রাশিয়ার সোচিতে ১২তম আন্তর্জাতিক অ্যাটমেক্সপো অনুষ্ঠিত


রাশিয়ার সেচিতে দুই দিন ব্যাপী ১২তম অ্যাটমেক্সপো-২০২২ আন্তর্জাতিক ফোরাম, বৈশ্বিক পারমাণবিক শিল্পের একটি গুরুত্বপূর্ণ ইভেন্ট সোমবার (২১ নভেম্বর) থেকে শুরু হয়েছে। ২,৫০০এরও বেশি অংশগ্রহণকারী এবং বাংলাদেশসহ ৬৫টি দেশের শীর্ষস্থানীয় বিশেষজ্ঞরা অ্যাটমেক্সপো অংশ নিয়েছেন। রসাটমের গণমাধ্যম দুই দিন ব্যাপী অনুষ্ঠিত অ্যাটমেক্সপোর বিষয়টি জানিয়েছে।

রাশিয়ার স্টেট কর্পোরেশন রসাটমের মহাপরিচালক আলেক্সি লিখাচেভ রাশিয়ার সোচিতে সাইরাস পার্ক অফ সায়েন্স অ্যান্ড আর্টে দুই দিনব্যাপী অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন।

রাষ্ট্রপতি ভ্লালাদিমির পুতিন ১২ তম আন্তর্জাতিক ফোরাম অ্যাটমেক্সপো-২০২২এ অংশগ্রহণকারীদের, সংগঠক এবং অতিথিদের শুভেচ্ছা জানান।

রসাটমের সহায়তায় আয়োাজিত অ্যাটমেক্সপো আন্তর্জাতিক ফোরাম ২০০৯ সাল থেকে প্রতি বছর অনুষ্ঠিত হচ্ছে। কোভিড-১৯ মহামারীর কারণে ২০২০ ও ২০২১ সালে এটি অনুষ্ঠিত হয়নি। পূর্ববর্তী অ্যাটমেক্সপো-২০১৯ এ ৭৪ টি দেশের ৪,০০০ এরও বেশি অংশগ্রহণ করেছিল এবং ৪০টিরও বেশি সহযোগিতা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছিল।

আলেক্সি লিখাচেভ বলেন, আমি নিশ্চিত যে আমাদের ফোরাম পৃথিবীতে পারমাণবিক শক্তির বিকাশের দিকে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হবে, মানবজাতির দ্বারা শান্তিপূর্ণ পরমাণুর সম্ভাবনার আরও বিকাশে। সকলের সাফল্য কামনা করতে চাই, আমাদের সকলের নতুন বিজয় অর্জনে। অবশ্যই শারীরিক এবং নৈতিক স্বাস্থ্য কামনা করতে চাই। প্রত্যেকের সাফল্যের সাথে সাথে তিনি ফোরামের জন্য শুভকামনা করেন ।

আইএইএ এর ডেপুটি ডিরেক্টর জেনারেল মিখাইল চুদাকভ বলেন, পারমাণবিক একটি পরিষ্কার শক্তি, যা জলবায়ু পরিবর্তন প্রশমিত করতে সাহায্য করবে। আমাদের ল্য হচ্ছে জাতিসংঘের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা নিশ্চিত করতে ২০৫০ সালের মধ্যে ‘নিট শূন্য’ অর্জন করা। ২০৫০ সালের মধ্যে আমরা পারমাণবিক শক্তি থেকে প্রায় ৮,৭০০ গিগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে চাই। বিদ্যুৎ উৎপাদনের পাশাপাশি পারমাণবিক জ্বালানি মিশ্রণের ওপরও আমরা জোর দিচ্ছি।

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রী স্থপতি ইয়াফেস ওসমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশনের কর্মকর্তা, পরমাণু বিশেষজ্ঞ ও সাংবাদিকসহ বাংলাদেশের একটি প্রতিনিধি দল যোগ দিয়েছেন।

পূর্ণাঙ্গ অধিবেশনে মন্ত্রী ইয়াফেস ওসমান বলেন, আমাদের সরকার তার দীর্ঘমেয়াদী রূপকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে ২০২১ সালের মধ্যে দারিদ্র্য দূরীকরণ এবং মুক্ত জ্ঞানভিত্তিক মধ্যম আয়ের দেশ এবং ২০৪১ সালের মধ্যে দেশকে উন্নত এবং জনগণের জীবনযাত্রার মান বৃদ্ধির লক্ষ্যে কাজ করছে। বাংলাদেশে জীবাশ্ম জ্বালানি আমদানি করা হচ্ছে, যা ব্যয়বহুল এবং তা হ্রাস পাচ্ছে। আমরা নির্ভরযোগ্য, সাশয়ী এবং পরিবেশবান্ধব বিকল্প জ্বালানির জন্য কাজ করছি। তিনি বলেন, আমরা বিশ্বাস করি যে পারমাণবিক শক্তি নিরাপদ, নির্ভরযোগ্য এবং পরিবেশ বান্ধব। এটি গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমনেও অবদান রাখে না, যা জলবায়ু পরিবর্তন প্রশমনে সহায়তা করে। যদিও এটির প্রাথমিক খরচ অনেক বেশি। তবে এটি দীর্ঘমেয়াদে সাশ্রয়ী । আমাদের জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের কথা ভেবেছিলেন।

মন্ত্রী বলেন, এসব বিষয় বিবেচনা করে আমরা বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য শক্তির একটি নির্ভরযোগ্য উৎস হিসেবে পারমাণবিককে বেছে নিয়েছি এবং রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের (আরএনপিপি) নির্মাণ চলছে। এটি বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় অবকাঠামো প্রকল্প। দেশের সামাজিক, অর্থনৈতিক, বৈজ্ঞানিক ও প্রযুক্তিগত সম্ভাবনার উন্নয়নে বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের কাজ চলছে। আরএনপিপি জ্ঞানভিত্তিক মধ্যম আয়ের বাংলাদেশ দারিদ্র্য ও ক্ষুধামুক্ত আমাদের জাতীয় ল্য অর্জনে অবদান রাখবে। আরএনপিপির স্মার্ট অপারেশনের জন্য দক্ষ জনবল অপরিহার্য। আমরা এ বিষয়ে জোর দিচ্ছি। বিদ্যুৎ উৎপাদনের পাশাপাশি কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টিতে, শিল্পায়ন, আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন এবং জনগণের কাছে নতুন প্রযুক্তির প্রচারে আরএনপিপি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন আফ্রিকান ফর নিউক্লিয়ারের প্রতিষ্ঠাতা মথম্বেনি প্রিন্সেস। ইন্টারন্যাশনাল ইনফুয়েন্সার, আফ্রিকান ইয়াং জেনারেশন ইন নিউক্লিয়ার, ইমপ্যাক্ট টিম ২০৫০ এর সদস্য অ্যাটমেক্সপোতে অংশগ্রহন করেছেন।

পারমাণবিক এজেন্ডা এবং জাতিসংঘের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে পারমাণবিক প্রযুক্তির অবদান বিশ্বব্যাপী। অংশগ্রহণকারীরা সবুজ এবং নীল অর্থনীতির কৌশল, পারমাণবিক শক্তিতে এআই-এর ভূমিকা, বর্তমান চ্যালেঞ্জগুলোর মধ্যে শিল্প ডিজিটালাইজেশন এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোর পরিসর নিয়েও আলোচনা করেন।


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *