হারারেতে হেরে গেল বাংলাদেশ

ডেইলি ভিশন টুয়েন্টিফোর অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ১১:০৩ অপরাহ্ণ, জুলাই ২৩, ২০২১

ক্রীড়া ডেস্ক:
কিছুটা আলগা বোলিং, কিছুটা গা-ছাড়া ফিল্ডিং আর অতি বেশি আগ্রাসী ব্যাটিং প্রবণতা, সব কিছুর যোগফল পরাজয়। ম্যাচটি ছিল সিরিজ জয় নিশ্চিত করার। কিন্তু সফরে বাংলাদেশের সবচেয়ে বিবর্ণ সময় এলো এ দিনই। জিম্বাবুয়ে ব্যাটে-বলে উজ্জীবিত পারফরম্যান্সে সিরিজে সমতা ফেরাল ।

দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টিতে বাংলাদেশকে ২৩ রানে হারাল জিম্বাবুয়ে। তিন ম্যাচের সিরিজে এখন ১-১ সমতা।

হারারে স্পোর্টস ক্লাবে শুক্রবার জিম্বাবুয়ে ২০ ওভারে তোলে ৬ উইকেটে ১৬৬ রান। ক্যারিয়ার সেরা ইনিংসে ওয়েসলি মাধেভেরে করেন ৭৩ রান। শেষ দিকে ঝড়ো ইনিংস খেলেন রায়ান বার্ল।

এই উইকেটে ওয়ানডে সিরিজের শেষ ম্যাচে ২৯৯ রান তাড়ায় অনায়াসে জিতেছিল বাংলাদেশ। কিন্তু টি-টোয়েন্টিতে তারা পারেনি সেই ধারা ধরে রাখতে। ব্যাটিং সহায়ক পিচে একের পর এক ব্যাটসম্যান উইকেট বিলিয়ে আসায় দল অলআউট ১৪৩ রানে।

বোলিং-ফিল্ডিংয়ে জিম্বাবুয়ের নায়ক ওয়েলিংটন মাসাকাদজা। তিনটি উইকেট নেওয়ার পাশাপাশি এই বাঁহাতি স্পিনার ক্যাচও নেন তিনটি।

দারুণ ইনিংস খেলে ম্যাচের সেরা যদিও মাধেভেরে। দারুণ কিছুর ইঙ্গিত দেন তিনি ম্যাচের শুরুতেই। টস জিতে ব্যাটিংয়ে নামে জিম্বাবুয়ে। দ্বিতীয় ওভারে বোলিংয়ে আসা মেহেদি হাসানকে স্বাগত জানান মাধেভেরে টানা দুই বলে ছক্কা ও চারে।

মেহেদি অবশ্য ওই ওভারেই দেখা পান উইকেটের। জোরের ওপর করা অ্যাঙ্গেলে ভেতরে ঢোকা ডেলিভারিতে বোল্ড হন টাডিওয়ানাশে মারুমানি।

ফর্মে থাকা রেজিস চাকাভাকে পরের ওভারেই ফেরাতে পারত বাংলাদেশ। তাসকিনের বলে তার পুল শটে ভুল বোঝাবুঝিতে ক্যাচ নিতে পারেননি শরিফুল ও মেহেদি। শূন্য রানে বেঁচে গিয়ে চাকাভা দারুণ এক ছক্কা মারেন শরিফুলের বলেই।

চাকাভা অবশ্য জীবন কাজে লাগাতে পারেননি। সাকিবের বলে এলোমেলো শটে হারান উইকেট (৯ বলে ১৪)।

৮ ওভারের মধ্যে মাহমুদউল্লাহ ব্যবহার করেন ৭ বোলার। মাধেভেরের দারুণ ব্যাটিংয়েও জিম্বাবুয়ের রানের গতি তখনও খুব বেশি নয়।

তৃতীয় উইকেটে দারুণ জুটি গড়েন মাধেভেরে ও ডিওন মায়ার্স। প্রতিপক্ষের জুটি এগিয়ে নেওয়ায় সহায়তা করে অবশ্য বাংলাদেশই। একাদশ ওভারে দুই দফায় রান আউট করার সুযোগ হাতছাড়া হয়। পরের ওভারে সাকিবের বলে শর্ট কাভারে ক্যাচ ছাড়েন মাহমুদউল্লাহ, মাধেভেরে রক্ষা পান ৪৪ রানে।

শরিফুলকে বাউন্ডারিতে মাধেভেরে তার তৃতীয় ফিফটি স্পর্শ করেন ৪৫ বলে। ওই ওভারেই মায়ার্স আউট হন উড়িয়ে মারতে গিয়ে। থামে ৫৭ রানের জুটি।

ফিফটির পর ব্যাটিং প্রতিভার আরও ঝলক দেখান মাধেভেরে। ছক্কায় ওড়ান তাসকিন ও সাকিবকে। রান বাড়ানোর তাড়ায় তার ইনিংস শেষ হয় ৭৩ রানে। ৫৭ বলের ইনিংসে চার পাঁচটি, ছক্কা ৩টি।

