এক স্বেচ্ছাচারী সিদ্ধান্তে শিক্ষক ও পরিচালনা পরিষদের অন্যান্য সদস্যরা বিব্রত হলেও তার ভয়ে কেউ তাকে কিছু বলতে পারেনা। সব সময় সবার প্রতি ঐদ্ধৃতপুর্ন আচরণ বেসামাল অবস্থায় যাকে তাকে যখন তখন আচরণ করলেও তাকে কেউ বাধা দিতে পারেন না বলেও অভিযোগ তাদের। ইতিপুর্র্বে তিনি একক সিদ্ধান্তে অর্থের লোভে বিদ্যালয়ের ১০০টি দোকান ও কোটি কোটি টাকা মুল্যের সম্পদ ও বিক্রি করেছেন। এতে কমে গেছে স্কুলের জমি ও খেলার মাঠ। ব্যক্তিগত লাভের উদ্দেশ্যে স্কুলের সম্পদ বিক্রি করায় ফুসে উঠছেন ওই বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও এলাকাবাসী।
বিষয়টি নিয়ে বিদ্যালয় পরিচালনা পরিষদের সভাপতি আবু ইছাহাক শামীমের নিকট জানতে চাইলে তিনি জানান, স্কুলের জায়গা নতুন করে বিক্র করা হচ্ছে না। আধুনিকায়ন করতে সবার সম্মতিতেই ডেভলপারকে দেওয়া হয়েছিল। বিদ্যালয়ের প্রয়োজনেই পুরাতন সিড়িটি ভাঙ্গা হচ্ছে। এখানে কোন বানিজ্যিক উদ্দেশ্য নেই।


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *