মিশরে এনপিপি নির্মাণে কোরীয় প্রতিষ্ঠানকে যুক্ত করলো রসাটম

ডেইলি ভিশন টুয়েন্টিফোর অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ৩:৪৯ অপরাহ্ণ, আগস্ট ২৮, ২০২২

রুশ সহায়তায় নির্মীয়মান মিশরের এল-দাবা পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে টার্বাইন আইল্যান্ড নির্মাণের দায়িত্ব পালন করবে কোরিয়া হাইড্রো এন্ড নিউকিয়ার পাওয়ার কোম্পানি লিঃ (কেএইচএনপি)। চুক্তি অনুযায়ী মিশরে প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের ৪টি ইউনিটের টার্বাইন আইল্যান্ডে প্রায় ৮০টি অট্টালিকা ও কাঠামো নির্মাণ এবং এর জন্য প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি ও সামগ্রী সরবরাহ করবে কোরিয়ার এই প্রতিষ্ঠান। উল্লেখ্য, এল-দাবা এনপিপির জেনারেল কন্ট্রাকটরের দায়িত্ব পালন করছে রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পরমাণু শক্তি কর্পোরেশন রসাটমের প্রকৌশল শাখা- এটমস্ত্রয়এক্সপোর্ট। রসাটমের গণমাধ্যম প্রেরীত এক প্রেসবিজ্ঞপ্তিতে এতথ্য জানা গেছে।

কেএইচএনপির প্রধান নির্বাহী জোহো ওয়াং বলেন, “এটমস্ত্রয়এক্সপোর্টের সঙ্গে আমাদের এই চুক্তিটি কোরিয়ার জন্য একটি বড় অর্জন। এটি প্রকল্প নির্মাণের কাজে আমাদের প্রতিষ্ঠানের সক্ষমতার পরিচায়ক, যা অবশ্য আমরা ইতোপূর্বে সংযুক্ত আরব আমিরাতে প্রদর্শন করতে সক্ষম হয়েছি। সংযুক্ত আরব আমিরাতে অর্জিত অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে এল-দাবা এনপিপি’র সফল বাস্তবায়নে আমরা সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চালাবো”।

রসাটমের ইন্টারন্যাশনাল বিজনেস বিষয়ক পরিচালক বরিস আরসিএফ তার মন্তব্যে জানান, “শুধুমাত্র ক্রমবর্ধমান বিদ্যুৎ চাহিদা পূরণ এবং কার্বন নিরপেক্ষতা অর্জনেই পারমাণবিক শক্তির ভূমিকা তাৎপর্যপূর্ণ নয় বরং বিভিন্ন দেশকে কাছাকাছি আনতে এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। আমরা রসাটমে দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি যে বর্তমান এই জটিল বাস্তবতায় পরমাণু শক্তি ক্ষেত্রে সহযোগিতা কোন ভাবেই বন্ধ হওয়া উচিৎ না। বরং পারষ্পরিক স্বার্থেই এই ক্ষেত্রে সহযোগিতা আরো বৃদ্ধি পাওয়া উচিৎ”।

এটমস্ট্রএক্সপোর্টের সিনিয়র ভাইস-প্রেসিডেন্ট- এনপিপি নির্মাণ প্রকল্প ব্যবস্থাপনা আলেক্সান্ডার কর্চাগিন এল-দাবা প্রকল্পটিকে আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের কাছে অত্যন্ত আকর্ষণীয় হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, “এই প্রকল্পে এখন অভিজ্ঞতাসম্পন্ন মিশরের বড় বড় কোম্পানীর সাথে কেএইচএনপিও যুক্ত হলো”।
তিনি আরো বলেন, “রুশ মিশরীয় ও কোরীয় টিমের যৌথ এবং সুসমন্বিত কাজের মাধ্যমে এই উচ্চাকাঙ্ক্ষী প্রকল্পটি আমরা সফলভাবে বাস্তবায়ন করতে পারবো বলে বিশ্বাস করি”।

মিশরের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র হচ্ছে এল-দাবা এনপিপি। রুশ সহযোগিতায় প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হচ্ছে। প্রকল্পে ৪টি ইউনিট থাকবে, প্রতিটির উৎপাদন ক্ষমতা ১,২০০ মেগা-ওয়াট। এল-দাবা প্রকল্পে বসানো হবে ৩+ প্রজন্মের রুশ ভিভিইআর-১২০০ রিয়্যাক্টর। রাশিয়া শুধুমাত্র এই প্রকল্পটি নির্মাণের দায়ত্বই পালন করছে না, একই সঙ্গে এটির পূরো আয়ুষ্কালে পারমাণবিক জ্বালানীও সরবরাহ করবে। এছাড়াও মিশরের জন্য প্রয়োজনীয় দক্ষ জনশক্তি তৈরি এবং প্রকল্প চালু হওয়ার পর প্রথম ১০বছর পর সার্ভিসিংও প্রদান করবে রসাটম। অন্য একটি চুক্তির আওতায় রাশিয়া স্পেন্ট নিউকিয়ার ফুয়েল সংরক্ষনের জন্য মিশরে বিশেষ সংরক্ষনাগার নির্মাণ এবং সংরক্ষনের জন্য প্রয়োজনীয় কাস্কও সরবরাহ করবে।