তীব্র ক্ষরায় ঈশ্বরদীতে ঝরে পড়ছে লিচুর গুটি

ডেইলি ভিশন টুয়েন্টিফোর অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ৯:৩৩ পূর্বাহ্ণ, এপ্রিল ২৬, ২০২১

লিচুর রাজধানী বলে ঈশ্বরদীতে তীব্র ক্ষরায় লিচুর গুটি ঝরে পড়ায় বাগান মালিকরা হতাশাগ্রস্থ হয়ে পড়েছেন। গত কয়েকদিন ধরে ঈশ্বরদীর তাপমাত্রা ৩৮-৪০ ডিগ্রী সেলসিয়াসের মধ্যে উঠানামা করছে। বৃষ্টির দেখা নেই। ক্ষরার তীব্রতা ও বৈরী আবহাওয়ায় লিচুর গুটি আশঙ্কজনক হারে ঝরছে। এই অবস্থায় দিশেহারা হয়ে পড়েছেন লিচুচাষিরা।

সারা দেশের চাহিদা মেটাতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছে ঈশ্বরদীর সুস্বাদু বোম্বাই লিচু। তাই লিচু আবাদে আবাহাওয়ার বৈপিরত্য প্রতিরোধে সরকারের উদ্যোগ গ্রহন অত্যন্ত জরুরি। এই অবস্থায় চাষিরা অবিলম্বে ঈশ্বরদীতে লিচু গবেষণাগার স্থাপনের দাবি জানিয়েছেন।

ঈশ্বরদীর সব এলাকায় লিচুর আবাদ থাকলেও সাহাপুর, আওতাপাড়া, বাঁশেরবাধা, জয়নগর, মানিকনগর ও মিরকামারী শেখের দাইড় এলাকায় লিচুর চাষ উল্লেখযোগ্য। সোমবার বাগানে গিয়ে দেখা যায়, গাছ থেকে ঝরে পড়ছে বিখ্যাত বোম্বাই লিচুর গুটি ও কুঁড়ি। আর কয়েকদিন বাদেই ঈশ্বরদীর লিচু বাগানে লাল বর্ণ ধারণের কথা। কিন্তু এবারে হতাশাজনক আবহাওয়ার বৈপিরিত্যে লিচুচাষিদের রঙিন স্বপ্ন অঙ্কুরেই বিনষ্ট হয়ে যাচ্ছে।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে এবারে ঈশ্বরদীতে মুকুল না আসায় বিশেষ করে বোম্বাই জাতের লিচুর ফলন ৭০ ভগ কম হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সাধারণত: জানুয়ারী মাসের শেষে এবং ফেব্রুয়ারী মাসের প্রথমে বোম্বাই লিচুর গাছে মুকুল আসে। কিন্তু এবারে মধ্য জানুয়ারী থেকে হঠাৎ করে শীতের প্রকোপ কমে যাওয়ায় মুকুল কম অঙ্কুরিত এবং বেশী পরিমাণ পাতা গজিয়েছে। এমনিতেই লিচুর ফলন কম হওয়ার আশংকায় লিচু চাষের সাথে জড়িত কৃষকরা চরম হতাশাগ্রস্থ অবস্থার মধ্যে দিন কাটাচ্ছিল। এখন আবার তীব্র ক্ষরায় লিচুর গুটি ঝরে পড়ায় কৃষকদের সর্বশান্ত হয়ে পড়ার আশংকা দেখা দিয়েছে।

জাতীয় পদকপ্রাপ্ত লিচু চাষী আব্দুল জলিল কিতাব মন্ডল জানান, তাপমাত্রা বেশি থাকার কারণে মুকুল অঙ্কুরিত হওয়ার পর গুটি ঝরে পড়ছে। এতে চরম হতাশ হচ্ছেন চাষিরা। কারণ লিচু মৌসুমি আবাদ, গাছে লিচু না এলে বা প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে ঝরে গেলে চাষিদের সারা বছর সংসার চালানো কঠিন। এই পরিস্থিতিতে ঈশ্বরদীতে লিচু গবেষণাগার স্থাপন অত্যন্ত জরুরী বলে জানান তিনি।
কৃষক উন্নয়ন সোসাইটির সভাপতি ময়েজ উদ্দিন জানান, ঈশ্বরদীতে যে হারে লিচুর আবাদ বাড়ছে তাতে এখানকার লিচু দেশের চাহিদা মিটে বিদেশ রফতানি করা সম্ভব। এমন গবেষণা দরকার যাতে প্রতি বছর প্রতি গাছে লিচু ধরে। এটা অসম্ভব কিছু না। কারণ আমাদের পার্শ্ববর্তী ভারতের গবেষকরা সফল হয়েছেন। ঈশ্বরদীতে লিচু গবেষণাগার এ জন্য দরকার। আমরা দীর্ঘদিন ধরে সকারের কাছে ঈশ্বরদীতে লিচু গবেষণাগার স্থাপনের জন্য দাবি করে আসছি । কিন্তু আমাদের এ দাবি বাস্তবায়ন হচ্ছে না।

কৃষি বিভাগ ও ঈশ্বরদীর লিচুচাষি সূত্র জানা যায়, প্রতি বছর চার থেকে পাঁচ’শ কোটি টাকার লিচুর উৎপাদন হয় শুধু ঈশ্বরদীতে। ঈশ্বরদী উপজেলা কৃষি অফিসার আব্দুল লতিফ এবারে লিচুর বৈরী সময় জানিয়ে বলেন, এ বছর ঈশ্বরদীতে প্রায় তিন হাজার হেক্টর জমিতে লিচু আবাদ হয়েছে। কিন্তু বৈরী আবহাওয়ায় লিচুর মুকুল আসেনি বেশির ভাগ গাছেই। এখন আবার তীব্র তাপদাহে লিচুর গুটি ঝরে পড়ার কারণে এবার শঙ্কায় পড়েছেন চাষিরা।