শেষ দিকে রায়ান বার্ল দেখান পেশির জোর। চোখধাঁধানো ব্যাট সুইংয়ে ছক্কায় ওড়ান সাইফ উদ্দিন ও শরিফুলকে। দুটি করে চার ও ছক্কায় এই বাঁহাতি অপরাজিত থাকেন ১৯ বলে ৩৪ রান করে।

অ্যাঙ্কেলের চোটের কারণে এই ম্যাচে না থাকা মুস্তাফিজুর রহমানের অভাব শেষ দিকে অনুভব করে দল। শেষ ৬ ওভারে জিম্বাবুয়ে তোলে ৬৫ রান।

রান তাড়ায় বাংলাদেশের দুর্দশার শুরু শুরুর দিকেই। আগের দিন শতরানের রেকর্ড জুটি গড়া দুই ওপেনার এবার আউট তৃতীয় ওভারেই।

ব্লেসিং মুজারাবানির বেরিয়ে যাওয়া ডেলিভারি জায়গায় দাঁড়িয়ে আলসে শটে স্টাম্পে টেনে আনেন মোহাম্মদ নাঈম শেখ। অফ স্টাম্পের বেশ বাইরের বল সজোরে খেললেও ফিল্ডার সোজা খেলে ধরা পড়েন সৌম্য সরকার।

তৃতীয় উইকেটে ২৮ রানের ছোট্ট জুটির পর বাঁহাতি স্পিনার ওয়েলিংটন মাসাকাদজা দ্রুত তুলে নেন তিন উইকেট। তবে সবকটিই বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানদের উপহার।

বেরিয়ে এসে খেলতে গিয়ে বৃত্তের ভেতরই ক্যাচ দেন সাকিব। উইকেটে যাওয়ার পরপরই অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ লং অন সীমানায় ধরা পড়েন ছক্কার চেষ্টায়। এসব দেখেও সতর্ক না হয়ে মেহেদি হাসান ওই ওভারেই বেরিয়ে এসে ছক্কার চেষ্টায় ধরা পড়েন লং অনেই। হেলায় হারান তিনে ব্যাটিংয়ের সুযোগ।

একই পথের পথিক নুরুল হাসান সোহানও। লুক জঙ্গুয়ের বলে কবজির মোচড়ে দারুণ বাউন্ডারির পরের বলেই আউট হন ডাউন দা উইকেটে উড়িয়ে মেরে।

দ্বাদশ ওভারে বাংলাদেশের রান তখন ৬ উইকেটে ৬৮।

মিইয়ে আসা আশা কিছুটা জাগিয়ে তোলেন শামীম হোসেন। আটে নেমে অভিষিক্ত বাঁহাতি তরুণ কিছুটা দেখান তার হাতের জোর। সিকান্দার রাজাকে সুইপে ছক্কার পর মাধেভেরের টানা তিন বলে মারেন এক ছক্কা ও দুই বাউন্ডারি।

তবে অতি রোমাঞ্চপ্রিয়তার বলি তিনিও। অনেক বাইরের বল টেনে উড়িয়ে মেরে তিনিও ধরা পড়েন লং অনে। তবে ১৩ বলে ২৯ রানের অভিষেক ইনিংসে নিজের বিজ্ঞাপন ঠিকই মেলে ধরেন।

ব্যাটিং গভীরতার কারণে ক্রিজে ব্যাটসম্যান ছিল এরপরও। তবে তারা করতে পারেননি তেমন কিছু। আফিফ ২৪ রান করতে খেলেন ২৫ বল। সাইফ উদ্দিন ১৯ করেন ১৫ বলে। এক বল বাকি থাকতে গুটিয়ে যায় বাংলাদেশ।

রোববার শেষ টি-টোয়েন্টিতে হবে সিরিজের ফয়সালা।

সংক্ষিপ্ত স্কোর:

জিম্বাবুয়ে: ২০ ওভারে ১৬৬/৬ (মারুমানি ৩, মাধেভেরে ৭৩, চাকাভা ১৪, মায়ার্স ২৬, রাজা ৪, বার্ল ৩৪*, জঙ্গুয়ে ২; তাসকিন ৪-০-২৮-০, মেহেদি ১-০-১১-১, শরিফুল ৪-০-৩৩-৩, সাইফ ৪-০-৩৬-০, সাকিব ৪-০-৩২-১, সৌম্য ২-০-১৬-০, শামীম ১-০-৭-০)।

বাংলাদেশ: ১৯.৫ ওভারে ১৪৩ (নাঈম ৫, সৌম্য ৮, মেহেদি ১৬, সাকিব ১২, মাহমুদউল্লাহ ৪, আফিফ ২৪, সোহান ৯, শামীম ২৯, সাইফ ১৯, তাসকিন ৫, শরিফুল ০*; রাজা ৩-০-২২-০, চাতারা ৪-০-২৪-২, মুজারাবানি ৪-০-২১-২, মাসাকাদজা ৪-০-২০-৩, জঙ্গুয়ে ৩.৫-০-৩১-৩, মাধেভেরে ১-০-১৬-০,)।

ফল: জিম্বাবুয়ে ২৩ রানে জয়ী।

সিরিজ: ৩ ম্যাচ সিরিজে ১-১ সমতা।

ম্যান অব দা ম্যাচ: ওয়েসলি মাধেভেরে।