রাশিয়া-ইউক্রেনের নাগরিকরা রূপপুর পারমাণবিকে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করছে

ডেইলি ভিশন টুয়েন্টিফোর অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ১১:৩৬ অপরাহ্ণ, মার্চ ৩, ২০২২

রাশিয়া-ইউক্রেনের মধ্যে ভয়ানক যুদ্ধ চললেও এর প্রভাব পড়েনি ঈশ্বরীর রূপপুরে কর্মরত উভয় দেশের নাগরিকদের মধ্যে। রাশিয়ান ও ইউক্রনীয়রা রূপপুর পারমাণবিকে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করছে।

সম্প্রতি রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে যুদ্ধকে কেন্দ্র করে ইউরোপসহ বিশ্বজুড়ে এখন উত্তেজনা চরমে। কিন্তু ঈশ্বরদীর রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে ভিন্ন অবস্থা বিরাজমান । এখানে রুশ ও ইউক্রেনীয় শুধু কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করেই যাচ্ছেন না একসাথে চলাফেরা, রেঁস্তোরা-হোটেলে আড্ডা দিতেও দেখা গেছে। । রূপপুরে এখন ১৬টি দেশের নাগরিক এখানে কাজ করছেন। এর বেশির ভাগ রাশিয়ান হলেও প্রায় তিন শতাধিক ইউক্রেনের নাগরিক রয়েছে।

রূপপুর প্রকল্পে কর্মরত এবং গ্রীণসিটির পাশ্ববর্তী রেঁস্তোরা-হোটেলে কথা বলে এখবর জানা গেছে। জানা যায়, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণে প্রতিদিন প্রায় ২৭-২৮ হাজার কর্মী কাজ করছেন। এদের মধ্যে প্রায় সাড়ে ছয় হাজার বিদেশি নাগরিক রয়েছেন ।

রাশিয়ার ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের চাকরি নিয়েই ইউক্রেনের নাগরিকেরা এখানে কাজ করতে এসেছেন বলে প্রকল্পের সাইট ইনচার্জ রুহুল কুদ্দুস জানিয়েছেন । করমরতরা সকলে বন্ধুত্বপূরণ পরিবেশে মিলেমিশে কাজ করছেন। কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এখন পর্যন্ত ঘটেনি।

গ্রীনসিটির ৩নং গেটের সামনের ‘ফুড ওয়েভ’ রেঁস্তোরার ম্যানেজার মাহফুজুর রহমান শিপন জানান, রাশিয়া ও ইউক্রেনের নাগরিকরা একসাথে খেতে আসছেন এবং আড্ডা দিচ্ছেন।

রূপপুর প্রকল্পের বিভাগীয় প্রধান (প্রশাসন ও অর্থ) অলোক চক্রবর্তী জানান, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের প্রভাব রূপপুর প্রকল্পের কাজে পড়েনি। এখানে দুই দেশের নাগরিকেরা পারস্পরিক সৌহার্দ্যের সঙ্গে কাজ করছেন।

প্রসংগতঃ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের অধীন রূপপুর প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে পরমাণু শক্তি কমিশন। রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পরমাণু শক্তি করপোরেশন রসাটমের নেতৃত্বে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান হিসেবে বিদ্যুৎকেন্দ্রটি নির্মাণ করছে এটমস্ট্রয়এক্সপোর্ট।

এদিকে রসাটম এক প্রেসবিজ্ঞপ্তিতে ‘রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণে দেওয়া প্রতিশ্রুতি এবং কাজের শিডিউলে কোনো বিঘ্ন ঘটার আশঙ্কা দেখা যাচ্ছে না।’ বলে জানিয়েছে।
দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় প্রকল্প রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ হচ্ছে পাবনার ঈশ্বরদীতে। ১ হাজার ২০০ মেগাওয়াটের দুটি ইউনিট নির্মাণ করা হচ্ছে রূপপুরে। খরচ হচ্ছে প্রায় ১ লাখ ১৪ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে সরকার দেবে ২২ হাজার ৫২ কোটি ৯১ লাখ ২৭ হাজার টাকা। আর রাশিয়া থেকে ঋণসহায়তা হিসেবে আসছে ৯১ হাজার ৪০ কোটি টাকা। ২০২৩ সালের এপ্রিলে জাতীয় গ্রিডে পরীক্ষামূলকভাবে বিদ্যুৎ সরবরাহ করতে চায় রূপপুর কর্তৃপক্ষ। আর ২০২৪ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি থেকে বাণিজ্যিকভাবে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু হবে আশা করা হচ্ছে বলে প্রকল্প পরিচালক ড. শৌকত আকবর জানিয়েছেন।